টরন্টো, পুরো নাম : বিএমও ফিল্ড,
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৫,০০০, উদ্বোধন : ২০০৭
বিশ্বকাপ ম্যাচ : ২০০৭ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের উদ্দেশ্যেই টরন্টো স্টেডিয়ামটি বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মাঠে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল জিতে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়। এ ছাড়া মাঠটির বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, ২০১৪ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপও হয়েছে এখানে। আসন্ন বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই মাঠে।

মেক্সিকো সিটি, পুরো নাম : এস্তাদিও অ্যাজটেকা (মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম),
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৮৩,০০০, উদ্বোধন : ১৯৬৬
বিশ্বকাপ ম্যাচ : বিশ্ব ফুটবলের এক সত্যিকারের মহাসমাবেশস্থল বলা যায় এটিকে। ইতিহাসের প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে এই মাঠটি। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের দুটি রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপ ফাইনালে এই মাঠেই পেলে এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরা শিরোপা জেতেন। ২০১১ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালও এই মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিনটিসহ শেষ ৩২ ও শেষ ১৬-র একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এখানে।

ভ্যাংকুভার, পুরো নাম : বিসি প্লেস ভ্যাংকুভার,
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৫৪,০০০, উদ্বোধন : ১৯৮৩
বিশ্বকাপ ম্যাচ : পঞ্চম দশকে পা রাখা এই স্টেডিয়ামটি ফলস ক্রিকের তীরে অবস্থিত একটি চোখ-ধাঁধানো স্থাপত্যশৈলী। সম্প্রতি সংস্কার করার পর এমএলএস দল ‘ভ্যাংকুভার হোয়াইটক্যাপস’ এবং কানাডিয়ান ফুটবল লিগের দল ‘বিসি লায়ন্স’ এটিকে হোম গ্রাউন্ড করেছে। মাঝেমধ্যে এখানে হয়েছে কানাডা জাতীয় দলের কিছু ম্যাচও। এই মাঠের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ ছিল ২০১৫ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল। এবার বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক কানাডার দুটিসহ মোট সাত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই মাঠে।

ডালাস, পুরো নাম : এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম (ডালাস স্টেডিয়াম)
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৯৪,০০০, উদ্বোধন : ২০০৯
বিশ্বকাপ ম্যাচ : চোখ-ধাঁধানো সৌন্দর্যের এই স্টেডিয়ামে আছে বেশ কিছু অসাধারণ শিল্পকর্ম এবং ২৫ হাজার বর্গফুটজুড়ে বিস্তৃত ভিডিও ডিসপ্লে। ২০০৯ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এই ভেন্যুতে নিয়মিত কনকাকাফ গোল্ড কাপ এবং মেক্সিকো জাতীয় দলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দুটি ম্যাচসহ গ্রুপ পর্বের পাঁচটি, দুটি শেষ ৩২, একটি শেষ ১৬ ও একটি সেমিফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করবে এই মাঠ।

লস অ্যাঞ্জেলেস, পুরো নাম : সোফাই স্টেডিয়াম
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৭০,০০০, উদ্বোধন : ২০২০
বিশ্বকাপ ম্যাচ : আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য সবচেয়ে নতুন স্টেডিয়াম এটিই। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যু পাসাডোনার বিখ্যাত রোজ বোল স্টেডিয়াম থেকে গাড়িতে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই মাঠ। বিশ্বকাপ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আছে এই মাঠে। সব মিলিয়ে আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এখানে।

ইস্ট রাদারফোর্ড, পুরো নাম : মেটলাইফ স্টেডিয়াম,
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৮২,৫০০, উদ্বোধন : ২০১০
বিশ্বকাপ ম্যাচ : বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু এবার মেটলাইফ স্টেডিয়াম। এখানে আসন্ন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সাবেক তিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ফ্রান্স এবং জার্মানির ম্যাচ ছাড়াও ইংল্যান্ডের ম্যাচ আছে। সব মিলিয়ে এই স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ। গত বছর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালও হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। এ ছাড়া ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে এখানে আর্জেন্টিনা ও চিলি মুখোমুখি হয়েছিল।

