• ই-পেপার

চলতি মাসে গরম থেকে পুরোপুরি নিস্তার মিলছে না

  • আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাত বাড়বে

৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের শতকরা ৬৫ শতাংশ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এর আগে তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির রুটিন সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিইআরসি একটি আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান (জুডিশিয়াল অথরিটি)। তারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে তাদের রুটিন কাজ হিসেবে এই মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে সরকারের সংকল্প ছিল প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। ফলে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়লেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ও তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিত, পরিমাণ ও ধরন তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ২০ বছর ধরে যদি আমাদের দেশের মাটির নিচে আবিষ্কৃত ও চিহ্নিত নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উত্তোলনের সঠিক নীতিমালা থাকত, তাহলে এখন আমাদের এতটা আমদানিনির্ভর হতে হতো না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশসহ সব আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার দেশগুলো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’ পূর্ববর্তী ভুল নীতিমালার কারণেই এখন বৈশ্বিক সংকটে দেশকে এতটা আঘাতপ্রাপ্ত ও সংকুচিত হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন আমদানিকারক দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের বৈশ্বিক মানদণ্ড ও বাধ্যবাধকতা মেনেই মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের চক্র তৈরি করা হয়েছে, তা আপনাদের সামনেই ঘটেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর চক্র থেকে পুরো খাতকে বের করে এনে সুস্থ ধারায় ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে।’ তবে বর্তমান সরকারের সংকল্প অত্যন্ত পরিষ্কার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার একদিকে যেমন জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তেমনি বর্তমানের তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে এখনো ৪১ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খেলাপি ঋণ, মানি লন্ডারিং বা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির (ইনফরমাল ইকোনমি) বিশাল আকারের দিকে তাকালে এই ৪১ হাজার কোটি টাকা কিছুই না। যারা এই অপরাধগুলো করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মালিক হয়েছেন এবং বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, মূলত তাদের সেই অপরাধের বোঝাই আজকের এই সংকটময় ব্যবস্থাপনাকে বহন করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়নে সংকট, উপকূলের ৮২ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়নে সংকট, উপকূলের ৮২ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
ছবি : কালের কণ্ঠ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তাপপ্রবাহ, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ, পানিবাহিত সংক্রমণ, অপুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও সেই তুলনায় স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি ও অর্থায়ন পর্যাপ্ত নয়। উল্টো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের অংশ আরও কমেছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), এইচইকেএস/ইপিইআর এবং সুশীলন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত অঙ্গীকার ও আর্থিক বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, দেশের জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬০ শতাংশেরই বেশি পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ২০২১-২২ অর্থবছরের ২.৭৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশ প্রায় ২.৫ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৫ শতাংশে।

  • উপকূলীয় নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে
  • নিরাপদ পানির সংকটে ৮২.৫ শতাংশ নারী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন
  • জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কমে ১.৯৭ শতাংশে নেমেছে
  • অর্থায়নের ৬০ শতাংশের বেশি এখনো প্রকল্পনির্ভর
  • জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কমছে, অর্থায়নের ৬০ শতাংশের বেশি প্রকল্পনির্ভর; বাড়তি বিনিয়োগের দাবি বিশেষজ্ঞদের

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের প্রকল্পনির্ভর অর্থায়নের ফলে রোগ নজরদারি, জরুরি প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-স্বাস্থ্য গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সহনশীলতা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো প্রয়োজনীয় তহবিল পাচ্ছে না।

গবেষণায় আরও বলা হয়, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ এবং স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এইচএনএপি) স্বাস্থ্য খাতকে অভিযোজনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি। এইচএনএপি-এর হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

অনুষ্ঠানে সিপিআরডি পরিচালিত ‘উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক অপর এক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ পানির তীব্র সংকট এবং দারিদ্র্যের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রায় অর্ধেকই অনিয়মিত মাসিক, তীব্র ব্যথা, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গর্ভপাত, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, সংক্রমণ, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো জটিলতার বিষয়ও উঠে এসেছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮২.৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক নারীর মধ্যে পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি)-এর লক্ষণ এবং গাইনোকোলজিক্যাল সংক্রমণের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

সংলাপে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন এখনো একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন আকর্ষণ করতে হলে শক্তিশালী পরিমাণগত তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।’ ‘জলবায়ু-স্বাস্থ্য আলোচনাকে শুধু নিরাপদ পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মোট জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়। এটি প্রমাণ করে যে জলবায়ু-স্বাস্থ্য কেবল বাংলাদেশেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও অবহেলিত। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি শক্তিশালী অর্থায়ন প্রস্তাব তৈরি এবং তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী বলেন, ‘বৈশ্বিক সরকারি অভিযোজন অর্থায়ন এক বছরে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং ব্যবস্থায় আরও সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও খাতভিত্তিক মালিকানা প্রয়োজন।’ ‘তিনি জলবায়ু-স্বাস্থ্য বাজেটিং প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ অনুবিভাগ প্রধান এ কে এম সোহেল আহমেদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোপুরি মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যার ফলে উদ্যোগগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।’ ‘তিনি উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জলবায়ু গবেষণা সম্প্রসারণ এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা জরুরি, তবেই বৈশ্বিক তহবিল থেকে অর্থ আনা সম্ভব হবে।’

