• ই-পেপার

মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাসস
শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

কবর জিয়ারতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১৬ জুলাই (২০২৪) চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে শহীদ হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিম। তিনি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম। ৫ সন্তানের মধ্যে ওয়াসিম ছিলেন দ্বিতীয়।

বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে : ডিসি ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে : ডিসি ফরিদা

ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি আরো বলেন, বৃক্ষরোপণ আমাদের দায়িত্ব নয়, আমাদের দায়।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজধানী ঢাকা ক্রমেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বৃক্ষরোপণকে একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো শৌখিনতা নয় বরং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। প্রতিটি নাগরিক যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ফরিদা খানম আরো বলেন, সবুজ ঢাকা গড়তে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ—সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারলেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা উপহার দিতে পারব।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাসভা শেষে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। 

কলকাতায় গিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে না, আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
কলকাতায় গিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে না, আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলেন আর যারা বাইরে কথা বলেন, তাদের ভাষা এক হলেও মনোজগতে পার্থক্য রয়েছে। এ জন্য সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় গিয়ে বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না। আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি।’

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ‘দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘যদি ১৪০ কোটি আর ২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান, তাহলে সার্কের ২২০ কোটি মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যারা এটা চাইবে না আমরা এটাকে সন্দেহের চোখে দেখব। আঞ্চলিকতার জন্য সার্ক এবং আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ—এভাবেই আমরা এগোতে চাই।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “যখন জাতি সংকটে ছিল তখনই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে শুরু করেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছিলেন, ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি ঘুরে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ’। এসব স্লোগান আমাদের জুলাই আন্দোলনের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করতে পেরেছি।”

সভায় প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘যারা অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন, তারা কোন মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন, সেটা ভাবতে হবে। তবে জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের প্রধান হাতিয়ার। দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য পরিহার করা উচিত।’

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বেঁচে থাকতে সামাজিক চুক্তির মতো বিষয়ে বলে গেছেন। জুলাই সনদেও তেমনই চর্চা হয়েছে। জাতীয় সনদ কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসা উচিত।’

১৭ জেলায় রাতেই ঝড়ের পূর্বাভাস, বজ্রসহ বৃষ্টি চলবে আরো ১০ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জেলায় রাতেই ঝড়ের পূর্বাভাস, বজ্রসহ বৃষ্টি চলবে আরো ১০ দিন
ছবি এআই দিয়ে তৈরি

আষাঢ়ের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিতে বর্ষার আবহ। ঘন কালো মেঘে ঢেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এমনকি এর পরের পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়তে পারে। অর্থাৎ, আগামী অন্তত ১০ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির এই ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে শনিবার (১৩ জুন) রাতের মধ্যেই দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রাত ১টার মধ্যে দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ মিয়া জানিয়েছেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর প্রভাবে আগামী ৫ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে পরবর্তী ৫ দিনে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরো বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

সোম ও মঙ্গলবার (১৫-১৬ জুন) ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই তিন দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বুধ ও বৃহস্পতিবার (১৭-১৮ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নেত্রকোণায়। এ ছাড়া ফেনী ও চট্টগ্রামের আমবাগানে ৭০ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৬৮ মিলিমিটার, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৬২ মিলিমিটার, রাজশাহীর বাঘাবাড়ীতে ৪৫ মিলিমিটার, ঢাকায় ৪৩ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৩০ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম-বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।