• ই-পেপার

জুন পর্যন্ত খাদ্য নিয়ে শঙ্কা নেই

ওআইসি সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল

বাসস
ওআইসি সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী নারী বিষয়ক নবম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল যোগদান করেছে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামাবাদের জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে ১২ ও ১৩ জুলাই দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুল হক। এ ছাড়া পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খানও এ সম্মেলনে যোগদান করেন।

এ সম্মেলনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলনের সাইডলাইনে গতকাল সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট যাহ্রা বেহেরোজ আযারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান এবং ইরানের ডেপুটি হেড অব মিশন নাবি ওল্লাহ সিরাজি।

বৈঠকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক সমাজ গঠনে ইসলামিক উম্মাহর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় মন্ত্রী বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশে নারী উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। নারীদের উন্নয়নে সাম্প্রতিক চালুকৃত ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু এবং সামাজিক উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি নারীর উন্নয়নে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নারীর উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের নারীদের অগ্রগতির বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি নারীর উন্নয়নে মুসলিম উম্মাহর একসঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন এবং মন্ত্রীকে ইরান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

দ্বৈত দায়িত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী : কূটনৈতিক অর্জনের সমান্তরালে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বৈত দায়িত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী : কূটনৈতিক অর্জনের সমান্তরালে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পরীক্ষা
ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। এটি শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাই বাড়ায়নি, বরং জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি একই সময়ে দেশের পররাষ্ট্রনীতি কার্যকরভাবে পরিচালনা করার পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারবেন?  

এই বিতর্ক কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে নয়। এটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি এবং সুশাসনের প্রশ্ন। মূল বিষয় হলো বর্তমান এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সত্যিই সবচেয়ে কার্যকর কি না।  

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং সব গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে একটি পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ যেন ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখে। একই সঙ্গে দেশের পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত যেন বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় অগ্রাধিকারকে সামনে রেখেই নেওয়া হয়। এ ধরনের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। 

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আলোচনা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, অভিবাসন, জলবায়ু কূটনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকট। এসব বিষয়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর মধ্যে নিয়মিত ও সমন্বিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের যুক্তি এই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ দিয়েছেন, যিনি ১৯৮৬-৮৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন। একইভাবে মালদ্বীপের আবদুল্লা শহীদ ৭৬তম অধিবেশনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও আবদুল্লা শহীদ দুজনই ছিলেন পেশাদার রাজনীতিবিদ। কিন্তু খলিলুর রহমান পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কয়েকজন সভাপতি নির্বাহী সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার পর এই পদে দায়িত্ব নিয়েছেন। এসব ভিন্ন উদাহরণ দেখায় দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা সম্ভব হলেও বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। এটি আরো বড় একটি প্রশ্ন সামনে আনে-আগের পরিস্থিতিতে যে ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, বর্তমানের অনেক বেশি জটিল কূটনৈতিক পরিবেশেও কি সেটিই সবচেয়ে কার্যকর মডেল?

কোনো কিছু করা সম্ভব হওয়া আর বাস্তবে তা কার্যকরভাবে করা এই দুইয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। এই পদে থাকা ব্যক্তি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় সমন্বয় করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সারা বছরজুড়ে বিস্তৃত কূটনৈতিক তৎপরতায় অংশ নেন। 

একই সময়ে একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমে প্রতিদিন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিতে হয়। একজন মন্ত্রী সরকারের, সংসদের এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছে রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ থাকেন। কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়, দেশের ভেতরেও ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন ও সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেগুলোর কারণে এই বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

দেশের পররাষ্ট্রনীতি কতটা কার্যকর তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে ভিত্তি করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানিসম্পদ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সীমান্তে হত্যা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এসব বিষয়ে অগ্রগতি আনতে ধারাবাহিক রাজনৈতিক মনোযোগ এবং উচ্চ পর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন হলে সরকারের অগ্রাধিকার, সময়সূচি এবং কী ফল অর্জিত হচ্ছে সে বিষয়ে জনগণ ও সংসদের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে।

গণমাধ্যমের একটি অংশ এবং উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে এমন আলোচনা রয়েছে যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে ভারতের ভোটকে ঘিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অনুভূতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না। তবে এ ধরনের দাবি থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। কিন্তু এর বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, স্বল্পমেয়াদি ধারণা বা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয়।  

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা এবং কৌশলগত শৃঙ্খলা প্রয়োজন। একই সময়ে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার জন্য স্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক তদারকি অপরিহার্য। এ কারণেই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। যদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করেন, তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিদিন কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। 

মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমের দায়িত্ব কে পালন করবেন? গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর সমন্বয় কীভাবে হবে? আর যদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বছরের বড় একটি সময় বিদেশে থাকেন তাহলে সংসদ কীভাবে মন্ত্রণালয়ের ওপর কার্যকর তদারকি করবে? এগুলো কোনো রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্ন নয়। প্রশ্নগুলো সুশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পেশাগত দক্ষতা—দুইটিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পেশাদার কূটনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে দেশের জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে কূটনীতিকরা সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন। আর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার ফলাফলের জন্য জবাবদিহি করে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি সম্মানের বিষয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার একটি সুযোগ। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই অর্জনকে স্বাগত জানানো উচিত। তবে আন্তর্জাতিক মর্যাদার সঙ্গে দেশের সুশাসনের প্রয়োজনেরও ভারসাম্য থাকতে হবে। মূল প্রশ্নটি একজন ব্যক্তি কৌশলগতভাবে বা নিয়ম অনুযায়ী দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদ একসঙ্গে রাখতে পারেন কি না, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ এই দু’টি দায়িত্ব একজনের ওপর অর্পণ করা হলে তা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা করবে কি না।  

শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ওপর। দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, কার্যকর দায়িত্ব অর্পণ এবং জবাবদিহি সফল রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য ভিত্তি। বাংলাদেশ যখন ক্রমেই আরো জটিল আন্তর্জাতিক পরিবেশের মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা ধারাবাহিক, লক্ষ্যভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব দিতে পারে। বাংলাদেশের কূটনীতির সাফল্য শুধু বিদেশে দেশের প্রতিনিধিদের পরিচিতি বা গুরুত্বের ওপর নির্ভর করবে না। বরং দেশে তাদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার শক্তির ওপরও তা অনেকটাই নির্ভর করবে।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গত ২৫ বছরে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ধারাবাহিকতায় ‘অ্যাম্বাসাডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, এএফসিপির অর্থায়নে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের ইসলামিক স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া এ তহবিলের সহায়তায় পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, লালবাগ কেল্লার একটি অংশ সংরক্ষণ, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের আধুনিকীকরণ এবং বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প ও প্রাচীন ধাতব ঢালাইয়ের মতো বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও দলিলকরণের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

বৈঠকে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা, যৌথভাবে ‘ইউএস-বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভাল’ আয়োজন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পী বিনিময় কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।

lll
ছবি: কালের কণ্ঠ

বৈঠকে সংস্কৃতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং আসন্ন ‘নজরুলবর্ষ’-এর বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংরক্ষণ ও অনুবাদ প্রসঙ্গে আলোচনা হলে রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস নজরুলের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী।

বৈঠক শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন।

উগ্রবাদ রুখতে মডেল মসজিদগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে : ধর্মমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
উগ্রবাদ রুখতে মডেল মসজিদগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে : ধর্মমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার কিছু এলাকায় তরুণ সমাজকে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানান ধর্মবিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে সংসদে প্রশ্নোত্তর উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানতে চান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার আংশিক এলাকায় ধর্মীয় উগ্রবাদ, গুজব ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের জন্য সচেতনতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা এবং সম্প্রীতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?

জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অক্ষুন্ন রাখা। এ উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বহুমুখী সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। তরুণ সমাজকে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন থেকে দূরে রেখে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, সহনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

একই প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, যুবসমাজের মধ্যে উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে স্থানীয় আলেম, ইমাম ও খতিবদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে জুমার খুতবা, নিয়মিত ধর্মীয় সেমিনার, আলোচনা সভা ও সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে ধর্মের অপব্যাখ্যা, উগ্রবাদ, গুজব ও সামাজিক বিভেদের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তরুণদের সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর নেতাদের অংশগ্রহণে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সভারও আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভবিষ্যতে যুবসমাজের জন্য নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় সচেতনতা ও সামাজিক সম্প্রীতিবিষয়ক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে বিভিন্ন ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টও নিজ নিজ পরিসরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পুরোহিত ও সেবাইতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিক মূল্যবোধ ও উগ্রবাদ প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ছাত্র-যুবকদের জন্য নিয়মিত নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সম্প্রীতিবিষয়ক কর্মশালা আয়োজন ও বাস্তবায়ন করছে। 

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা আরো জোরদার করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উগ্রবাদ প্রতিরোধ, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের চলমান কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৯ জনের অনুকূলে সম্মানি দেওয়া হয়েছে।

জুন পর্যন্ত খাদ্য নিয়ে শঙ্কা নেই | কালের কণ্ঠ