• ই-পেপার

লঘুচাপ পরিণত নিম্নচাপে, ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ

সবার সহযোগিতায় হামকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সবার সহযোগিতায় হামকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমাদের ডাক্তার-নার্সদের সহযোগিতায় হামকে আমরা চতুর্দিক থেকে একটা পেরিফেরির ভেতরে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছি। একেবারে নির্মূল কোনও পৃথিবী করতে পারে নাই, লন্ডনের উদাহরণ দিলাম।

রবিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। রোগী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত, মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরেই ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতিটি জেলায় সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ এবং উড়ন্ত মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে কোনও রোগী স্যালাইনের সংকটে না পড়েন এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

চিকিৎসকদের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা-প্রোটোকল বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনদের কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগী পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়েই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচি, ভিটামিন ট্যাবলেট বিতরণ এবং টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকার এসব কর্মসূচি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ছবি : সংগৃহীত

লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি। 

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমানও তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, তিনি মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরে খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমরা স্যারের বাসায় যাচ্ছি। দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে জানাব।’

আবুল কাসেম ফজলুল হক নিরপেক্ষ রাজনীতি চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’-এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে এই অধ্যাপকের।

তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’-এর মতো একাধিক গ্রন্থ। ১৯৮১ সালে তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার।

চার মাস পর বিমানের ঢাকা-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু

বাসস
চার মাস পর বিমানের ঢাকা-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু

চার মাস বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিমান যোগাযোগ আবার চালু হলো।

পুনরায় চালু হওয়া প্রথম ফ্লাইট বিজি-২০৮ দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ম্যানচেস্টার থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

সিলেটে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি দুপুর দেড়টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে বাসসকে জানান বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম।

ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া উপলক্ষে গতকাল ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ম্যানচেস্টারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার, বিমানের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা, ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রু এবং ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রুটটি পুনরায় চালু করা হলো, বিশেষ করে সিলেটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যেই এই সেবা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হলো।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হুমায়ুন কবির এবং রুট পুনরায় চালুর দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই রুট পুনরায় চালু করা হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর হুমায়ুন কবির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেন এবং সেবাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেন।

কবির গণমাধ্যমকে আগে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ছিল সরাসরি ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট পুনরায় চালু করা। হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী, বিশেষ করে সিলেটের বাসিন্দারা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ফ্লাইট বন্ধের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সিলেটিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। লন্ডন হয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হওয়ায় তাদের ভ্রমণ সময়, খরচ এবং ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের নিয়ে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ড সদস্য ড. খলিলুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরেন।

কবির বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠকেই তিনি জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়েছিলাম, এটি শুধু একটি বিমান সেবা নয়। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের পরিবার, সমাজ ও দেশের অর্থনীতির সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাই যেকোনো মূল্যে এই রুট চালু রাখতে হবে।’

প্রাথমিকভাবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি প্রতি মঙ্গল ও শনিবার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে সপ্তাহে দু’টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, যা সিলেট হয়ে ঢাকা ও ম্যানচেস্টারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানের সীমিত সংখ্যক ওয়াইড-বডি (বড় আকারের) উড়োজাহাজ হজ ফ্লাইটে ব্যবহার করার জন্য গত ১ মার্চ থেকে এই রুটের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল।

তখন এয়ারলাইন্সটি জানায়, ম্যানচেস্টার রুটটি এককভাবে পরিচালনা করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়। কারণ তাদের বোয়িং ৭৮৭ এবং ৭৭৭ উড়োজাহাজগুলো হজ, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতেও প্রয়োজন ছিল।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত যেমন অনেক সহজ হবে, তেমনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।
 

নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী

বাসস
নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী
ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সব কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারি, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরের দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’

পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারও অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারি বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনোই হুমকির মুখে পড়বে না।’

পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করব, পিজিআরের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারি, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ—এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।”

একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’