• ই-পেপার

ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী

পিছিয়ে পড়া বগুড়ার উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, গঠন হচ্ছে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পিছিয়ে পড়া বগুড়ার উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, গঠন হচ্ছে কমিটি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, শুধু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাড়ি বগুড়া হওয়ার কারণে এ অঞ্চল দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করে বগুড়াকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে কাজ করছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মতবিনিময় সভায় পিছিয়ে পড়া বগুড়ার দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, কোনো প্রকল্প দায়সারাভাবে প্রণয়ন বা মনিটরিং করা যাবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প এবং জেলার ১২টি পৌরসভার উন্নয়নে আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে, যা বগুড়ার অবকাঠামো ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি আনবে। ২০ বছর পিছিয়ে পড়া বগুড়ার উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে কাজ করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

যেসব জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

অনলাইন ডেস্ক
যেসব জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত
ফাইল ছবি

দেশের ৭ জেলার ওপর দিয়ে রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৯টা থেকে রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সরেজমিন : রূপগঞ্জ

এবার মায়ের কবরও বুলডোজারের মুখে

পূর্বাচলে ক্ষতিগ্রস্তরা আবারো উচ্ছেদের মুখে ৩৮.৭৬ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা আতঙ্কে ২০০ পরিবার গোপনে সার্ভের অভিযোগ, গণশুনানি ছাড়াই অধিগ্রহণের প্রস্তুতি ১৬শ'র বেশি ভোটার, শতাধিক কবর ও কৃষিজমি হারানোর শঙ্কায় চার মৌজা আমরা কী এই দেশের মানুষ, নাকি রোহিঙ্গা? - ভুক্তভোগী কাজী আনোয়ার

জায়ান নীল, ঢাকা ও রাসেল আহমেদ, রূপগঞ্জ
এবার মায়ের কবরও বুলডোজারের মুখে

বাড়ির উঠানে পাশাপাশি দুটি কবর। একটি মায়ের, আরেকটি ভাইয়ের। কবর দুটির দিকে কিছুক্ষণ নির্বাক তাকিয়ে থাকেন পঞ্চাশোর্ধ্ব কাজী মাজহারুল আনোয়ার। তারপর ধীরে ধীরে বলেন, ‘পূর্বাচলে আমার দাদা-নানার কবর ছিল। সরকারি অধিগ্রহণের পর সব ভেঙে সেখানে প্লট বানানো হয়েছে। এখন আবার আমার মায়ের কবরও কি একই পরিণতি পাবে?’

বংশ পরম্পরায় পূর্বাচলে বাস করতেন কাজী মাজহারুল। দাদা, নানাসহ পূর্বসুরীদের অনেকের কবর ছিল সেখানে। ১৯৯৩ নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। কবরগুলো মাটির সঙ্গে মিশে হয়ে গেছে প্লট। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁদের ঠাঁই হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়ায়। এক জীবনে একবার নয়, দ্বিতীয়বার ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

1

শুধু কাজী মাজহারুল নন, ফুলবাড়িয়া, শিমুলিয়া, কুলাদি ও ব্রাহ্মণখালী মৌজার অন্তত ২০০টি পরিবারের সামনে এখন একই আশঙ্কা। সরকারি একটি সংস্থার বিশেষ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩৮ দশমিক ৭৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এতে সহস্রাধিক মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি, পারিবারিক কবরস্থান এবং বহু বছরের গড়ে তোলা জীবন-জীবিকা হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় এক ধরনের চাপা উৎকণ্ঠা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে একটাই প্রশ্ন, একবার উচ্ছেদ হওয়ার পরও কি আবারও আমাদের ঘর ছাড়তে হবে?

