kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

হাসপাতালে ধনু এমপির শাসন

ময়মনসিংহের ভালুকায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে এমপির ভাইয়ের হত্যার হুমকি
দুস্থদের চিকিৎসার টাকা হাসপাতাল থেকে লুটে নিচ্ছে এমপির সিন্ডিকেট

হায়দার আলী   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:১৫ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



হাসপাতালে ধনু এমপির শাসন

বাজারে খাসির মাংসের দাম কমবেশি ৮০০ টাকা। সেই খাসির মাংস ১০০ টাকা কেজি দরে হাসপাতালের রোগীদের খাওয়ানোর ওয়াদা করেছিলেন ঠিকাদার আজাহারুল হক আতিক। তবে গেল আড়াই মাসে খাসির মাংসের ‘আণুবীক্ষণিক’ টুকরাও কোনো রোগীর পাতে ওঠেনি। কার্যাদেশে পানির দর আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশিশক্তি দেখিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পথ্য সরবরাহের দরপত্র বাগিয়ে নেন ঠিকাদার আতিক। এই ঠিকাদারের বড় পরিচয় তিনি ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনুর মামাতো ভাই।

শুধু কি রোগীর পথ্য সরবরাহ, ওই হাসপাতালের দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা তহবিলের টাকা কৌশলে লুটে খাচ্ছে এমপির সাঙ্গোপাঙ্গ। অভিযোগ রয়েছে, ওই তহবিলের টাকা প্রকৃত দুস্থ রোগীদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। প্রভাব, হুংকার আর সংসদ সদস্যের সুপারিশে গরিবের সেই টাকা চলে যাচ্ছে এমপি ধনুর স্বজন আর ক্যাডারদের পকেটে। যেন ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে এমপি ধনুরই শাসন।

এদিকে এমপি ধনু ও তাঁর স্বজনদের অন্যায় আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে আগের সব সহকর্মীর মতো এবারও তোপের মুখে পড়েছেন ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমিন। এর আগে বিধিবহির্ভূতভাবে পাঁচ বছরের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পথ্য সরবরাহে ঠিকাদারি কাজ ভাই আতিককে দেওয়ার আবদার করেছিলেন এমপি ধনু। এ জন্য সরকারি চাহিদাপত্রও (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন তিনি। এতে কোনোভাবেই রাজি ছিলেন না কোনো স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। আর তাতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন এমপি ধনু ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। এমপির লোকজনের ভয়ে এর আগে একে একে ভালুকা ছাড়েন দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। আর বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমিন এরই মধ্যে এমপির লোকজনের কাছ থেকে পেয়েছেন প্রাণনাশের হুমকি। তাঁকে হয়রানিও করা হচ্ছে নানাভাবে। ডা. শারমিন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভালুকা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি এমপি কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু ও তাঁর স্বজন-ক্যাডারদের অনৈতিক কাজ-কারবারের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমপির অনিয়ম যেভাবে শুরু : ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাদ্য ও পথ্য সরবরাহের ঠিকাদারি কাজ তাঁর মামাতো ভাইকে দেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদ সদস্যের প্যাডে সরকারি চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দেন এমপি কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লেখা ওই ডিও লেটারে ভালুকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আক্কাস আলীর ছেলে ঠিকাদার আজাহারুল হক আতিককে নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে রোগীদের খাদ্য ও পথ্যের সব ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন এমপি। ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করছি।’ এ ছাড়া আতিকের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স অপূর্ব  ডেকোরেটর’ দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে ওই চিঠিতে এমপি উল্লেখ করেন। এমপির কাছ থেকে বিধিবহির্ভূত এমন একটি ডিও লেটার পেয়ে বিস্মিত হন ভালুকার সেই সময়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরাম উল্লাহ। ওই ডিও লেটার পেয়েও এমপির ভাইকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ায় রোষানলে পড়ে ভালুকা ছাড়েন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. একরাম উল্লাহ।

এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ডা. মাহমুদুল বাশার। বিনা দরপত্রে এমপির ভাইকে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন এমপি ধনু। কিন্তু এমপির সুপারিশকে গুরুত্ব না দিয়ে আইন অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমেই ‘তালহা ট্রেড সিস্টেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে হাসপাতালের কাজ দেন ডা. মাহমুদুল বাশার। আর তাতেই চরম ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় এমপি ধনু ও আতিকসহ স্থানীয় ক্যাডাররা। ভাইকে কাজ না দেওয়ায় ওই চিকিৎসককে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন এমপি ও তাঁর লোকজন। এরপর এমপির ভয়ভীতি আর হুমকিতে টিকতে না পেরে দুই মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে যান ডা. মাহমুদুল বাশার। তিনি এখন ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত।

