• ই-পেপার

বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

শিক্ষিত তরুণরা খামার ব্যবস্থাপনায় এলে খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত হবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষিত তরুণরা খামার ব্যবস্থাপনায় এলে খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত হবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দেশের উদ্যোক্তাদের সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করা হবে। দেশের শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে এলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ পরিচালকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল (জুম) সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় পরিচালক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সারা দেশের খামারি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, শিক্ষিত উদ্যোক্তারা পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেন। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং লাভও বাড়ে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তিনি বলেন, তালিকা প্রণয়নের পর বিভাগভিত্তিকভাবে খামারিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব সভায় তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাস্তবসম্মত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এই খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী খামারিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত তালিকা প্রস্তুতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন এবং এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

ইউএনএফপিএর জরিপ ও কিউএস ইনডেক্স

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যুগেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় দেশের তরুণরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যুগেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় দেশের তরুণরা
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের সময় পার করছে। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই (৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ) এখন ৩৫ বছরের নিচে।

গবেষকদের মতে, তরুণদের সংখ্যাধিক্যের এই সুবর্ণ সুযোগ ২০৪০ সাল পর্যন্ত বজায় থাকবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের তরুণদের একটি বড় অংশই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) প্রকাশিত ‘লাইভস, চয়েজেস অ্যান্ড ফিউচারস : ডেমোগ্রাফিক ফিউচারস সার্ভে’ শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ তরুণই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বেগের শীর্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বের ৭৩টি দেশের ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ওপর ইউএনএফপিএ এই জরিপটি পরিচালনা করে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে এই উদ্বেগের হার অনেকটাই বেশি।

বাংলাদেশে ৬৭.২ শতাংশ, ভুটানে ৬৬.৩ শতাংশ, আফগানিস্তানে ৫৪.৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৩.২ শতাংশ, ভারতে ৪৭.৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৪৫ শতাংশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও মালদ্বীপ এই জরিপের আওতাভুক্ত ছিল না।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও এই উদ্বেগের দিক থেকে ৭৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। তালিকার শীর্ষে রয়েছে কোস্টারিকা (৭০.৭ শতাংশ) এবং এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের ওপরে একমাত্র দেশ ফিলিপাইন (৭০.৪ শতাংশ)।

ইউএনএফপিএর এই জরিপে অংশ নেওয়া বৈশ্বিক তরুণদের ৯০ শতাংশই মনে করেন, জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো ‘আর্থিক নিরাপত্তা’। এমনকি ৮১ শতাংশ তরুণ বিয়ের আগে এবং ৮৮ শতাংশ তরুণ সন্তান নেওয়ার আগে আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাকে অপরিহার্য বলে মনে করছেন।

কর্মসংস্থান ও দক্ষতার বড় ফারাক : কিউএস ইনডেক্স

এমন এক বাস্তবতায় দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস’। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতার ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের এক জটিল চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স ২০২৫’ অনুযায়ী, চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে ৮১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৭তম (স্কোর ৩৯.১)। ভবিষ্যৎমুখী একাডেমিক প্রস্তুতিতে দেশের স্কোর ৬৫.৭ এবং ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের প্রস্তুতিতে ৪২.৬। সব সূচক মিলিয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর দাঁড়িয়েছে ৪৯.১। এই তালিকায় ৯৭.৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তরুণরা যে প্রথাগত শিক্ষা পাচ্ছেন, তার সঙ্গে শিল্প ও সেবা খাতের বাস্তব চাহিদার বড় ধরনের অমিল (স্কিলস মিসম্যাচ) রয়েছে।

এক বছরে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ল এক লাখের বেশি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে ৯ লাখ ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৭ লাখ ৯৯ হাজার। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরেই উচ্চশিক্ষিত বেকার বেড়েছে এক লাখের বেশি। আর গত এক দশকে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় আট গুণ।

সরকারি টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন বলছে, দেশের প্রতি ১০০ জন বেকারের মধ্যে ২৮ জনই উচ্চশিক্ষিত। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষা বা টারশিয়ারি পর্যায়ের বেকারত্বের হার ৪.৯ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ১২ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তথ্যমতে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৫৫ লাখ তরুণ বর্তমানে কোনো ধরনের শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের মধ্যে নেই।

এছাড়া, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখের। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক কর্মক্ষম তরুণই কাজ পাননি।

উচ্চশিক্ষার বিস্তার বনাম বাজারের চাহিদা

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে গত দেড় দশকে নতুন করে ২২টি পাবলিক ও ৫৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে; দেশের ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:২০-এর বেশি এবং ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসরের সংখ্যা পাঁচজনেরও কম।

সবচেয়ে বড় সংকট হলো শিক্ষার্থীর বিন্যাসে। বর্তমানে দেশে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৮১ শতাংশই পড়ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (প্রায় ৩৩.৮৪ লাখ) ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (৫.০৩ লাখ) অধীনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশবিজ্ঞানের চাহিদা বাড়ছে, তখন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অর্ধেকের বেশি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন প্রথাগত মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে। ফলে পাস করার পর চাকরি পাওয়া তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

রেমিট্যান্সেও পড়ছে দক্ষতার ঘাটতির প্রভাব

দক্ষতার এই ঘাটতির সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে বৈদেশিক শ্রমবাজারে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে যে বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে যান, তাদের সিংহভাগই অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য বা দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা কম বেতনের সাধারণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন।

আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, মেশিন অপারেটর বা কেয়ারগিভারের মতো উচ্চ আয়ের বাজারগুলো ধরতে পারছে না। ফলে ভারত, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের কর্মীদের চেয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের গড় আয় অনেক কম হচ্ছে।

উত্তরণের উপায় ও সরকারি উদ্যোগ

এই সংকট উত্তরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার সমন্বয় জরুরি। প্রযুক্তি ও আইটি খাতে বিনিয়োগ এবং স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত করতে পারলে ধীরে ধীরে শিক্ষিত বেকারত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব।’

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী মনে করেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে অতীতে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিনিয়োগের শতভাগ সুফল পাওয়া যায়নি। তবে তদারকি বাড়ালে বাজেটের অপচয় রোধ করা সম্ভব।

সরকার বর্তমানে সংকট মোকাবিলায় নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানিয়েছেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বর্তমানে ৮৩টি ট্রেডে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘আর্ন’ (EARN) নামে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে আগামী ৩০ মাসে ৭ লাখ মানুষকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে আরেকটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।

নবম পে স্কেল চূড়ান্ত হতে পারে আজ

অনলাইন ডেস্ক
নবম পে স্কেল চূড়ান্ত হতে পারে আজ
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নতুন বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি বৈঠকে বসছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠেয় কমিটির ষষ্ঠ সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গণি। এতে আরো উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।

পূর্বের পাঁচটি বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য, মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আজকের বৈঠকে এসব বিষয়ে সমন্বিত সুপারিশের খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করবে কমিটি। পরে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা প্রয়োজন অনুযায়ী সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদনের অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে মতৈক্য হয়।

সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয় ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হলেও নতুন পে স্কেল ঘোষণা হয়নি। ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল।

এদিকে কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় সংস্কারের সুপারিশও করা হয়।

আন্ত মন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ্দিন পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রত্যাশা করছেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাসের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলাল জানতে চান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের তালিকা এবং যারা গণহত্যার স্বীকার হয়েছেন তাদের তালিকা করা হবে কি না; এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সঠিক সংখ্যা ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রকাশ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না; থাকলে তা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।’

এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সব শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে।