দল পরিচিতি
১৯৯০ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না
ক্রোয়েশিয়ার। যুগোস্লাভিয়ার পতাকাতল থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৯৩ সালে ফিফার স্বীকৃতি পায় বলকান অঞ্চলের চার মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটি। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক আসরে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েই তাক লাগিয়ে দেয় ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের অভিষেকটা হয়েছিল তাদের আরো বর্ণাঢ্য! ১৯৯৮ সালে ফুটবল মহাযজ্ঞে প্রথমবার খেলতে এসে বিস্ময়কর সাফল্যে তারা জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। অবিস্মরণীয় কাব্য রচনা করে সেবার তৃতীয় হওয়া ক্রোয়াটরা ২০১৮ সালে লিখে আরো বড় ফুটবল রূপকথা। ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেন লুকা মডরিচরা। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ক্রমাগত নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি করে দেখাচ্ছে লুকা মডরিচের দেশ। দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় কাতারে অনুষ্ঠিত গত আসরেও তারা খেলেছে সেমিফাইনাল। ফুটবল মহাযজ্ঞে ছয়বার অংশ নিয়ে তিনবারই ক্রোয়েশিয়া দেশটি জায়গা করে নিয়েছিল শেষ চারে। মাত্র চার মিলিয়ন জনসংখ্যার একটা ছোট্ট দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এটা বিস্ময়কর অর্জন। বাছাইয়ে প্রতিপক্ষের জালে গোলোৎসব করে তারা টিকিট কেটেছে বিশ্বকাপের। দুর্দান্ত ছন্দটা ধরে রেখে আরেকটু এগিয়ে এবার বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু আঁকতে চায় ক্রোয়াটরা।




ফুটবলের উদীয়মান শক্তি বিশেষ করে মধ্য আমেরিকান অঞ্চলের সমীহ-জাগানিয়া দলের নাম পানামা। উন্নতির ধারাবাহিকতায় ফিফার
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ত্রিশের মধ্যে উঠে এসেছে দেশটি। ছোট দলের তকমা ঝেড়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মতো দলগুলোকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে পানামা। ফুটবল মহাযজ্ঞে এ নিয়ে খেলবে তারা দ্বিতীয়বার। ২০১৮ সালে রাশিয়ার আসরে অভিষেক। তবে চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি মধ্য আমেরিকার দেশটি। ৪৮ দলের বর্ধিত কলেবরের আসর দিয়ে আবার বৈশ্বিক মঞ্চে আলো ছড়াতে যাচ্ছে পানামা। কনকাকাফ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হলেও একতাবদ্ধ একটা ইউনিট হিসেবে খেলে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছেন থমাস ক্রিসটিয়ানসেনের শিষ্যরা। সঠিক সময়ে নিজেদের সঠিকভাবে মেলে ধরে গত নভেম্বরে গুয়াতেমালা এবং এল সালভাদরকে হারিয়ে ফুটবল মহাযজ্ঞে খেলা নিশ্চিত করে তারা। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এবং ঘানার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে হবে ২০২৩ সালের গোল্ডকাপ এবং ২০২৫ সালের নেশনস লিগের ফাইনাল খেলা দলটিকে। কঠিন গ্রুপে পড়লেও ভক্ত-সমর্থকদের দারুণ কিছু উপহার দেওয়ার রসদও আছে পানামার।

চার বছর পর আরো বড় সাফল্য ধরা দেয় আফ্রিকার কালো
তারাদের। ২০১০ সালে আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম বিশ্বকাপে ঘানা জায়গা করে নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স ছিল এটা ফুটবলের বৈশ্বিক আসরে। শেষ আটের লড়াইয়ে আসামোয়াহ জিয়ান পেনাল্টি মিস না করলে হয়তো সেমিফাইনালেও খেলতে পারতো ঘানা। বর্ণীল ওই সাফল্য অবশ্য ধরে রাখতে পারেনি তারা। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত পরের আসরে বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। আর বাছাইয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেনি বলে খেলতে পারেনি রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ বিশ্বকাপ। এবারের আসরে সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনার স্বপ্নে কালো তারারা শরণাপন্ন হয়েছে পরীক্ষিত কোচ কার্লোস কুইরোজের। বাছাইয়ে অবশ্য দাপট দেখিয়েছে ঘানা। আফ্রিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের গ্রুপে ১০ ম্যাচে একটিমাত্র হেরে জিতেছিল আটটিতেই। সাত গোল করে তাদের এই পথচলার অগ্রপথিক ছিলেন জর্ডান আইয়ু। আতোয়ান সেমেনিও-আইয়ুরা ফর্মে থাকলে বিশ্বকাপে ফিরতেও পারে ঘানার সোনালি অতীত। 

বিশ্বকাপজয়ী অভিজাত ক্লাবের একটি ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলির ফাইনালে জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিকে পশ্চিম জার্মানিকে
হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল স্যার আলফ্রেড আরনেস্ট রামসের দল। ফুটবলের বৈশ্বিক মঞ্চে ওই একবারই বিশ্বজয়ের উৎসবে মেতেছিল থ্রি লায়নসরা! এর পর থেকে বিশ্বকাপ যেন দুঃখগাথা হয়ে আছে ইংলিশদের। ১৯৬৬-র পর আর কখনো যে তারা পারেনি ফাইনালেও উঠতে। অথচ নামিদামি খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ফুটবল লিগের আয়োজন করে ইংলিশরা। পুরনো ফুটবল ঐতিহ্যের ধারক সেই ইংল্যান্ড ব্যর্থতার বলয় ভাঙতে পারেনি রাশিয়া কিংবা কাতারেও। ৬০ বছরের দীর্ঘ খরা কাটাতে এক জার্মানের শরণাপন্ন নাক সিঁটকানো ইংলিশরা। ক্লাব ফুটবলের অন্যতম চেনা মুখ টমাস ট্যুখেল থাকবেন থ্রি লায়নস ডাগ আউটে। মাঠে কাণ্ডারির দায়িত্ব পালন করবেন ২০১৮ সালের রাশিয়া আসরের গোল্ডেন বুট জয়ী হ্যারি কেইন। ট্যুখেলের দলে প্রতিভার অভাব নেই একদমই। বাছাইয়ের পরীক্ষায় ১৯৬৬-এর চ্যাম্পিয়নরা লেটার মার্কস পেয়ে পাস। আট ম্যাচের সব কটি জেতার পারফেক্ট রেকর্ড গড়ে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে সরাসরি তারা টিকিট কেটেছে বিশ্বকাপের। নিখুঁত ফুটবলশৈলী দেখাতে পারলে দ্বিতীয় ট্রফির অপেক্ষা ফুরাতেও পারে ইংল্যান্ডের! 