এমপি ধনুর সেই সময়ের কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে ডা. মাহমুদুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঠিকাদার আতিক এমপি সাহেবের ভাই, ওই ব্যবসার সঙ্গে এমপিও জড়িত থাকতে পারেন। উনার ভাইকে কাজ না দেওয়ায় আমি তোপের মুখে পড়েছিলাম; উঠতে-বসতে শাসানো হয়েছে আমাকে। এমপি সাহেব অন্যায়ভাবে আমাকে গালমন্দ করেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন যিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি খুবই সৎ। উনাকেও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। শুনেছি, তাঁকেও বদলি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন এমপি।’

খাসির মাংস খাওয়ানোর কথা ১০০ টাকা কেজিতে : ২০১৯-২০ অর্থবছরে এমপির ডিও লেটার উপেক্ষা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দরপত্রের মাধ্যমে একজন যোগ্য ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সাহস আর জারি রাখতে পারেননি গত ১২ মার্চ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেওয়া ডা. সোহেলী শারমিন। ২০২০-২১ অর্থবছরে এমপির ভাই আতিক বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমিনের কাছ থেকে এক রকম জবরদস্তি করেই ঠিকাদারি কাজ ছিনিয়ে নেন। গত ডিসেম্বরে ঠিকাদারি কাজ পান আতিক। তিনি দরপত্রে খাসির মাংস ১০০ টাকা দরে খাওয়ানোর কথা উল্লেখ করেন। সারা দেশে যেখানে খাসির মাংসের দাম ৮০০ টাকা, সেখানে হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ পেতে দরপত্রে ওই মাংস ১০০ টাকায় সরবরাহের কথা উল্লেখ করা হয়। ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রোগীদের খাসির মাংস সরবরাহ করেননি তিনি। এ ছাড়া দরপত্রে অন্য পণ্যের দামও তিনি ‘পানির দামে’ সরবরাহের কথা উল্লেখ করেছিলেন। 

ভালুকার কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, শুধু হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ পেতেই এমপির ভাই খাসির মাংস ১০০ টাকায় সরবরাহ করার কথা উল্লেখ করেছিলেন। আদতে হাসপাতালের রোগীদের কপালে জোটেনি এক টুকরা খাসির মাংস। আর জুটবেই বা কিভাবে? ১০০ টাকায় এখন পোল্ট্রি মুরগির মাংস দূরের কথা, পাঙ্গাশ মাছও খোঁজে মেলে না। 

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভর্তি হয়েছিলেন উপজেলার আঠালিয়া গ্রামের রুমা আক্তার। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আহত হয়ে ১০ দিন ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি। প্রতিদিন রাত ও দুপুরে মাছ ও মুরগির মাংস দেওয়া হলেও এক দিনও দেওয়া হয়নি খাসির মাংস। রুমা আক্তার বলেন, পোল্ট্রি মুরগি আর মাছের তরকারি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খাসির মাংস ১০ দিনেও পাইনি। একই কথা বললেন হাসপাতালের রোগী উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের শালেহা বেগমও।

ডা. সোহেলী শারমিন রোগীদের জন্য খাসির মাংস সরবরাহের জন্য ঠিকাদার আতিককে মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার বললেও তিনি সরবরাহ করেননি। উল্টো ঠিকাদার আতিক এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে শাসান। সম্প্রতি এমপির ভাই আতিক নিজের পিকআপ দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শারমিনের গাড়িতে ইচ্ছা করেই ধাক্কা লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় আতিক ডা. শারমিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

