• ই-পেপার

সব বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ক্ষতিপূরণ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়, সরকারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষতিপূরণ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়, সরকারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত
ফাইল ছবি

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেবে, কী পরিমাণ দেবে সেটি তাদের বিষয়। তবে সরকার তার অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আইনজীবী নিয়োগ করে শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে, সে ব্যাপারে সরকারের কিছু বলার নেই। তবে এর কারণে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না।

আজ সোমবার নিজ মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক অনুদান হিসেবে ১ লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরো দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে সরকার এক বিন্দু পিছপা হবে না।

মন্ত্রীর দাবি, বাংলাদেশের ওষুধ ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরো বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।

‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সংসদে বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন

অনলাইন ডেস্ক
সংসদে বাজেট উপস্থাপন ১১ জুন

আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। এর আগে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ৭ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবেলা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি, সুদ পরিশোধের চাপ এবং সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের কারণে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

মূলত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি বাজেটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী অর্থবছর মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে।

ক্যান্সার-কিডনিসহ ৬ রোগের চিকিৎসায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সার-কিডনিসহ ৬ রোগের চিকিৎসায় সাড়ে ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত অসহায় ও দুঃস্থ  মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের চতুর্থ কিস্তিতে ৪৯ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই অর্থ দেশের ৬৩ জেলার ৯ হাজার ৮৮৯ জন রোগীর মধ্যে বিতরণ করা হবে।

চিকিৎসা ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে সরকারের এই সহায়তা কর্মসূচি হাজারো দরিদ্র রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অনেক পরিবারকে জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ কিংবা সঞ্চয় ভেঙে ফেলতে হয়। সরকারের এ আর্থিক সহায়তা তাদের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রতিটি আবেদন যথাযথভাবে যাচাই করার পরই তা অনুমোদন দেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ হয়ত সীমিত, কিন্তু দরিদ্র রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার চায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে এই অর্থ পৌঁছে দিতে। সে কারণেই বরাদ্দ অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থ ছাড় এবং বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আবেদনের পর রোগীদের সরকারি অর্থ সহায়তা পেতে বিলম্ব হয়—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পরপরই আবেদন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না।

তিনি বলেন, অনেক রোগী দেরিতে সহায়তার জন্য আবেদন করেন। তখন চিকিৎসা করে রোগ নির্মূলের সময়ও হয়ত থাকে না। তাই রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করা প্রয়োজন। তাই রোগী, স্বজন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সীমান্ত সম্মেলন

পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যায় কড়া জবাব দেবে বিজিবি

অনলাইন প্রতিবেদক
পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যায় কড়া জবাব দেবে বিজিবি

পুশ ইন, হত্যাসহ সীমান্তে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসছে বিজিবি-বিএসএফ। সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী এ সীমান্ত সম্মেলন। বর্তমান সরকারের আমলে এটিই প্রথম সীমান্ত সম্মেলন। এ সম্মেলন দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) বিএসএফের দফায় দফায় চেষ্টা এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ঢাকায় বসছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে নয়াদিল্লিকে কড়া বার্তা দিতে চায় ঢাকা।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত মাত্র চার দিনে ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর (বঙ্গাবাড়ী), নওগাঁর সাপাহার (হাপানিয়া), লালমনিরহাটের বরখাতা ও পাটগ্রাম এবং পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে সরাসরি বিএসএফের সহায়তায় অন্তত ২৩টি পুশ ইনের ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে দুই শতাধিক মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিজিবির দৃঢ় তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার পর থেকে দেশের সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বিজিবি সদস্যদের সশস্ত্র অবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বিজিবি সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম জানান, এবারের সম্মেলনে বিজিবির মূল এজেন্ডাই থাকবে সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন। কেউ বাংলাদেশি হলে তাকে গ্রহণে বাংলাদেশের আপত্তি নেই, তবে তার জন্য দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে পুশ ইন করা আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এবারের সম্মেলনে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা ছাড়াও বিজিবির এজেন্ডায় থাকছে, ভারতীয় ড্রোন ও হেলিকপ্টার কর্তৃক বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কড়া প্রতিবাদ। পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড়িয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি ঘোষণা করবে বিজিবি। পাশাপাশি, আগরতলার শিল্পবর্জ্য বাংলাদেশের আখাউড়ায় প্রবেশ ঠেকাতে ভারতীয় খরচে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হবে।

এর বাইরেও মাদক চোরাচালান বন্ধ, অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন, স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্ধারণ, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ করা এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে সীমান্তকেন্দ্রিক উসকানিমূলক ও মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

চার দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। এতে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদলে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। আগামী ১১ জুন যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।