নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসছে পে কমিশনের সুপারিশ পুনর্মূল্যায়নে গঠিত সচিব কমিটি। অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকেই নতুন পে স্কেলের রূপরেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সচিব কমিটির সভায় বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হতে পারে। এরপর এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে সচিব কমিটি। পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাবে।
আরো পড়ুন
ডোপটেস্ট নিয়ে কারা অধিদপ্তরের কঠোর বিজ্ঞপ্তি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে সচিব কমিটির সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বৈঠকেই বেতন বৃদ্ধি, ভাতার সমন্বয় এবং পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হতে পারে।’
দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
শুরুতে তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে পে স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে এ জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর নিশ্চিত করেছেন যে নতুন পে স্কেলের বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর না করে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে জটিলতা এড়াতে একবারেই মূল বেতন কার্যকর করাকে যৌক্তিক মনে করছে অর্থ বিভাগ। সে কারণেই পুরো প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছর থেকেই শতভাগ মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে। আর দ্বিতীয় ধাপে, অর্থাৎ ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হতে পারে।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি গেজেটের সম্ভাবনা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুই ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য নবম পে স্কেলের গেজেট প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জারি করা হবে। এ সংক্রান্ত গেজেট জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রকাশ করতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘জুলাইয়ের মাঝামাঝি পে স্কেলের গেজেট জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝামাঝি না হলে এর পরের সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
নতুন পে স্কেলে কোন কোন ভাতা কমছে?
অন্তর্বর্তী সরকারের পে কমিশন বনাম বর্তমান কমিটির খসড়া ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় বেতন কমিশন’ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। যেখানে বিদ্যমান সর্বনিম্ন স্কেল ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাজেট বরাদ্দ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯,৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১,৪১,৪৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৪,০০০ কোটি টাকা মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্যই রাখা হয়েছে।