• ই-পেপার

কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা

মূল্যসীমা মানলে রাশিয়ার তেল বিক্রি নয়, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন পুতিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
মূল্যসীমা মানলে রাশিয়ার তেল বিক্রি নয়, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন পুতিন

যারা জি-৭ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মূল্যসীমা মানবেন, তাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ না করার মেয়াদ আরো বাড়িয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পুতিন সেটা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্টের এক নির্বাহী আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, কোনো বিদেশি কম্পানি বা ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তিতে যদি মূল্যসীমা নির্ধারণের কোনো শর্ত থাকে, তবে তাদের কাছে রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহের সব কয়টি ধাপের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জি৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার জ্বালানি কেনার ওপর মূল্যসীমা আরোপ করে। প্রথমে ক্রুড অয়েলের ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ মূল্য ৬০ ডলার নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে আনা হয় ৪৪ ডলার ১০ সেন্টে। বেঁধে দেওয়া এ দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ রাশিয়ার তেল কিনলে তারা পশ্চিমা জাহাজ পরিবহন ও বীমা সুবিধা পাবেন না। জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে রাশিয়ার আয় কমিয়ে তাদের চাপে ফেলার জন্যই পশ্চিমারা এ মূল্যসীমা আরোপ করেছিল। রাশিয়া হলো অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। আর শিপিং এবং বীমা সুবিধার বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে পশ্চিমা দেশগুলো। পশ্চিমারা ভেবেছিল, মূল্যসীমা বেঁধে দিলে রাশিয়া প্রবল চাপে পড়বে, তাদের আয় কমে যাবে এবং রাশিয়া পশ্চিমাদের কাছে নতি স্বীকার করবে। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে উল্টো। রাশিয়া ব্যাপারটিকে নিয়েছে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে। তাদের তেলের দামের সীমা বেঁধে দেবে পশ্চিমারা, এটা মানতে পারেননি পুতিন। উল্টো তিনি যারা পশ্চিমাদের মূল্যসীমা মানবেন তাদের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়েছে। সর্বশেষ বাড়ল গত শুক্রবার। রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা তেল উৎপাদন কমিয়ে দেবে, তবুও পশ্চিমাদের বেঁধে দেওয়া মূল্যসীমা মানবে না।

মূল্যসীমা আরোপের মাধ্যমে রাশিয়াকে চাপে ফেলতে চাইলেও উল্টো চাপে পড়েছে পশ্চিমারা। তাদের এখন চড়া দামে দূর থেকে তেল কিনতে হচ্ছে। মূল্যসীমার পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাশিয়া পশ্চিমাদের উল্টো চাপে ফেলেছে। পশ্চিমারা জ্বালানি তেলের মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়ায় শুরুতে রাশিয়ার অর্থনীতিও প্রবল চাপের মুখে পড়েছিল। তবে রাশিয়া দ্রুত কৌশল পাল্টে চাপ কমিয়ে নেয়। ইউরোপ থেকে তারা বাজার সরিয়ে এনেছে এশিয়ায়। চীন, ভারত এখন রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা। এখানে দুপক্ষেরই লাভ। রাশিয়া তার তেলের জন্য বড় বিকল্প বাজার পেয়ে গেছে। আবার চীন, ভারতও বাজারমূল্য থেকে কম দামে তেল কিনতে পারছে। তবে ছাড় দিয়েও রাশিয়া চীন-ভারতের কাছে যে দামে তেল বিক্রি করছে, তাও পশ্চিমাদের বেধে দেয়া মূল্যসীমার চেয়ে বেশি। ফলে রাশিয়া দ্রুত তাদের চাপ কমিয়ে ফেলতে পেরেছে। কিন্তু পশ্চিমাদের তেল কিনতে হচ্ছে চড়া দামেই।

আর পশ্চিমা শিপিং পরিবহন ও বিমা সুবিধাকে ফাঁকি দিতে রাশিয়া শ্যাডো ফ্লিট বা ছদ্মবেশী জাহাজের বিশাল বহর সমূদ্রে নামায়। তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামে নিবন্ধিত এসব পুরোনো ট্যাংকারের বিমা সুবিধা দিচ্ছে রাশিয়া। শ্যাডো ফ্লিটের মাধ্যমে রাশিয়া কার্যত পশ্চিমাদের মূল্যসীমার অস্ত্র, জাহাজ পরিহন ও বিমা সুবিধার অস্ত্রকে অকার্যকর করে ফেলেছে। চীন ও ভারতের সাথে রাশিয়ার বেচাকেনা হয় ইউয়ান ও রুপিতে। ফলে অস্ত্র হিসেবে ডলারের ধারও অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছে রাশিয়া। ফলে রাশিয়াকে দুর্বল করতে পশ্চিমাদের আরোপ করা জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা উল্টো রাশিয়াকে আরো শক্তিশীলী ও কৌশলী করেছে। তারা বিকল্প বাজার খুঁজে পেয়েছে, ডলারের ধার কমছে আর পশ্চিমাদের জ্বালানি কেনার খরচ বাড়ছে।

যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি-মেগান, থাকবেন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি-মেগান, থাকবেন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে
সংগৃহীত ছবি

চার বছর পর আবারও যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে তারা দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য সফর করবেন। এই সফরে তারা প্রথমবারের মতো রাজপরিবারের একটি সরকারি বাসভবনে থাকবেন। ফলে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে পারে বলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে তাদের দুই সন্তানও থাকবে। তারা হলেন সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট। ২০২২ সালের পর এটিই হবে তাদের প্রথম পারিবারিক যুক্তরাজ্য সফর। ওই বছর তারা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আগে থেকেই হ্যারি ও মেগানকে রাজপ্রাসাদের এস্টেটের একটি সরকারি বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা এত দিন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এবারই প্রথম তারা সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন। সফরের সময় তারা কিছুদিন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে থাকবেন। বাকি সময় ব্যক্তিগত একটি বাসভবনে অবস্থান করবেন।

২০২০ সালে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর তারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল রাজপরিবারের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে জীবন গড়ে তোলা। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং হ্যারির আত্মজীবনীতে এই দম্পতি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড গণমাধ্যমের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, পরিবারের ভেতরের জটিল সম্পর্ক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

রাজপরিবার ছাড়ার পর হ্যারি কয়েকবার যুক্তরাজ্যে গেলেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে আর সফর করেননি। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে তিনি ও মেগান একসঙ্গে যোগ দেন। এরপর ২০২৩ সালে রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে হ্যারি একাই উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৯ মাস পর বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন হ্যারি। সে সময় ক্ল্যারেন্স হাউসে তারা একসঙ্গে চা পান করেন। তখন রাজা চার্লস ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ওই বৈঠকের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বাবা-ছেলের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমতে শুরু করেছে। এরপরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে হ্যারির সঙ্গে তার বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সম্পর্ক এখনো আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। সবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে লন্ডনে যান হ্যারি। তিনি এবং আরো কয়েকজন ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল।

রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার করদাতাদের অর্থে হ্যারির জন্য দেওয়া সরকারি নিরাপত্তা সুবিধা তুলে নেয়। এরপর গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তিনি দেখছেন না। আসন্ন সফরে হ্যারি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা যখন রাজপরিবারের সরকারি বাসভবনে থাকবেন, তখন সেখানে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।

জুলাইয়ের এই সফরে হ্যারি ২০২৭ সালের ইনভিকটাস গেমসকে সামনে রেখে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আগামী বছর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়া সামরিক সদস্যদের জন্য এক দশকেরও বেশি আগে এই প্রতিযোগিতা চালু করেছিলেন হ্যারি। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডস অঞ্চলে তার সমর্থিত আরো কয়েকটি সামাজিক উদ্যোগের কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি। সফর শুরু হবে লন্ডনে ইনভিকটাস গেমস-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সেখানে মেগানও তার সঙ্গে থাকবেন, তবে তাদের দুই সন্তান কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের ব্যক্তিগত সফরসূচিও প্রকাশ করা হয়নি।


 

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ

ভেনিজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার অভিযান এখনও চলছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দলও ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে।

রাজধানী কারাকাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের বহু ভবন ধসে পড়ে।

রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পে সেখানে একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলে শুক্রবার (২৬ জুন) ৪.৯ মাত্রার আরো একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল উত্তর ভেনিজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পের কম্পন মারাকাই ও রাজধানী কারাকাসেও অনুভূত হয়েছে।

এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৭২ জনের বেশি মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ভেনিজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি।

শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হবে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সংগঠিত হচ্ছেন। তারা খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহের পাশাপাশি জীবিতদের খোঁজে কাজ করছেন। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সরকার এক্স (সাবেক টুইটার)সহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ এখন নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন।

 

 

ইতালিতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ইতালিতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বসুরহাটের বাসিন্দা কামাল, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে। হামলায় তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চাইতে যান পরিবারের ১৮ বছর বয়সী ছেলে। কিন্তু হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ইতালির কারাবিনিয়েরি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরেও ছুরির আঘাত ছিল। তবে সেই আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না। 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে- সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও এজিআই জানিয়েছে, তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে ছুরির আঘাত ছিল এবং সেই আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পুরোপুরি অজানা। এতে তদন্তকারীরা দ্বন্দ্বে পড়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

এদিকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। তদন্তের স্বার্থে ফ্ল্যাটটি ঘিরে রাখা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

রোম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরোর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করছে যে ঘটনায় পরিবারের পরিচিত কেউ বা কোনো পারিবারিক বন্ধু জড়িত থাকতে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, এটি এখনো নিশ্চিত নয়, শুধু তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক। আর হত্যাকারী এখনো ধরা পড়েনি বলে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।