• ই-পেপার

পানি বাড়ছে দেশের প্রধান নদ-নদীতে

কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা

করে পিষ্ট জনগণ, ঋণে কাবু দেশ

এম সায়েম টিপু
করে পিষ্ট জনগণ, ঋণে কাবু দেশ

প্রায় দুই দশক পর বিএনপি জোট ক্ষমতায়। নেতৃত্বেও আমূল পরিবর্তন। দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্থলে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে তারেক রহমান। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর দলটি চালকের আসনে। তাই রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণের অপার সুযোগ তাদের সামনে। মানুষের জন্য কত কী যে করার ইচ্ছা! কিন্তু বাদ সেধেছে সক্ষমতা। অনেকটাই ভঙ্গুর অর্থনীতির বোঝা। এর মধ্যেই এলো বাজেট। তহবিলে টানাটানি। তাতে কি? প্রবৃদ্ধি টেনে তুলতে হলে খরচ তো করতে হবে। তাই আগের ঋণের বোঝার পরও সরকার আরো ঋণ নেওয়ায় সাহসী হয়েছে। ফলে ঋণে ভর করেও ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মহা বাজেটের পরিকল্পনা। 

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বিনিয়োগ যখন খাদের কিনারে, রাজস্ব আদায় হচ্ছে না ঠিকমতো, তার পরও বিপুল কর আদায়ের উচ্চাকাক্সক্ষা। কর থেকেই প্রায় সাত লাখ কোটি টাকা জোগাড়ের লক্ষ্য। আর তাই ঋণ ও করের সম্মিলিত তহবিলে বাজেটটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা আজই সংসদে তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওই পরিকল্পনার নথি ও আগাম তথ্য কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। সেটি পর্যালোচনা করে জানা যায়, তারেক রহমানের সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রচেষ্টা থাকছে বাজেটে। কিন্তু সক্ষমতা সীমিত। তাই ধারকর্জ আর রাজস্বের উচ্চাভিলাষী আদায়ের ওপর ভরসা করেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও ইচ্ছা পূরণ করতে চায় সরকার। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক ঋণের চাপের মধ্যে ঘোষিত এই বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বত্তৃদ্ধতা থেকে জানা যায়, ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধির দ্বৈত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নীতিনির্ধারকদের আশা, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারলে অর্থনীতির স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন গতি ফিরে আসবে।

এবারের বাজেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ‘নতুন ব্যবসা, নতুন ধারণা ও নতুন প্রজš§’কে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপরেখা। প্রথমবারের মতো ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অংশ করা হচ্ছে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল কনটেন্ট, সংস্কৃতি, গবেষণা, স্টার্টআপ ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পকে আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বাজেটে এসেছে ‘বিনিয়ন্ত্রণ’ বা ডিরেগুলেশনের ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদার স্বাধীনতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।

জনজীবনের চাপ কমাতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর ঘোষণা আসছে। বাজারে সরবরাহ ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি। সরকারের ধারণা, ডিজিটালভিত্তিক এই কর্মসূচিগুলো সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর করবে।

উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, গবেষণা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাজস্ব আহরণ। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি এরই মধ্যে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, করজাল সম্প্র্রসারণ, রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও কর ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক উৎস থেকেও উল্লেখযোগ্য ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ এক লাখ ২৭ হাজার ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য অস্থিরতার মধ্যে এই ব্যয়কে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য মনে করছে সরকার।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিএনপি সরকারের জন্য যেমন অর্থনৈতিক পথনকশা, তেমনি রাজনৈতিক সক্ষমতারও প্রথম বড় পরীক্ষা। সৃজনশীল অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, বড় বাজেট ঘাটতি এবং ঋণনির্ভর অর্থায়নের বাস্তবতা সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১০ মন্ত্রণালয় : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর তালিকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, মানুষের আয় কমেছে, কিন্তু নতুন করদাতা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে একই করদাতাই বারবার করের বোঝা বহন করছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বর্তমানে পুরো অর্থনীতি নানা ধরনের চাপের মুখে রয়েছে, আর ব্যবসায়ীরাও কঠিন সময় পার করছেন। তাই ব্যবসা সহজীকরণের পাশাপাশি অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে এবং বাস্তবসম্মত একটি বাজেট প্রণয়ন জরুরি। আর্থিক খাতও প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই। এ কারণে ব্যবসা, সামগ্রিক অর্থনীতি এবং মানুষের ব্যয়ক্ষমতাকে বিবেচনায় রেখে নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রয়োজন হলে উপযুক্ত প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা উচিত।