স্থানীয় বাসিন্দারা কালের কণ্ঠকে বলেন, নব্বই দশকে পূর্বাচল প্রকল্পে সরকারি অধিগ্রহণে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছিলেন তাঁরা। ভেঙে-গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পূর্বপুরুষের কবর, বসতভিটা আর জীবিকার শেষ সম্বলটুকু। নামমাত্র ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটু দূরে সরে গিয়ে নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন নিজেদের অস্তিত্ব। 

2

কিন্তু তিন দশক পর সেই দুঃস্বপ্ন যেন আবারও ফিরে এসেছে। রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও একটি সংস্থার অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের নামে আবারও অধিগ্রহণের মুখে পড়েছে তাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা বসতভিটা ও আবাদি জমি।

সরকারি একটি সংস্থার বিশেষ প্রকল্পের আওতায় শিমুলিয়া, ফুলবাড়িয়া, কুলাদি ও ব্রাহ্মণখালী মৌজার শতবর্ষী বসতভিটা এবং উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, কোনো ধরনের গণশুনানি বা জনমত যাচাই ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নামমাত্র ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে প্রায় সহস্রাধিক মানুষকে আবারও নিঃস্ব করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, দাউদপুরে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় নির্ঘুম রাত কাটছে হাজারো মানুষের। কৃষিকাজই যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই যাদের প্রতিদিনের জীবনযাপন, তাঁদের কপালে দুশ্চিন্তার মেঘ। শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে এখন ফুঁসে উঠেছেন তারা।

4

অধিগ্রহণ করা হবে ৩৮.৭৬ একর জমি

অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাস ধরে সংস্থাটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বেশ কয়েকবার আকস্মিকভাবে এলাকাটি পরিদর্শন ও সার্ভে কাজ পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির দপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ভূমির তফসিল (দাগসূচি) অনুযায়ী, রূপগঞ্জ উপজেলার রঘুরামপুর, ব্রাহ্মণখালী, কুলাদি ও শিমুলিয়া মৌজার মোট ৩৮.৭৬ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রঘুরামপুর মৌজায় ১৯.২১ একর, ব্রাহ্মণখালী মৌজায় ১৫.৮৫ একর এবং কুলাদি মৌজায় ৩.৭০ একর জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কোনো ধরনের জনমত যাচাই বা গণশুনানি ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সার্ভে চালানো হয়। নামমাত্র সরকারি রেটে জমি অধিগ্রহণের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ।

পূর্বাচল থেকে একবার উচ্ছেদ হওয়া সায়েম ভুঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পূর্বাচল থেকে একবার উচ্ছেদ করছে। আবার উচ্ছেদ করার চেষ্টা করতাছে। আমরা কি মানুষ না?’

তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় প্রায় ২০০টি পরিবার বসবাস করে। শতাধিক মানুষের কবরও আছে। ভোটার সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৬০০। তাদের সন্তানসন্তুতি আছে। এরা কই যাবে? কী করে বেঁচে থাকবে। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’

6আরেক ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম মোল্লা আক্ষেপ করে জানান, ‘আমাগো কপাল খারাপ বাজান। উপশহর থেইকা খেদাইয়া দিছে। উপশহরের বাইরে আইয়া বাড়ি করলাম। এহন হুনতাছি সরকারের কারা নাকি আমাগো উচ্ছেদ কইরা দিবো। কন দেহি, আমরা আর কই যামু বাপ?’

কয়েকজন কৃষক জানান, এই মৌজাগুলোয় বাসিন্দাদের অধিকাংশই কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার ফসলি জমিগুলো শুধু জীবিকার উৎস নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্মের টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। নামমাত্র মূল্যে জমি অধিগ্রহণের সরকারি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। 

‘আমরা এই দেশের মানুষ, নাকি রোহিঙ্গা?’

7

জানা গেছে, বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে একবার নিঃস্ব হয়েছিলেন কাজী মাজহারুল আনোয়ার। এখন ফের একই পরিস্থিতির মুখে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফুলবাড়িয়া গ্রামে গেলে আলাপ হয় কাজী মাজহারুল আনোয়ারের সঙ্গে। তাঁর বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়ে নীল পলিথিনে মোড়ানো দুটি কবর।

এ সময় তিনি জানান, পূর্বাচল উপশহর থেকে উচ্ছেদ হয়ে রঘুরামপুর মৌজায় এসে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনেছিলেন। ৫ শতক জায়গার ওপর গড়ে তোলা সেই ছোট্ট ঠিকানাও আজ প্রস্তাবিত প্রকল্পের বুলডোজারের মুখে হুমকির মুখে। ভাগ্য যেন বারবার তার সাথে প্রতারণা করে চলেছে।

চোখেমুখে হতাশা, কপালে দুশ্চিন্তার মেঘ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘আমরা কেমন রাষ্ট্রে বাস করি, যে রাষ্ট্র আমাদের বাসস্থানের নিরাপত্তা দিতে পারে না!’

