• ই-পেপার

বাজেট

স্বাস্থ্য খাতে ৬২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

আগে কর দিলে প্রণোদনা, দেরিতে জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
আগে কর দিলে প্রণোদনা, দেরিতে জরিমানা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে পেশ করা হতে যাচ্ছে। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বাজেট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট। এই বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও প্রথম বাজেট হবে।

জানা গেছে, এখন ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়। এবারের বাজেটে করা হয়েছে ভিন্ন নিয়ম। ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ প্রণোদনা। তবে তা ২৫ হাজার টাকার বেশি হবে না। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দিলে প্রণোদনা পাওয়া যাবে না, অতিরিক্ত করও দিতে হবে না। 

১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে ২ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। তবে তা তিন হাজার টাকার বেশি হবে না। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দিলে ৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। তবে এর সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ হাজার টাকা। নতুন করদাতাদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ জুন।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকটিকিটটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ৫০ টাকা মূল্যমানের খাম-সম্বলিত একটি স্যুভেনির শিট এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ডও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি উপলক্ষটি স্মরণীয় করে রাখতে একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়।

যে কারণে জুলাই থেকে শুরু হয় অর্থবছর

অনলাইন ডেস্ক
যে কারণে জুলাই থেকে শুরু হয় অর্থবছর

বাংলাদেশে সাধারণ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছর শুরু হয় জানুয়ারিতে। তবে দেশের অর্থবছর শুরু হয় প্রতিবছরের ১ জুলাই এবং শেষ হয় পরবর্তী বছরের ৩০ জুন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই পদ্ধতির পেছনে রয়েছে কৃষি, প্রশাসনিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি দেশের শস্য উৎপাদন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই অর্থবছর নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান পর্ব এবং স্বাধীনতার পরও জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছর অনুসরণ করা হচ্ছে।

তবে বর্তমানে পৃথিবীতে ৮০ ধরনের পঞ্জিকার প্রচলন রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক পঞ্জিকা হিসেবে যোগ হয়েছে অর্থবছরের। মূলত একটি দেশের শস্যের উৎপাদন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সরকারি-বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ-সুবিধার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে অর্থবছর ঠিক করা হয়।

খেয়াল করলে দেখা যাবে, জুলাই মাস বাংলাদেশের বর্ষাকাল। এ সময় মাঠে কৃষকদের ফসল থাকে, কয়েক মাস পরেই ফসল ওঠে তাদের ঘরে। এ ছাড়াও কিছু কিছু অঞ্চলে এরই মধ্যে ফসল উঠে যায়। বছরের এই মধ্যবর্তী সময়টি কৃষিক্ষেত্রে বাজেটের বিভিন্ন দিক ভেবে ব্যবস্থা নেয়ার মোক্ষম সময়। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালু হয় এই রীতি।

এ ছাড়াও রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করলে, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে নতুন কোনো দল ক্ষমতায় এলে তারা বাজেট প্রণয়নের জন্য বেশকিছু সময় হাতে পায়। এ সময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার নানা প্রতিফলন বাজেটে তুলে আনার যথেষ্ট সুযোগ পায় সরকারি দল।

অভ্যন্তরীণ এসব ব্যাপার ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমা অনেক দেশের সঙ্গে মিলিয়ে অর্থবছর ঠিক করলে ঋণের হিসাব সহজ হয়। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের অর্থবছর শুরু হয় জুলাই থেকে, সে হিসাবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই মাসকে অর্থবছর ধরলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সুবিধা হয়। এর আগে পাকিস্তান এপ্রিলকে তাদের অর্থবছরের প্রথম মাস হিসাব করলেও বিশ্বব্যাংকের ঋণের আশায় পুনরায় জুলাই মাসকে অর্থবছরের প্রথম মাস ধরে হিসাব করা শুরু করে।

এ ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা বলেন, বর্ষাকালে পূর্ত কর্মসূচি ঋতুর ওপর নির্ভরশীল হলেও অন্যান্য কার্যক্রম ঋতুর ওপর নির্ভরশীল নয়। এ ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া যতটা দায়ী, তার সিকিভাগ দায়ী নয় ঋতুর পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে সরকার অবকাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে, অর্থবছরের পরিবর্তন এনে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে : অর্থবছর কীভাবে পরিবর্তন করা যায়। মূলত বাংলাদেশের অর্থবছর পরিবর্তন করতে হলে সংবিধানের ১০২(১) নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থবছর পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজনিয়তা নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। এদিন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।

এটি পাস হলে হবে দেশের ৫৫তম, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ।

বাজেট

করমুক্ত থাকছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়, থাকছে না ভ্যাটও

অনলাইন ডেস্ক
করমুক্ত থাকছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়, থাকছে না ভ্যাটও

বাজেটে ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অর্জিত সব ধরনের আয়কে করমুক্ত ঘোষণা করার পাশাপাশি এ খাত থেকে ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এতদিন শুধুমাত্র আইটি  ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি সুবিধা বিদ্যমান ছিল। তবে নতুন বাজেটে এই সুবিধা সম্প্রসারিত করে সব প্রকার ফ্রিল্যান্সিং আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এ পদক্ষেপের ফলে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে আরও উৎসাহিত হবেন বলে মনে করছে সরকার।

ফ্রিল্যান্সারদের পাশাপাশি তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশন হতে আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত দেশের লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কাজ করে যে আয় করছেন, তাকে ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে সরকার।

ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রদেয় সেবার ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। প্রস্তাবিত বাজেটে এ ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হবে বাজেটে। এছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট এবং স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট মওকুফ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকার একটি বৈশ্বিক মানের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের ডিজিটাল মেধা ও মননকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।