• ই-পেপার

মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

ভিড় কমাতে জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ভিড় কমাতে জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে এবং ওয়ার্ড ও বারান্দায় রোগীর উপচেপড়া ভিড় দূর করতে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

রবিবার (২৮ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল কিংবা বড় বড় হাসপাতালগুলো ঢাকায়। পাঁচশ রোগীর হাসপাতালে দুই হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়, রোগীরা বারান্দায় থাকে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার বড় হাসপাতালের এই ভিড়ের সমাধান ওই হাসপাতালে পাবেন না। এই সমস্যার সমাধান হবে যদি আমরা জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সব সুবিধা দিয়ে তৈরি করতে পারি। মানুষ তাহলে জেলার ভেতরেই তার কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাবে। আমরা সেই ধরনের পরিকল্পনাই করছি।’

বাজেটের ভেতরের মানবিক দিকটি দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার যে ভাইটি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হার্ট অপারেশনের অপেক্ষায় আছে, এই বাজেট তার প্রাণ রক্ষার বাজেট। যে পাঁচ লাখের বেশি প্রবীণ মানুষ ছানি রোগের কারণে অন্ধত্ব বরণ করে আছেন, এটি তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার বাজেট। এটি ঢাকার হাসপাতালের বারান্দায় ঘুমানো ক্যান্সার রোগীর জীবন ও জমি রক্ষার বাজেট।’

বাজেটকে কেবল অর্থ ও সংখ্যার খেলা মনে না করার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। গণ-আন্দোলনের পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সীমিত সম্পদের মধ্যে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের দায়িত্ব।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভেঙে পড়া এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ গত বছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।

এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ ভাগই ঘটছে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা কিডনি রোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধির কারণে। এর ওপর আরেকটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, চিকিৎসা খরচের ৭৯ শতাংশই রোগীকে নিজের পকেট (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) থেকে দিতে হচ্ছে। যেখানে থাইল্যান্ডে এটি মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার অপরিকল্পিতভাবে হাসপাতাল ভবন নির্মাণ না করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, রেফারাল নেটওয়ার্ক তৈরি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করতে জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে দেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ সুফল ভোগ করবে

বাসস
পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে দেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ সুফল ভোগ করবে

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।

রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। মাত্র চার মাসের মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি সাহসী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা, খালকাটা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষা খাতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। 

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

পানিসম্পদ খাতের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কা বাঁধ, পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা ব্যারেজ এই তিনটি বিষয় বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। 

তিনি বলেন, ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকারের টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলা এবং দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।

তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও সরকার এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি জেলার কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি পঞ্চগড়কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পঞ্চগড় বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং দেবীগঞ্জে একটি এগ্রো জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

অনলাইন ডেস্ক
লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে যে লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। 

এ লক্ষ্যেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট বা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রমকে আরো আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে করব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ সম্ভব হলে রাজস্ব সংগ্রহও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বাজেট এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় অনেক ছোট। অথচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। সে কারণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। আর সেই সক্ষমতা তৈরির অন্যতম ভিত্তি হবে এই প্রকল্প।

সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরো প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারি অর্থ কিভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার নির্ভুল হিসাব ও কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমান সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরীক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ আরো সুগম করবে।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের সরকারি ক্রয় ও দরপত্র কার্যক্রমকে আরো স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক জরিপসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব পরিসংখ্যানকে আরো নির্ভুল ও সময়োপযোগী করতে বিবিএসকে প্রযুক্তিগতভাবে আরো শক্তিশালী করা হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয়ের কাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরো কার্যকর করা হবে। এতে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, পরিকল্পনা বিভাগ এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও তথ্যভাণ্ডার পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরো দ্রুত কার্যকর হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে পারলে তা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রসিকিউরমেন্ট অথরিটির সিইও (সচিব) মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরী প্রমুখ।

৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা
সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। এটি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। 

রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, গতকাল কয়েকটা অনলাইন মিডিয়া পোর্টালে আমার উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উপর্যুক্ত সংবাদের মিডিয়া ফ্রেমিং নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ফলে আমার যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান জরুরি বলে মনে করি।

১. চিকিৎসা ব্যয়: বাংলাদেশে মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের আওতায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ বা বিদেশে যে কোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পেয়ে থাকেন।

২. বিদেশে চিকিৎসার নিয়ম: মন্ত্রীদের বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ: কোনো মন্ত্রী যদি বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান, তবে প্রথমে দেশের একটি উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ডের চিকিৎসকেরা যদি প্রত্যয়ন করেন যে সংশ্লিষ্ট রোগের প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, কেবল তখনই বিদেশে চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

