ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়েছে। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আজ শনিবার বেলা ১১টা ২ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এতে সভাপতিত্ব করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়েছে। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আজ শনিবার বেলা ১১টা ২ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এতে সভাপতিত্ব করছেন।

ইজারা দেওয়া হবে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ১১টি ট্রেন। ইজারা দেওয়ার অনুমোদন চেয়ে রেল সদর দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সদর দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর প্রক্রিয়া করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ট্রেনগুলো ইজারা দেওয়া হবে।’
পশ্চিমাঞ্চল রেলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর মোটা অংকের লোকসান হচ্ছে। এতে রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি অপারেটরদের কাছে হস্তান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, অপারেটরদের হাতে ট্রেন গেলে ভাড়া আরও বাড়বে। পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি আন্তর্জাতিক ট্রেন, ৬২টি আন্তনগর ট্রেন, ৫৫টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন এবং ১২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। এরমধ্যে বেসরকারি অপারেটরদের কাছে ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন ইজারা দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আয় করছে বলে বাংলা ট্রিবউন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পশ্চিমাঞ্চল রেল বারবার তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭৬ লাখ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করেছে। এর বিপরীতে আয় করেছে ৬৪৯ কোটি টাকা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। আয় হয়েছে ৬২১ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ মাসে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৮২৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছিল; কিন্তু আয় হয়েছে ৫৬৬ কোটি টাকা।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ১০ থেকে ১২টি ট্রেন ধারাবাহিকভাবে লাভজনক ছিল। সেগুলো রাজশাহী-ঢাকা, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা এবং রাজশাহী-পার্বতীপুর রুটে চলাচল করে। কম ভাড়া, পরিচালন ব্যয় এবং টিকিটবিহীন ভ্রমণের কারণে বেশির ভাগ মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলোতে লোকসান অব্যাহত আছে। অনেক যাত্রী স্থানীয় রুটে টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছেন। কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার পরিবর্তে ট্রেনের কর্মীদের তারা টাকা দিচ্ছেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আনসার আলী বলেন, ‘অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। আরও কর্মী নিয়োগ করা হলে, এ ট্রেনগুলো থেকে প্রাপ্ত আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হলেও ইজারা দেওয়া বেশি লাভজনক। লোকাল ট্রেন থেকে কম আয়ের অন্যতম প্রধান কারণ যাত্রীদের টিকিট কিনতে অনীহা। এ কারণে আমরা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।
এ বিষয়ে প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। সব মেইল ও লোকাল ট্রেনে সঠিকভাবে টিকিট পরীক্ষা করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। সব ট্রেনের আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্মিলিতভাবে তৈরি করা হয়। প্রতিটি মেইল বা লোকাল ট্রেনের বছরে কত লোকসান হয়, তা দেখানোর জন্য কোনও পৃথক হিসাব নেই।’

বাংলাদেশ ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের অবস্থানও ধরে রেখেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এ উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক জলসীমা থেকে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে এসেছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে, যার ৮৪ শতাংশই পাওয়া যায় মৎস্য চাষ থেকে।
বিশ্বের মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে এশিয়া। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ।
২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর ৫৩ শতাংশ এসেছে মৎস্যচাষ থেকে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে। এই উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।
মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনের ৬১ শতাংশ বা ১১ কোটি ৮০ লাখ টন এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। বাকি ৩৯ শতাংশ বা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে।
সূত্র : বাসস

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে ছিল বায়ুদূষণের কবলে। তবে বর্ষা মৌসুমে বাতাসের মান কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সবশেষ লাইভ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৩২তম। শহরটির বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ৬৭, যা যা ঢাকার বাতাসকে সহনীয় বা মোটামুটি ভালো বলা যায়। গতকাল শুক্রবার ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ৮২।
এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য বাতাস সাধারণত নিরাপদ হলেও অতি সংবেদনশীল বা শ্বাসকষ্টে ভোগা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য সামান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে।
আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক তালিকায় দেখা গেছে, এই সময়ে ১৭৩ স্কোর নিয়ে বায়ু দূষণের শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। তালিকায় ১৬৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের লাহোর। শহর দুটির বায়ুমানের স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে তালিকার তৃতীয় থেকে নবম পর্যন্ত শহরের বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। এগুলো হলো- ভারতের দিল্লি, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গ, উগান্ডার কামপালা, কঙ্গোর কিনশাসা, চীনের উহান, ইসরাইলের তেল আবিব, চিলির শান্তিয়াগো, ইরাকের বাগদাদ।
আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।
স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয় এবং ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। আর স্কোর ৩০১ বা তার বেশি হলে বাতাসকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ু দূষণে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শহর হিসেবে তালিকায় থেকেছে। শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার বায়ুমান প্রায়ই ‘অস্বাস্থ্যকর’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে চলে যায়। তবে বর্ষার প্রাক্কালে ও বৃষ্টিপাতের কারণে মাঝেমধ্যে বাতাসের এই মানের কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা যায়।