• ই-পেপার

নাটোরে পুকুর থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

জিয়ানগর

পল্লী বিদ্যুতের ২ কর্মকর্তাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পল্লী বিদ্যুতের ২ কর্মকর্তাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

পিরোজপুরের জিয়ানগরে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাতে এ ঘটনায় পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আহত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (আইটি) রিয়াদুদ সালেহীন বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি দল বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য জিয়ানগরের কালাইয়া গ্রামে যায়। ওই গ্রামের নাসির মাতুব্বরের বকেয়া বিল বাকি থাকায় তার ঘরের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাসির মাতুব্বর ও তার ভাই জাকির মাতুব্বর ওই টিমের দুই কর্মকর্তাকে মারধর করেন এবং তাদের কাছে থাকা বকেয়া বিল আদায়ের টাকা ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে জিয়ানগর থানা পুলিশ তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেন জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি দল বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে গেলে দুজন গ্রাহক আমাদের দুই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। আমরা ওই গ্রাহকের মিটার খুলে নিয়ে এসেছি এবং তাদের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

ইন্দুরকানি এবং পত্তাশী ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা দিদার হোসেন জানান, আমরা জুন ক্লোজিং হিসেবে বকেয়া বিল আদায় করার জন্য এলাকায় এলাকায় মাইকিং করিয়েছি। তারপরেও বকেয়া বিল আদায় করতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করাটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

জিয়ানগর থানার ওসি মো. মোহাব্বত খান বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মকর্তাকে মারধরের খবর পেয়ে আমরা তাদের উদ্ধার করি। এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে : শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

কোনো অবস্থাতেই প্রশ্ন ফাঁস বরদাশত করা হবে না। এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে মনে রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরীক্ষায় নকল হয়নি, অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো মিডিয়ায় যদি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয় তাহলে অবশ্যই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং কাস্টডিতে নেবে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। সেই সংক্রান্ত আইন করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) সিলেট জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাইবার সিকিউরিটি ও আইনি সংস্কারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়া সত্ত্বেও যারা ফাঁসের মিথ্যা প্রচার চালাবে, তাদের সাইবার সিকিউরিটির আওতায় ট্র্যাক করা হবে। বর্তমান আইনে বিভ্রান্তি ধরার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। সেজন্য পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ সংশোধন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে এটি বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আপনি প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবেন, আর আমরা সবাই কি চুপ করে বসে থাকব? এটা কোনো জোকস নয়, এটা অ্যাডুকেশন। বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করলেই তাকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হবে।’

কলেজ জাতীয়করণ প্রসঙ্গে এসময় তিনি বলেন, ঢালাওভাবে কলেজ জাতীয়করণ করার ইচ্ছে নেই সরকারের। যাচাই-বাছাই করে যারা যোগ্য, কেবল তাদেরই নেওয়া হবে। জনস্বার্থ বিবেচনা না করে রাজনৈতিক কারণে কলেজ সরকারিকরণের সমালোচনাও করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ডিজি অফিসে বসে কোনো ধরনের দালালি চলবে না।’

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবরসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র প্রধানরা্

এর আগে রবিবার সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বিমানবন্দরে তাঁকে সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা স্বাগত জানান।

পাখির ডাকে ঘুমায়, পাখির ডাকে জাগে

মাজহারুল ইসলাম মিশু, আঞ্চলিক প্রতিনিধি (ময়মনসিংহ)
পাখির ডাকে ঘুমায়, পাখির ডাকে জাগে
ছবি: কালের কণ্ঠ

ধনভাঙ্গা গ্রামটি পরিচিত পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে। অনেকে পাখির গ্রাম বলেও ডাকে। প্রায় তিন দশক ধরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামের মানুষ পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে, আবার পাখির ডাকে জাগে।  

গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে বট, নিম, তেঁতুল, আম আর  বাঁশঝাড়। রয়েছে আরো নানা প্রজাতির ছোট বড় গাছ। সেসব গাছের ডালে ডালে রাতচোরা, শামুকখোল, সাদা বক, কানা বক, শঙ্খচোরার সংসার। বাসা বেঁধেছে পানকৌড়ি ও হরিয়ালের মতো পাখিও।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন দশক ধরে বৈশাখ মাসে পাখিরা সেখানকার গাছে গাছে বাসা বাঁধে, ডিম দেয়। জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসের দিকে বাচ্চা ফোটে। বাচ্চারা বড় হয়ে উড়তে শিখলে শীতের শুরুতে তারা অন্যদিকে চলে যায়। আবার বৈশাখ মাস এলে পাখিরা এখানে ভিড় করে। তবে সব পাখি চলে যায় না। সাদা বক ও পানকৌড়ির একটি অংশ সারাবছর এখানেই থাকে। ছবি: কালের কণ্ঠ

বাসিন্দারা আরো জানান, ধনভাঙ্গা গ্রামের মানুষ পাখিগুলোকে নিজেদের সন্তানের মতো ভালোবাসে। কেউ যেন পাখিদের বিরক্ত না করে, সে বিষয়ে তারা সবসময় সতর্ক চোখ রাখেন। প্রতিদিন ভোরে আহার সংগ্রহে বের হয়ে সন্ধ্যার আগেই পাখিগুলো তাদের নীড়ে ফেরে। পাখিদের এ সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, পাখিগুলো আমাদের গ্রামকে মুখর রাখে। কেউ যেন ক্ষতি না করে, সে জন্য আমরা সবাইকে সচেতন করি। এলাকার মানুষ এখন পাখিদের অভিভাবক। অনেক সময় ঝড়ে বাসা থেকে পাখির ছানা নিচে পড়ে আহত হয়। আমরা সে ছানাকে আবার ওপরে তুলে দিই। তবে এখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নজরদারি থাকলে পাখিরা সঠিক চিকিৎসা পেত।

হালুয়াঘাট সদর থেকে আসা দর্শনার্থী জাকির হোসেন ও রফিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখানে পাখিদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এত পাখি একসঙ্গে আমরা কোথাও দেখিনি। গ্রামের মানুষ এসব পাখিকে বিরক্ত করে না, এটা খুব প্রশংসনীয়। সরকারের উচিত পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া।

ধনভাঙ্গা গ্রামে পাখির অভয়ারন্যউপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, পাখি প্রকৃতির অনন্য সম্পদ। অতিথি পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কারণে কোনো পাখি আঘাত পেলে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে সেবা দেব।

গভীর রাতে এলাকাবাসীর হাতে আটক ইমাম, বিয়ে করতে চাইলেন নারী

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
গভীর রাতে এলাকাবাসীর হাতে আটক ইমাম, বিয়ে করতে চাইলেন নারী
প্রতীকী ছবি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া এলাকায় এক নারীর বাড়ি থেকে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামকে আটক করেছে এলাকাবাসী। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া জামে মসজিদ (টাঙ্গাইল পাড়া)-এর ইমাম মো. সেলিমকে মৃত আল আমিনের স্ত্রী মোছা. শানু বেগমের ঘরে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হন এবং তাকে আটক করেন।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় এক দশক ধরে মো. সেলিম ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মো. সেলিম বলেন, ‘গত প্রায় দেড় মাস ধরে আমাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রেই আমি রাতে তার বাড়িতে যাই। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে আটক করেন।’

শানু বেগম বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।’

রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’