• ই-পেপার

শাহীন কলেজের সামনের ফুটওভার ব্রিজে এস্কেলেটর বসানো হবে : মেয়র আতিক

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

বাসস
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’

তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।

তিনি আরো বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ হলো: সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যে কোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলি কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’

তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি’।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যগণ পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’

এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ’ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদাতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এ ছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যে কোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।

তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্যা মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্যা লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তাগণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ-ইউএনওপিএস সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ-ইউএনওপিএস সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা কার্যালয়ের (ইউএনওপিএস) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও ইউএনওপিএসের চলমান সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

রবিবার (২৬ জুলাই) জাতীয় সংসদে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে আগামী ৮ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ‘এসডিজি স্থানীয়করণ বিষয়ক জাতীয় প্রচার অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেয়। আগামী ৮ আগস্ট ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘এসডিজি স্থানীয়করণ বিষয়ক জাতীয় প্রচার অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানিয়ে আমন্ত্রণের জন্য প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান কায়সার কামাল।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমতাভিত্তিক সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কার্যকর ও শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে যুগোপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন। এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিনিধিদল স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদের ভূমিকার প্রশংসা করে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইএফআরসি প্রধানের বিদায়ি সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইএফআরসি প্রধানের বিদায়ি সাক্ষাৎ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) প্রতিনিধিদলের প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রার সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হ‌য়। 

বিদায়ি সাক্ষাতে বোকানেগ্রার প্রতিমন্ত্রীকে আইএফআরসি-র প্রধান মানবিক কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে তার শাসনামলে অর্জনের বিষয়ে ব্রিফ করেন, দুর্যোগের প্রস্তুতি, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় সংস্থার সহায়তার কথা তুলে ধরেন। 

তিনি তার মেয়াদকালে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সমর্থন এবং গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বোকানেগ্রার তার মেয়াদ সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে আইএফআরসির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএফআরসির দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ও মানবিক সহায়তায় মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করেন। 

প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য জলবায়ু-জনিত জরুরি পরিস্থিতিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আইএফআরসির টেকসই সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রতিক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

তিনি নারী ও শিশুদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইএফআরসির মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। 

সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলবার্তো বোকানেগ্রার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন এবং তার উত্তরসূরির নেতৃত্বেও বাংলাদেশ ও আইএফআরসির অংশীদারি আরো শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি : আইএসপিআর

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। আজ রবিবার (২৬ জুলাই) বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তারা বাহিনীদ্বয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, নৌবাহিনী প্রধান বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে এসে পৌঁছালে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় তিনি গার্ড অব অনার পরিদর্শন করত সালাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নৌবাহিনী প্রধান বিমানবাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এ সময় বিমানবাহিনী প্রধান, বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের আবহে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎ বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মধ্যকার বিদ্যমান আন্তঃবাহিনী সহযোগিতা, আস্থা এবং পেশাদার সম্পর্কের এক সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

শাহীন কলেজের সামনের ফুটওভার ব্রিজে এস্কেলেটর বসানো হবে : মেয়র আতিক | কালের কণ্ঠ