সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ২১তম জুনিয়র ও সিনিয়র ওপেন আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ দল। ৩ থেকে ৭ জুন অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে মোট ৯টি পদক জয় করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি ব্যক্তিগত ও ২টি দলগত পদক।
চমকপ্রদ তথ্য হলো, বাংলাদেশের জেতা ব্যক্তিগত ৭টি পদকের (৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ) সবকটিই এসেছে বান্দরবানের লামায় অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। এছাড়া দলগত দুটি ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা ছিল এই ‘কোয়ান্টাদের’। জুনিয়র বিভাগের দলগত ৪ জনের সবাই এবং সিনিয়র বিভাগের ৪ সদস্যের দলের ২ জনই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় জুনিয়র বিভাগে একাই তিনটি পদক জিতে রেকর্ড গড়েছেন জিমন্যাস্ট উটিংওয়াং মার্মা। ‘ভোল্টিং টেবিল’ ইভেন্টে ১৩.৫০০ পয়েন্ট পেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। এছাড়া ‘স্টিল রিংস’ ইভেন্টে ১২.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্বর্ণ এবং ‘ফ্লোর এক্সারসাইজ’ ইভেন্টে ১৩.৬০০ পয়েন্ট নিয়ে একটি ব্রোঞ্জ পদক নিজের করে নেন উটিংওয়াং।
জুনিয়র বিভাগে আরেক জিমন্যাস্ট মেনটন টনি ম্রো ‘পমেল হর্স’ ইভেন্টে ১৩.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকসের পমেল হর্স ইভেন্টে এটিই বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর। এ ছাড়া জুনিয়র বিভাগে মংচিং প্রু ত্রিপুরা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে রৌপ্যপদক (১১.৭০০ পয়েন্ট) পান।
সিনিয়র বিভাগেও এসেছে সাফল্য। সিনিয়র বিভাগে ভোল্টিং টেবিল ইভেন্টে রাজীব চাকমা রৌপ্যপদক (১২.৭০০ পয়েন্ট) এবং উহাইমং মার্মা হরাইজন্টাল বার ইভেন্টে ব্রোঞ্জপদক (১২.১৫০ পয়েন্ট) জয় করেন। দলগত ইভেন্টে জুনিয়র বিভাগে উটিংওয়াং মার্মা, মেনটন টনি ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা ও প্রেনথৈ ম্রো এবং সিনিয়র বিভাগে রাজীব চাকমা ও উহাইমং মার্মা ব্রোঞ্জ পদক জেতে।
বাংলাদেশ দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের অর্জিত এবারের সাফল্যের পেছনে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের জিমন্যাস্টদের বড় ভূমিকা রয়েছে। জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহযোগিতায় এটি অর্জন করা সহজ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বান্দরবানের লামা উপজেলার এই শিশুদের শৈশব থেকেই শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও উন্নত জিমন্যাস্টিকস প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় সুবিধা দিচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। সঠিক গাইডলাইন ও উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরাও যে আন্তর্জাতিক মানের সাফল্য অর্জন করতে পারে, এই অর্জন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’