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কী এই দেশের নাগরিক নাকি রোহিঙ্গা? এইখান থেইকা সরায়ে দিলে আমরা কই যামু?’

7
কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে তিনি কবরের কাছে ছুটে যান। বলেন, ‘আমার দাদা, নানার কবর ছিল পূর্বাচলে। অধিগ্রহণের পর সেগুলো ভেঙ্গে প্লট বানানো হইছে। এখন আমার গর্ভধারিনী মায়ের কবরটার দিকেও ওরা নজর দিলো। আমাদের সরায়ে দিলে মায়ের কবর জিয়ারত কেমনে করমু?’

টানাপোড়েনের সংসার কাজী আনোয়ারের। তাও পিছু হটেননি। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, এক ছেলে ৫ম এবং আরেকজন ১ম শ্রেণিতে পড়ে। বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় প্রথম শ্রেণিতে পড়া কাজী রাফিনের সঙ্গে। সে হিরনাল সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। রাফিনের একটাই ভয়, এখান থেকে উচ্ছেদ করলে তার পড়াশোনার কী হবে।

শিমুলিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আব্দুল মতিন বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটেমাটি আঁকড়ে বেঁচে আছি। এই মাটি ছেড়ে আমরা কোথায় যাব? সরকারি একটি সংস্থা  নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাইছে, যা দিয়ে অন্য কোথাও এক টুকরো জমিও কেনা সম্ভব নয়।’

শুধু ঘর নয়, হারাবে জীবিকাও

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এই চারটি মৌজার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আবাদি জমিই তাদের প্রধান জীবিকা। জমি চলে গেলে শুধু ঘর নয়, কর্মসংস্থানও হারাবে শত শত পরিবার। পুরো এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেবল রঘুরামপুর ও কটিয়াদি এলাকার মৌজাগুলোতেই ভোটার সংখ্যা অন্তত এক হাজার ৬০০। সরকারি এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার, স্থায়ী ঠিকানা ও নাগরিক অস্তিত্ব চরম বিপদের মুখে পড়বে।

প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাই এই এলাকার প্রধান ডেমোগ্রাফিক ভিত্তি। সংস্থাটির সার্ভে টিম বারবার এলাকায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনে স্থানীয় যুবসমাজ ও নারী-পুরুষরা একত্রিত হয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছেন। তাদের স্পষ্ট হুশিয়ারি, জীবন দিয়ে হলেও পৈত্রিক ভিটেমাটি থেকে তাদের হঠাতে দেওয়া হবে না।

বর্তমানে চারটি মৌজায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের গণআন্দোলনের শঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর একটাই দাবি, উচ্ছেদের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকটের সুরাহা দেখছেন না স্থানীয়রা। তারা চান, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তাঁদের ভিটেমাটি অধিগ্রহণ না করে সরকারি খাস জমি কাজে লাগানো হোক।

অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবে প্রশাসন

জানতে চাইলে গতরাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন ধরনের আইন রয়েছে। যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্থানীয় মানুষ যদি আমাদের জানায়, তবে আমরা ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি উত্থাপন করব।’

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ আল সোহান। তিনি কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, এক মাস আগেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার চাইলে ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে, যার জমি নেয়া হবে, তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ক্ষতিপূরণ সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়।’ তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি বা ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একজন মানুষের রক্তের রং যেমন ধর্মভেদে পরিবর্তিত হয় না, তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না। সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন ও সম্মান করতে পারলেই সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

দুর্গাপূজাসহ কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা চাওয়ার প্রয়োজন হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজেকে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ মনে করবেন এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি বিভাজনের অনুভূতি সৃষ্টি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় প্রথমত বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয় ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় হলেও নাগরিক পরিচয় ও অধিকার সবার জন্য সমান।

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো দুর্বৃত্ত কারও বাড়িঘর, উপাসনালয় বা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার সাহস না পায়। সবার জন্য নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দখলকৃত জমির প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, মন্দিরের জমি পুনরুদ্ধারে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। কোনো ভূমিদস্যু, দুর্বৃত্ত বা মাফিয়া চক্রকে মন্দিরের সম্পত্তি স্থায়ীভাবে দখলে থাকতে দেওয়া হবে না।

ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী | কালের কণ্ঠ