সংলাপ শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারসমূহকে আরও শক্তিশালীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু বাজেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা উন্নত করা, রোগ নজরদারি ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের জন্য পুনরাবৃত্ত অর্থায়ন বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যখাত-নেতৃত্বাধীন অভিযোজন উদ্যোগসমূহের জন্য দেশীয় জলবায়ু অর্থায়নে অধিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় যান চলাচলে বিধি-নিষেধ

অনলাইন ডেস্ক
মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় যান চলাচলে বিধি-নিষেধ

রাত পোহালেই হোম অব ক্রিকেটে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মিরপুর স্টেডিয়ামে। তাই এই ৪ দিন মিরপুরে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-সংলগ্ন প্রশিকা সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

শনিবার (৬ জুন) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৭ জুন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অনুশীলন ম্যাচ ও বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ৯ জুন প্রথম ওয়ানডে, ১১ জুন দ্বিতীয় ওয়ানডে এবং ১৪ জুন তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এ উপলক্ষে উল্লেখিত তারিখগুলোতে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামসংলগ্ন প্রশিকা সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার, নগরবাসী ও যানবাহন চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছে। মিরপুর-১ অভিমুখে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে প্রশিকা ক্রসিং-শিয়ালবাড়ী ক্রসিং-রাইনখোলা-ঈদগাহ মাঠ হয়ে মিরপুর-১ এলাকায় চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার।

বাড়ছে মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি

পাঁচ বছরে কমেছে জলবায়ু-স্বাস্থ্য বরাদ্দ, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাঁচ বছরে কমেছে জলবায়ু-স্বাস্থ্য বরাদ্দ, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা ক্রমেই জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপুষ্টি, অনিরাপদ স্যানিটেশন এবং জলবায়ুজনিত দারিদ্র্যের কারণে মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু-সম্পর্কিত বাজেট বরাদ্দ উল্টো কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মানবিক মূল্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য খাত, কিন্তু জাতীয় বাজেট ও জলবায়ু অর্থায়নে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক নীতিসংলাপে এসব তথ্য ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), এইচইকেএস/ইপিইআর এবং সুশীলনের যৌথ উদ্যোগে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সম্পর্কিত বরাদ্দ ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশও প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার কথা বিবেচনায় নিলে বরাদ্দ বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটি। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট নতুন স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারছে না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের গভর্ন্যান্স, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন সুলতানা লিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। এ বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক তথ্যকে কার্যকর নীতি এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে স্বাস্থ্য খাতের জন্য অধিক অর্থায়ন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

নীতিসংলাপে সিপিআরডির দুটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা দুটির শিরোনাম ছিল ‘উপকূলীয় নারী ও কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন’ এবং ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব আর্থিক চিত্র’।

গবেষণায় উঠে আসে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং নিরাপদ পানির অভাব তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীরা জানিয়েছেন, তারা অনিয়মিত ঋতুস্রাব, তীব্র মাসিকব্যথা, গর্ভপাত, প্রি-এক্লাম্পসিয়া, প্রসবকালীন জটিলতা, প্রসব-পরবর্তী সংক্রমণ এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ নানা ধরনের প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক জটিলতারও জন্ম দিচ্ছে।

গবেষকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে সাধারণত কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা বা অবকাঠামোর ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধভাবে দেখা হয়। অথচ নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং শিশুস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলের (বিসিসিটিএফ) অর্থায়নেও স্বাস্থ্য খাত তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত। তহবিলটির মোট অর্থায়নের ১ শতাংশেরও কম স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে।

২০২৪ সাল পর্যন্ত বিসিসিটিএফ-এর আওতায় অর্থায়ন পাওয়া ৮৭৭টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র তিনটি বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট চিত্র।

বক্তারা বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৩-২০৫০-এ স্বাস্থ্যকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু সেই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রতিশ্রুতি এখনো দৃশ্যমান নয়।

স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এইচএনএপি) অনুযায়ী, জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এই অর্থ ব্যবহার করা হবে স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, রোগ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জরুরি প্রস্তুতি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত গবেষণা সম্প্রসারণে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বর্তমানে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার ৬০ শতাংশের বেশি উন্নয়ন প্রকল্পে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে রোগ নজরদারি, দুর্যোগ প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন সক্ষমতা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত তুলনামূলকভাবে কম অর্থায়ন পাচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহের জন্য শক্তিশালী ও তথ্যসমৃদ্ধ জলবায়ু-যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। কারণ বৈশ্বিক অভিযোজন অর্থায়ন এক বছরে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার কমে গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নিজস্ব অর্থায়ন সংগ্রহ সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে আসে। ফলে স্বাস্থ্য খাত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে তথ্য-উপাত্তের ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া শক্তিশালী অর্থায়ন প্রস্তাব তৈরি করা এবং কার্যকর নীতি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেল বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার মূলধারায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে বিভিন্ন উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন কমে যাওয়ার এই সময়ে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে আরো সহনশীল করে তুলতে হবে।

সংলাপের শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য একগুচ্ছ সুপারিশ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলো বাজেট প্রক্রিয়ায় আরো শক্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু বাজেট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, রোগ নজরদারি ও জরুরি প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত অর্থায়ন বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্য খাতের অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য দেশীয় জলবায়ু তহবিলে অধিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

চলতি মাসে গরম থেকে পুরোপুরি নিস্তার মিলছে না | কালের কণ্ঠ