আটলান্টা, পুরো নাম : মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম, (আটলান্টা স্টেডিয়াম),
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৭৫,০০০, উদ্বোধন : ২০১৭
বিশ্বকাপ ম্যাচ : ৩০০ ফুটেরও বেশি উঁচু এই স্টেডিয়ামে রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য একটি পরিবর্তনযোগ্য ছাদ। এখানেই বিশ্বের প্রথম একটি ৩৬০-ডিগ্রি ‘হ্যালো’ ভিডিও ডিসপ্লে স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া এটি বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব স্টেডিয়াম হিসেবেও সমাদৃত হয়েছে। এই ভেন্যুটি গত বছর আয়োজন করেছে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের পাঁচটি ম্যাচ। এবার এই ভেন্যুতে হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুটিসহ গ্রুপ পর্বের পাঁচটি এবং নক আউট পর্বের দুটি ও একটি সেমিফাইনাল।

কানসাস সিটি, পুরো নাম : অ্যারোহেড স্টেডিয়াম
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৭৩,০০০, উদ্বোধন : ১৯৭২
বিশ্বকাপ ম্যাচ : যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়াম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই করে নিয়েছে সবচেয়ে দর্শক কোলাহলপূর্ণ আউটডোর ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচের মধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আছে এই মাঠে। একটি কোয়ার্টার ফাইনালসহ এই মাঠ আয়োজন করবে ছয়টি ম্যাচ।

বোস্টন, পুরো নাম : জিলেট স্টেডিয়াম (বোস্টন স্টেডিয়াম),
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৬৫,০০০, উদ্বোধন : ২০০২
বিশ্বকাপ ম্যাচ : ২০২৬ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বোস্টন স্টেডিয়ামে করা হয়েছে বড় ধরনের সংস্কার। এই মাঠে এখন রয়েছে দেশটির বৃহত্তম আউটডোর হাইডেফিনেশন স্টেডিয়াম ভিডিও বোর্ড, যার আয়তন ২২ হাজার বর্গফুট। এ ছাড়া আছে ৫০ হাজার বর্গফুটের কাচে ঘেরা হসপিটালিটি ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গা এবং প্রতি তলায় যাতায়াতের ব্যবস্থাসহ আধুনিক সব সুবিধা। এই স্টেডিয়ামে ফিফা নারী বিশ্বকাপ ২০০৩, কনকাকাফ গোল্ড কাপ এবং ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস কাপ আয়োজিত হয়েছে। এবার বিশ্বকাপে সাতটি ম্যাচ হবে এই মাঠে।

হিউস্টন, পুরো নাম : এনআরজি স্টেডিয়াম,
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৭২,০০০, উদ্বোধন : ২০০২
বিশ্বকাপ ম্যাচ : এই স্টেডিয়ামে আছে পরিবর্তনযোগ্য ছাদ, যা প্রয়োজনমাফিক সরিয়ে নেওয়া এবং টেনে আনা যায়। ৩৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত এই মাঠ উদ্বোধন করা হয় ২০০২ সালে। এই মাঠে আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের পাঁচটিসহ মোট সাত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সুপারস্টার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের দুটি ম্যাচ আছে এখানে।



১৯৯০ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না
ক্রোয়েশিয়ার। যুগোস্লাভিয়ার পতাকাতল থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৯৩ সালে ফিফার স্বীকৃতি পায় বলকান অঞ্চলের চার মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটি। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক আসরে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েই তাক লাগিয়ে দেয় ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের অভিষেকটা হয়েছিল তাদের আরো বর্ণাঢ্য! ১৯৯৮ সালে ফুটবল মহাযজ্ঞে প্রথমবার খেলতে এসে বিস্ময়কর সাফল্যে তারা জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। অবিস্মরণীয় কাব্য রচনা করে সেবার তৃতীয় হওয়া ক্রোয়াটরা ২০১৮ সালে লিখে আরো বড় ফুটবল রূপকথা। ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেন লুকা মডরিচরা। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ক্রমাগত নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি করে দেখাচ্ছে লুকা মডরিচের দেশ। দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় কাতারে অনুষ্ঠিত গত আসরেও তারা খেলেছে সেমিফাইনাল। ফুটবল মহাযজ্ঞে ছয়বার অংশ নিয়ে তিনবারই ক্রোয়েশিয়া দেশটি জায়গা করে নিয়েছিল শেষ চারে। মাত্র চার মিলিয়ন জনসংখ্যার একটা ছোট্ট দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এটা বিস্ময়কর অর্জন। বাছাইয়ে প্রতিপক্ষের জালে গোলোৎসব করে তারা টিকিট কেটেছে বিশ্বকাপের। দুর্দান্ত ছন্দটা ধরে রেখে আরেকটু এগিয়ে এবার বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু আঁকতে চায় ক্রোয়াটরা।

