• ই-পেপার

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করার কারণে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) একটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন সুলতানার বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনার শুরুতে শিরীন সুলতানা বলেন, দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। আবার অধিকাংশ রোগী নির্ধারিত পূর্ণ কোর্স শেষ না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এতে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারায় এবং সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে এবং সময়ে সময়েই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম নিয়মিত ওষুধের দোকানে অভিযান পরিচালনা করছে। নকল ওষুধ পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আবার কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে দেশে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ডিসপেনসারি বা ফার্মেসি যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করে, সে বিষয়েও আইন রয়েছে। বিষয়টি চলমান তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নকল ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন ঢাকার এডিসি ফারজানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন ঢাকার এডিসি ফারজানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এ দেশসেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নির্বাচিত হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক ইউএনও এবং বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান।

প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এই সম্মাননা পদক তুলে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি এ গৌরব অর্জন করেন।

জানা গেছে, সোনারগাঁয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফারজানা রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসেন। তার নেতৃত্বে উপজেলার ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও উপস্থিতি বাড়াতে চালু করা হয় ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি। এ ছাড়া বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে ১৫টি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অনুশীলনের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপও বিতরণ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি উপজেলায় চালু করেন আন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ‘বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড’ চালু করা হয়, যার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ভূমিসেবা ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে তিনি বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেন। কুইজ, সেমিনার এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক শিক্ষায় উৎসাহিত করা হয়।

শিক্ষার্থীদের আর্থিক বৈষম্য দূর করতে শতভাগ স্কুল ইউনিফর্ম নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন ফারজানা রহমান। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডাস্টবিন সরবরাহ, ফুলের বাগান তৈরি, ফলজ গাছ রোপণসহ মনোরম শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়।

পাশাপাশি অভিভাবকদের বসার সুবিধার্থে বিদ্যালয়ে ‘অভিভাবক ছায়াতল’ নির্মাণ, নিয়মিত ক্লাস্টারভিত্তিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান, মাঠ ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে ক্রীড়াসামগ্রী ও ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য জার্সিও বিতরণ করা হয় তার উদ্যোগে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারসহ দেশজুড়ে পর্যটন উন্নয়নে মেগা পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারসহ দেশজুড়ে পর্যটন উন্নয়নে মেগা পরিকল্পনা

কক্সবাজারসহ দেশজুড়ে পর্যটন উন্নয়নে সরকারের মেগা পরিকল্পনার কথা সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে পর্যটন শিল্পকে বেছে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে তৈরি হতে যাওয়া এই মহাপরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই আগামীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদকরণের কাজও সমানতালে এগিয়ে চলছে। দেশের পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, এর ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিতকরণের কাজ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কক্সবাজারকে বিশ্বমানের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন ১৩২.৪৪ একর জমিতে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ তথা পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হবে। শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য কক্সবাজারের মোটেল লাবনী কমপাউন্ডে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

এর পাশাপাশি কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনা জেলায় পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্মাণের প্রক্রিয়াটি অনেকটাই এগিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ কর্তৃক এই প্রকল্পগুলোর ডিমান্ড এসেসমেন্ট এবং মার্কেট স্টাডি মূল্যায়ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারপ্রধান জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ও তথ্য প্রাপ্তি সহজ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আধুনিক ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য ও প্রচারের সুবিধার্থে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির এলইডি বোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনবহুল স্পটগুলোতে বিশেষ ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হয়েছে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সিসি ক্যামেরা সংযোজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যটন আকর্ষণ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাকরণ এবং বিশ্বদরবারে দেশের রূপ তুলে ধরতে ভার্চুয়াল ট্যুর প্রস্তুত ও প্রচারের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, পর্যটন খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করার জন্য সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি পিপিপির আওতায় বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের টেকসই বিকাশের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ এবং পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা, বিনোদন পার্ক কর্মী, আবাসন কর্মী ও পরিবহন কর্মীদের জন্য নিয়মিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ কোর্স, ফ্রন্ট অফিস, হাউসকিপিং এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিসের মতো পেশাদার কোর্স নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ট্যুর গাইডকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশায় রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম সাইটসমূহের জন্য দক্ষ গাইড তৈরির বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ১০১ জনকে সফলভাবে পেশাদার প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পর্যটন খাতকে আধুনিক, সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-নির্ভর ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী একটি শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ডিএনসিসির পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএনসিসির পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পার্ক ও খেলার মাঠ উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অভিযানের মাধ্যমে খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন (২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ)। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান যা রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

সংসদকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে মাঠের সংখ্যা কম থাকলেও ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।