রাজস্ব খাত বিশ্লেষক ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, আগামী অর্থবছরে এনবিআরের ছয় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জোরালো কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। তাঁর মতে, ভ্যাট ও আয়করে বিদ্যমান করছাড় যৌক্তিকীকরণ এবং বিপুল পরিমাণ বকেয়া রাজস্ব আদায়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি ভ্যাট ও করপোরেট করহার বাস্তবসম্মত করা, উৎসে কর কর্তনের কার্যকর তদারকি, রিটার্ন দাখিলে পরিপালন নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। লক্ষ্য বাড়ানোর চেয়ে করভিত্তি সম্প্রসারণ, নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্তি, কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং কর প্রশাসনের ডিজিটাল সক্ষমতা জোরদার করাই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

শেষ পর্যন্ত এই বাজেটের সাফল্য নির্ধারিত হবে ঘোষণার জৌলুসে নয়, বাস্তবায়নের সক্ষমতায়। কারণ আজকের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের দলিল নয়, এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের যাত্রার প্রথম বড় পরীক্ষা। 

নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও ৯৮ শতাংশ দোকানিতে চলছে পলিথিনের ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও ৯৮ শতাংশ দোকানিতে চলছে পলিথিনের ব্যবহার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ। তবে নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও দেশের অধিকাংশ খুচরা দোকানে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। মাত্র ২ শতাংশ দোকানি পলিথিনের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহার করেন। বাকি ৯৮ শতাংশ দোকানি এখনো ক্রেতাদের পলিথিন ব্যাগ দিচ্ছেন।

পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বিয়ন্ড দ্য ব্যান: আনপ্যাকিং পলিথিন ডিপেন্ডেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেই এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি বিক্রেতা প্রতিদিন ৫০টিরও বেশি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করেন। অথচ ৬৩ শতাংশের বেশি বিক্রেতা জানেন, পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।

দেশের শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার দুই হাজারের বেশি ভোক্তা ও বিক্রেতার ওপর পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, কম দাম, সহজলভ্যতা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে পলিথিনের ব্যবহার কমছে না। এ ছাড়া আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, আইনি ফাঁকফোকর, সাশ্রয়ী বিকল্পের অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাও এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উচ্চশিক্ষাও পরিবেশবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে পারেনি। শহরের শিক্ষিত ভোক্তাদের মধ্যেও পলিথিন ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। এমনকি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারকারীদের অনেকেই পুরোপুরি পলিথিন বর্জন করতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব সৈয়দ মারগুব মোরশেদ ও এসডোর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ একসময় বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল। এখন চ্যালেঞ্জ হলো এ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ।’

এসডোর সাধারণ সম্পাদক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘পলিথিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এখনো দুর্বল।’ তিনি বলেন, ‘আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতার জন্য সরকার যেমন দায়ী, তেমনি উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, ‘পলিথিন উৎপাদনকারী সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আরও কঠোর প্রয়োগনীতি প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অনেক সময় অভিযান পরিচালনায়ও বেগ পেতে হয়।’

গবেষণায় পরিবেশগত শিক্ষা জোরদার, আইন সংস্কার, কঠোর নজরদারি, সাশ্রয়ী বিকল্পের সহজলভ্যতা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, পলিথিন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, দেশের পরিবেশগত সুশাসনের দুর্বলতাও সামনে নিয়ে আসছে।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে পৃথক একটি অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনগণ শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদের উচ্চ কক্ষেও তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে পৃথক একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

সভায় বিজন কান্তি সরকার বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীদের নার্সিং পেশায় আরো বেশি করে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাদের কল্যাণ ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একই সঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধান বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সংসদ কিভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যেন দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্য যারা আছেন, তাদের এলাকায়ও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

পানি বাড়ছে দেশের প্রধান নদ-নদীতে | কালের কণ্ঠ