ফুটবলের উদীয়মান শক্তি বিশেষ করে মধ্য আমেরিকান অঞ্চলের সমীহ-জাগানিয়া দলের নাম পানামা। উন্নতির ধারাবাহিকতায় ফিফার
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ত্রিশের মধ্যে উঠে এসেছে দেশটি। ছোট দলের তকমা ঝেড়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মতো দলগুলোকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে পানামা। ফুটবল মহাযজ্ঞে এ নিয়ে খেলবে তারা দ্বিতীয়বার। ২০১৮ সালে রাশিয়ার আসরে অভিষেক। তবে চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি মধ্য আমেরিকার দেশটি। ৪৮ দলের বর্ধিত কলেবরের আসর দিয়ে আবার বৈশ্বিক মঞ্চে আলো ছড়াতে যাচ্ছে পানামা। কনকাকাফ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হলেও একতাবদ্ধ একটা ইউনিট হিসেবে খেলে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছেন থমাস ক্রিসটিয়ানসেনের শিষ্যরা। সঠিক সময়ে নিজেদের সঠিকভাবে মেলে ধরে গত নভেম্বরে গুয়াতেমালা এবং এল সালভাদরকে হারিয়ে ফুটবল মহাযজ্ঞে খেলা নিশ্চিত করে তারা। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এবং ঘানার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে হবে ২০২৩ সালের গোল্ডকাপ এবং ২০২৫ সালের নেশনস লিগের ফাইনাল খেলা দলটিকে। কঠিন গ্রুপে পড়লেও ভক্ত-সমর্থকদের দারুণ কিছু উপহার দেওয়ার রসদও আছে পানামার।

বিশ্বকাপজয়ী অভিজাত ক্লাবের একটি ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলির ফাইনালে জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিকে পশ্চিম জার্মানিকে
হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল স্যার আলফ্রেড আরনেস্ট রামসের দল। ফুটবলের বৈশ্বিক মঞ্চে ওই একবারই বিশ্বজয়ের উৎসবে মেতেছিল থ্রি লায়নসরা! এর পর থেকে বিশ্বকাপ যেন দুঃখগাথা হয়ে আছে ইংলিশদের। ১৯৬৬-র পর আর কখনো যে তারা পারেনি ফাইনালেও উঠতে। অথচ নামিদামি খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ফুটবল লিগের আয়োজন করে ইংলিশরা। পুরনো ফুটবল ঐতিহ্যের ধারক সেই ইংল্যান্ড ব্যর্থতার বলয় ভাঙতে পারেনি রাশিয়া কিংবা কাতারেও। ৬০ বছরের দীর্ঘ খরা কাটাতে এক জার্মানের শরণাপন্ন নাক সিঁটকানো ইংলিশরা। ক্লাব ফুটবলের অন্যতম চেনা মুখ টমাস ট্যুখেল থাকবেন থ্রি লায়নস ডাগ আউটে। মাঠে কাণ্ডারির দায়িত্ব পালন করবেন ২০১৮ সালের রাশিয়া আসরের গোল্ডেন বুট জয়ী হ্যারি কেইন। ট্যুখেলের দলে প্রতিভার অভাব নেই একদমই। বাছাইয়ের পরীক্ষায় ১৯৬৬-এর চ্যাম্পিয়নরা লেটার মার্কস পেয়ে পাস। আট ম্যাচের সব কটি জেতার পারফেক্ট রেকর্ড গড়ে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে সরাসরি তারা টিকিট কেটেছে বিশ্বকাপের। নিখুঁত ফুটবলশৈলী দেখাতে পারলে দ্বিতীয় ট্রফির অপেক্ষা ফুরাতেও পারে ইংল্যান্ডের! 