বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই ঘরে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন তার বোন মাছুমা হাদি। তিনি বলেন, আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে বিচার বিলম্বিত করা হলে দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো মূল্যে বিচার আদায় করা হবে।
সোমবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বক্তব্যে কী ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান মাছুমা হাদি।
মাছুমা হাদি অভিযোগ করেন, বারবার কেন চার্জশিট দাখিলের তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে? কূটনৈতিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের রহস্য উদ্ঘাটন করা না গেলে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এর সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি শুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীরকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এবং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে মাছুমা হাদি বলেন, হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে আজ অবধি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির সামনে কোনো ধরনের বার্তা দিতে পারেননি। তিনি এটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সব তথ্য ও আপডেট জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানান। অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মাছুমা হাদি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের পরিবারের বিনীত অনুরোধ, আপনি অতিদ্রুত আমার ভাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইনসাফের প্রতীক ওসমান হাদি হওয়ার সুযোগ করে দিন।
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উদাসীনতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর খুনিরা কিভাবে ভারতে পালিয়ে গেল? এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী বা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতাসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে চার্জশিটভুক্ত করে জাতির সামনে তাদের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাদির ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।







