• ই-পেপার

৮ জাতীয় দিবস বাতিল করে আদেশ জারি

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস
ছবি : কালের কণ্ঠ

সব বিভাগেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমী নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। গভীর নিম্নচাপটি তৎসংলগ পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থান করছে। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

বাসস
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও ভাতা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার এই ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি করেছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

এ ছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। তাদের জন্যও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন হার অনুযায়ী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা,খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ২৩ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সর্বশেষ এই ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে সভা
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
 
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সভায় জাতীয় সংসদের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সাউন্ড সিস্টেমের ওপর একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিকল্প, কারিগরি সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।

উপস্থাপনায় আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, কার্যকারিতা এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে সর্বোচ্চ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে উপস্থিত অতিথিরা তাদের মতামত প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আশ্রয় চাওয়া বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে রাখতে চায় ইউরোপের পাঁচ দেশ

অনলাইন ডেস্ক
আশ্রয় চাওয়া বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে রাখতে চায় ইউরোপের পাঁচ দেশ

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের পাঁচ দেশ। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর আওতায় এ দেশগুলোর কোনোটিতে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। 

বণিকবার্তা এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে, এক্ষেত্রে সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

পাঁচটি দেশের মধ্যে গ্রিস রিটার্ন হাব বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বছর গ্রিসসহ বাকি চার দেশ রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার জন্য তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সামনের বছরই এ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশন থেকেই পাঁচ দেশের এ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এ আইনি কাঠামোয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস সম্ভাব্য হোস্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের নিজ দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের অস্থায়ীভাবে এসব রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং এশিয়ার উজবেকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সক্ষমতা, আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেউই এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় ও বিদেশে কর্মরত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে, তাদের ইইউর বাইরে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা। সেখানে অবস্থান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার খুবই কম, যদিও আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক। বর্তমানে প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩-৪ শতাংশ। তৃতীয় দেশে রিটার্ন হাবে পাঠানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ-সংক্রান্ত রেগুলেশন এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার যে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সেটি কার্যকর হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের নতুন আশ্রয় আবেদন আগের তুলনায় দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আসবে।’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত রিটার্ন রেগুলেশন অনুযায়ী, নতুন আবেদনগুলো প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন এ সময়ের মধ্যে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেশের যুক্তি হলো, বর্তমানে ইইউতে যাদের প্রত্যাবাসন বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমসংখ্যককে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। এতে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে থেকে যান এবং আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। রিটার্ন হাব চালু হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো কার্যকর হবে বলে দেশগুলোর ধারণা।

পরিকল্পনাটি অবশ্য শুরু থেকেই নানা তর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার পাঁচ দেশের সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ ও নন-রিফাউলমেন্ট নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, কার্যকর বিচারিক প্রতিকার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির তাৎপর্য উঠে এসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও আফগানিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোয় ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন। একই সময়ে বাংলাদেশিদের ৪৩ হাজার ৫২৩টি আবেদনের ওপর প্রথম ধাপের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে বছরের শেষে ৪১ হাজার ৬৯২টি আবেদন বিভিন্ন সদস্যদেশে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। একই বছরে ১ হাজার ১৭০টি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

ইইউএএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশবিষয়ক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয় অনেক বাংলাদেশির আশ্রয় আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ এখনো ইইউতে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্যতম বড় উৎস দেশ। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

ইইউর পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ সম্পর্কে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা যোগাযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত রয়েছে। তাই এখন বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার যৌক্তিকতা আমি দেখি না।’

মো. নুরুল হক আরো বলেন, ‘সরকার সবসময়ই অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে। আমরা চাই, সবাই বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে যাক। কিন্তু দেখা যায়, অনেকে অনিয়মিত পথে ইউরোপে গিয়ে পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। আমরা শুরু থেকেই এ ধরনের প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে আসছি।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন কেবল অভিবাসনের একটি পথ হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তি ও দেশ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয় যে এখানে বসবাসের পরিবেশ নেই বা নাগরিকরা নিরাপদ নয়। বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় কমিশনের নতুন রিটার্ন নীতি প্রস্তাব এবং পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ এগুলোর যে কোনো একটি বা একাধিক উদ্যোগ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন নিষ্পত্তি, প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানবতাবিরোধী। প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

ড. তাসনিম সিদ্দিকী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অফশোর প্রসেসিং ব্যবস্থার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের নীতির ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। তাই ইউরোপ যদি একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়, তাহলে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

৮ জাতীয় দিবস বাতিল করে আদেশ জারি | কালের কণ্ঠ