চার বছর পর আবারও যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে তারা দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য সফর করবেন। এই সফরে তারা প্রথমবারের মতো রাজপরিবারের একটি সরকারি বাসভবনে থাকবেন। ফলে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে পারে বলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে তাদের দুই সন্তানও থাকবে। তারা হলেন সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট। ২০২২ সালের পর এটিই হবে তাদের প্রথম পারিবারিক যুক্তরাজ্য সফর। ওই বছর তারা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আগে থেকেই হ্যারি ও মেগানকে রাজপ্রাসাদের এস্টেটের একটি সরকারি বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা এতদিন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এবারই প্রথম তারা সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন। সফরের সময় তারা কিছুদিন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে থাকবেন। বাকি সময় ব্যক্তিগত একটি বাসভবনে অবস্থান করবেন।
২০২০ সালে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর তারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল রাজপরিবারের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে জীবন গড়ে তোলা। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং হ্যারির আত্মজীবনীতে এই দম্পতি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড গণমাধ্যমের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, পরিবারের ভেতরের জটিল সম্পর্ক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
রাজপরিবার ছাড়ার পর হ্যারি কয়েকবার যুক্তরাজ্যে গেলেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে আর সফর করেননি। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে তিনি ও মেগান একসঙ্গে যোগ দেন। এরপর ২০২৩ সালে রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে হ্যারি একাই উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৯ মাস পর বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন হ্যারি। সে সময় ক্ল্যারেন্স হাউসে তারা একসঙ্গে চা পান করেন। তখন রাজা চার্লস ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ওই বৈঠকের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বাবা-ছেলের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে শুরু করেছে। এরপরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে হ্যারির সঙ্গে তার বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সম্পর্ক এখনো আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। সবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে লন্ডনে যান হ্যারি। তিনি এবং আরো কয়েকজন ব্রিটিশ সংবাদপত্র 'ডেইলি মেইল'-এর প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল।
রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার করদাতাদের অর্থে হ্যারির জন্য দেওয়া সরকারি নিরাপত্তা সুবিধা তুলে নেয়। এরপর গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তিনি দেখছেন না। আসন্ন সফরে হ্যারি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা যখন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে থাকবেন, তখন সেখানে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।
জুলাইয়ের এই সফরে হ্যারি ২০২৭ সালের ইনভিকটাস গেমসকে সামনে রেখে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আগামী বছর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়া সামরিক সদস্যদের জন্য এক দশকেরও বেশি আগে এই প্রতিযোগিতা চালু করেছিলেন হ্যারি। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডস অঞ্চলে তার সমর্থিত আরো কয়েকটি সামাজিক উদ্যোগের কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি। সফর শুরু হবে লন্ডনে ইনভিকটাস গেমস–সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সেখানে মেগানও তার সঙ্গে থাকবেন। তবে তাদের দুই সন্তান কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের ব্যক্তিগত সফরসূচিও প্রকাশ করা হয়নি।





