• ই-পেপার

বৃষ্টি কমতে লাগতে পারে ৩ দিন

খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত

দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করে খেলার মাঠ সংস্কার, উন্নয়ন বা প্রতিষ্ঠার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, উন্মুক্ত খেলার স্থান সংকোচন এবং অতি-নগরায়ণের ফলে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, খেলাধুলার সার্বিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত মাঠের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই। এই কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রীসহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারাদেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে।

তিনি আরো জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত ৮ বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ভূমি একটি সীমিত জাতীয় সম্পদ হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো বিদ্যমান খেলার মাঠ নেই, সেখানে ভবিষ্যতে মাঠ প্রতিষ্ঠার জন্য কোনোভাবেই কৃষি জমি বিপন্ন করা যাবে না। কৃষি জমি রক্ষা করে ইউনিয়নের অধিভুক্ত এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বা গ্রোথ সেন্টারের নিকটবর্তী স্থানে সরকারি খাসজমি থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ন্যূনতম ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে দেশের আটটি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' কর্মসূচি চালু করেছে এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ক্রীড়াবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খেলার মাঠ এবং আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যবান, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে যুগান্তকারী অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব, বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব, বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্মরণে আগামীকাল বুধবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।

সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোক প্রস্তাবটি কাতার সরকার এবং ঢাকাস্থ কাতার দূতাবাসে পাঠানো হবে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য শামীম কায়সার মোনাজাত পরিচালনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে মারা যান কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন তিনি। তার নেতৃত্বে জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ কারণে তাকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেখ হামাদ বর্তমান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির বাবা।

দেশে ১০১টি পার্ক নির্মাণ করবে সরকার : গৃহায়ণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ১০১টি পার্ক নির্মাণ করবে সরকার : গৃহায়ণমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা জাকারিয়া তাহের বলেছেন, ‘পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের তীব্র সংকট নিরসনে সারা দেশে ১০১টি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জাকারিয়া তাহের বলেন, ১০১টি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে দেশব্যাপী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

তিনি জানান, রাজধানীর ফার্মগেটে আনোয়ারা উদ্যানে একটি পার্ক নির্মাণ, রামপুরা, খিলগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা এবং খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি খেলার মাঠ উন্নয়ন, পাশাপাশি খিলগাঁওয়ে ঈদগাহ, পার্ক ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে দুটি এবং কক্সবাজারে দুটি পার্ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার রমনা পার্ক আধুনিকায়নের কাজ শেষ করে তা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দায় আরো একটি পার্ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে সরকার সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বহুতল ভবন নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া নগর উন্নয়ন প্রকল্পে আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, স্বতন্ত্র পয়ঃশোধনাগার (এসটিপি) এবং পর্যাপ্ত সবুজায়নের ব্যবহারে সরকার উৎসাহিত করছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় অক্সফামের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় অক্সফামের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ
সংগৃহীত ছবি

টানা ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জেলার মানুষদের সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ।

পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে ৩০ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এসব কথা জানায়।

অক্সফাম জানায়, ১৪ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জন আহত হয়েছে। হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, বাঁধ, কৃষিজমি, পানির উৎস, শৌচাগার ও মৎস্য খামার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৩ হাজার ৫০০টি পানির উৎস ও ১২ হাজার ৪০০টি শৌচাগার নষ্ট হওয়ায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত বলেন, বন্যার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও আয়ের উৎস হারিয়েছে এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবিরে সীমিত নিরাপদ আশ্রয়, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল ও ভূমিধসের ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

সংস্থাটি জানায়, চট্টগ্রামে জরুরি খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও মর্যাদা সুরক্ষা কিট বিতরণের পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পরিবারপ্রতি ৮ হাজার টাকা করে বহুমুখী নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ খাদ্য, ঘর মেরামত, চিকিৎসা, যাতায়াত ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে ব্যয় করা যাবে।

কক্সবাজারে অক্সফাম ও এর অংশীদাররা ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।

স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই আরো বেশি মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে দাতা সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অনিল পান্ত।

বৃষ্টি কমতে লাগতে পারে ৩ দিন | কালের কণ্ঠ