সরকারপ্রধানের অনুমোদন: মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা উপদেষ্টার বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হয়।

বিল বা ভাউচার পেশ: বিদেশে চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফেরার পর খরচের প্রকৃত রসিদ, ভাউচার ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যাচাই-বাছাই শেষে সেই বিল সরকারিভাবে পরিশোধ বা সমন্বয় করে।

৩. আমার অবস্থান: আমি মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে বিগত সরকারে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে দেশে ও বিদেশে আমার চিকিৎসা ব্যয় আইননুসারে সরকার বহন করবে।

৪. আমার শারীরিক অবস্থা: আমি দীর্ঘদিন যাবত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত। সেইসাথে হাই ডায়াবেটিস (দিনে তিনবার ইনসুলিন নিই), উচ্চ রক্তচাপ, ও নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছি। ২০১৫ সালে আমার হার্টে স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়। এ যাবত ৫ বার আমার এনজিওগ্রাম করা হয়। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হই এবং দেশের সরকারি মেডিকেল ও প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাগ্রহণ ও ডায়াগনোসিস করি। রিপোর্টে দেখা যায় আমার হৃদস্পন্দন অনিয়মিত (Atrial Fibrillation / AFib)। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের বোর্ড গঠন করা হয়। লিখিতভাবে আমাকে জানানো হয় ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক একটা জটিল অপারেশন করা আবশ্যক এবং এই অপারেশন করার মতো অত্যাধুনিক লেটেস্ট মেশিন ও প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি দেশে নেই। ফলশ্রুতিতে আবুধাবিতে অবস্থিত একটি মার্কিন হাসপাতাল ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অ্যারেথমিয়া বিশেষজ্ঞ ও সার্জন রয়েছেন।

৫. বিদেশে আমার চিকিৎসা ব্যয়: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আমি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাই। সেখানে আবারও আমার এনজিওগ্রাম করানো হয় এবং ডায়াগনোসিস করে অপারেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায় আমার হৃৎপিণ্ডের দেওয়ালে জমাট রক্তকণা লেগে আছে। চিকিৎসক জানালেন, প্রথমে চিকিৎসার মাধ্যমে এটা অপসারণ করতে হবে; এরপর অপারেশন। অপারেশন না করালে রক্তজমাট বেঁধে ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্টফেল করার আশঙ্কা আছে। এদিকে পবিত্র হজ্বের সময়ও নিকটবর্তী। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হজের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে আমি দেশে ফিরে আসি। এটুকু পর্যন্ত আমার চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। যার প্রতিটা ব্যয়ের রশিদ ও ভাউচার আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছি।

৬. অপারেশন ব্যয়: পবিত্র হজ্বের দায়িত্ব পালন শেষে আবারও অসুস্থতা অনুভব করায় আমি দেশের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হই এবং তারা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ প্রদান করেন। বিগত জানুয়ারি মাসে আমার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বিল দিই প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। যদিও বিল আরও বেশি আসে, কিন্তু থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে কিছু ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। আমি বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে কৃতজ্ঞ। এ সংক্রান্ত সমস্ত বিলের কপি আমি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে জমা করি। 

৭. সরকার কর্তৃক বিল প্রদান: আইনানুসারে সরকার কর্তৃক মন্ত্রী/উপদেষ্টার চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে। সরকার শুধুমাত্র আমার হাসপাতালের বিল, অপারেশন বিল ও মেডিসিনের ব্যয় বহন করেছে। প্রকৃতপক্ষে আমার পরিচর্যার জন্য সঙ্গে যাওয়া আমার সহযাত্রীর সমস্ত খরচ আমি বহন করেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার হোটেলে বসবাসের বিল, খাওয়ার বিল, যাতায়াত খরচও ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছি। সরকার প্রদত্ত প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, ভাউচার, রিসিপ্ট আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। যে কেউই চাইলে হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ব্যয়ের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করতে পারবেন।

আমি উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে এবং নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা তসরুপ করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। আইনমতে, যতটুকু আমার প্রাপ্য তাও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি। কিন্তু কিছু মিডিয়া বৈধ, নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত বিষয়গুলোকে এমনভাবে ফ্রেমিং করছে যেন জনমানসের মনে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়। আমি এসব সংবাদ ও মিডিয়া ফ্রেমিংয়ের তীব্র নিন্দা জানাই। আল্লাহ তা’আলা সবাইকে সহি বুঝ দান করুন।’