kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

রাজধানীতে হয়রানির শিকার সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুন, ২০২১ ২১:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীতে হয়রানির শিকার সাংবাদিক

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার হয়েছেন সারাবাংলা ডটনেটের সিনিয়র রিপোর্টার এমদাদুল হক তুহিন। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ছবি তুলতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়, কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল। পুলিশ বলছে, সাংবাদিক পরিচয় জানার পর এ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টে তেজগাঁও থানা পুলিশের হাতে তিনি হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।

এমদাদুল হক তুহিন জানান, সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ কিভাবে পালন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন করতে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। সেখানে মোটরসাইকেলে চালকের সঙ্গে আরোহী থাকলে চেকপোস্টে থামিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছিল। কোনো কোনো বাইক চেকপোস্ট গেলে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তেজগাঁও থানার পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার লাঠি দিয়ে যাত্রীদের আঘাত করছিলেন। যাত্রীদের ওপর অমানবিক এই নির্যাতনের ছবি তোলার কারণে আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে তার দিকে তেড়ে এসে মোবাইল কেড়ে নেয় এবং পেছন থেকে তুহিনের কলার চেপে ধরেন তেজগাঁও থানার উপপরির্দশক (এসআই) শরিফুল ইসলাম। 

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি ভিডিও করেছেন। টের পেয়ে পেছন থেকে তাকে ধরেছি। তবে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরই আমি তাকে ছেড়ে দেই। যদি তার আইডি কার্ড ঝুলানো থাকত, তাহলে আমি তাকে ধরতাম না। যাইহোক, পরে তদন্ত (পুলিশ পরিদর্শক) স্যার এসে ঘটনা শোনেন। এসময় তার ফোন ফেরত দেওয়া হয়। স্যারের উপস্থিতিতে আমরা তার কাছে দুঃখপ্রকাশও করেছি। তবে তিনি হয়তো মনের ভেতরে ক্ষোভ রেখে দিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।’

তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, ‘একজন পুলিশ সদস্যের দায় সবার ওপর বর্তায় না। আর তার (এমদাদুল হক তুহিন) সঙ্গে অন্যায় করে থাকলে তিনি থানায় অভিযোগ করতে পারেন। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’ 

এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক এমদাদুল হক তুহিনকে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ রিপোটার্স ফোরাম (জিএমআরএফ) ও বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ)। সংগঠন দুইটির মধ্যে এমদাদুল হক তুহিন জিএমআরএফের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং বিএজেএফের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

জিএমআরএফ সভাপতি কবির আহমেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক রুকনুজ্জামান অঞ্জন এ ঘটনায় দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লকডাউন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। কোনোভাবেই যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’ তারা এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

বিএজেএফ সভাপতি গোলাম ইফতেখার মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদ শাহীন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুরো ঘটনা তদন্ত করে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিএজেএফ নেতাদের প্রত্যাশা- লকডাউন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করবে।



সাতদিনের সেরা