অবশেষে চিকিৎসকের জিডি : এমপির সাঙ্গোপাঙ্গের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে নিরূপায় ডা. সোহেলী শারমিন বাদী হয়ে গত বুধবার ভালুকা থানায় আতিকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ডা. শারমিন জিডিতে উল্লেখ করেন, ‘২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাম্পাসে বাসার সামনে আমার ব্যবহৃত গাড়িটি রাখা ছিল। ওই সময় আজাহারুল হক আতিকের পিকআপ ভ্যান দিয়ে আমার পার্কিং করা গাড়িতে ধাক্কা দেন। গাড়িতে আঘাত করার কারণ জানতে চাইলে আতিক প্রভাবশালী মহলের ভয় দেখিয়ে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমিন বলেন, ‘দেখুন এমপি কাজিম স্যার এবং উনার ভাই আতিকের অনিয়ম মেনে নেইনি বলেই আমার ওপর উনারা ক্ষুব্ধ। আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন, গাড়িতে পরিকল্পিতভাবে ধাক্কা লাগাচ্ছেন। এমপি স্যার আমাকে নানাভাবে গালমন্দ করছেন, এমনকি উনার আশকারা পেয়ে তাঁর ভাই আতিক নানাভাবে আমাকে হয়রানি করছেন। আমি নিরূপায় হয়েই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি এবং বিষয়গুলো স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি।’

ডা. শারমিন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আসার পর জোর করেই উনার ভাই ঠিকাদারি কাজ নিয়েছেন। দরপত্রে খাসির মাংস ১০০ টাকায় সরবরাহের কথা উল্লেখ করে কাজ পেলেও এখন তিনি রোগীদের খাসির মাংস সরবরাহ করছেন না।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তহবিলে এমপির চোখ : ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গরিব ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য তহবিলের টাকার ওপরও চোখ পড়েছে এমপি ধনু ও তাঁর লোকজনের। হাসপাতালের দুস্থ রোগীদের চিকিৎসা তহবিলের টাকাও এমপি তাঁর নিজস্ব লোকদের দিয়ে তুলে নিচ্ছেন। দুস্থদের তহবিলের টাকা যাদের দেওয়ার জন্য এমপি ধনু সুপারিশ করে চিকিৎসা কর্মকর্তার কাছে পাঠান, তাঁরা হাসপাতালের কোনো রোগী নন। এমনকি ওই সব লোক কোনো রোগের কাগজপত্র দেখাতে পারেন না। প্রতি মাসেই এমপির লিখিত সুপারিশ নিয়ে এসে গরিব রোগীদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাঁর লোকজন।

গরিব রোগীদের সহযোগিতার জন্য ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘দরিদ্র তহবিল’ গঠন করা হয়। হাসপাতালে আসা রোগীদের টিকিটমূল্য থেকে দুই টাকা করে এই তহবিলের হিসাবে রাখা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই হিসাবে ছিল চার লাখ ৮২ হাজার ১৭৯ টাকা। কিন্তু এমপির সুপারিশে রোগীর নামে এমপির লোকজন নিয়ে যায় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে হিসাবে ছিল চার লাখ ২১ হাজার ৫৩৭ টাকা। সেখান থেকে এমপির লোকজন নিয়ে যায় দুই লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে ডা. শারমিন বলেন, ‘এমপি স্যারের লোকজন সুপারিশ নিয়ে আসেন, কিন্তু অসুস্থতার কোনো কাগজ চাইলে দেখাতে পারেন না। শুধু টাকা নিয়ে চলে যান। এ জন্য উপজেলার গরিব লোকদের বিপদে তহবিলের টাকা কাজে লাগাতে পারছি না। এসব অন্যায়ের কথা বলতে গিয়েই এমপির বিরাগভাজন হয়েছি। এখন আমাকে ভালুকা থেকে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন, নইলে আমাকেই নাকি মেরে ফেলা হবে।’ 

সাধারণ ডায়েরির ব্যাপারে ভালুকা থানার ওসি মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাড়ির সামনে রাখা গাড়িতে ধাক্কা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এমপি স্যারের মামাতো ভাই আতিকের বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করেছেন ডা. সোহেলী শারমিন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফাকে। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে পারব।’

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সদস্য ও ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকবেন এবং দরিদ্র, তাঁরাই শুধু হাসপাতালের তহবিল থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পাবেন। কিন্তু এখন এমপির সুপারিশে যে কাউকেই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এমপির কথা না শোনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’

ঠিকাদার আতিকের কথা : ঠিকাদার আজাহারুল হক আতিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর গাড়ির সঙ্গে আমার গাড়ির এক্সিডেন্ট হয়। আমি উনার গাড়ি মেরামত করে দিয়েছি।’ ১০০ টাকায় খাসির মাংস খাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দরপত্রে যা লেখা হয়েছে তা-ই খাওয়ানো হচ্ছে। খাসির মাংস খাওয়ানোর প্রগ্রাম যখন হবে, তখন খাওয়ানো হবে।’ কখন প্রগ্রাম হবে? উত্তরে বলেন, ‘এসব আপনাকে কেন বলব? যাদের বলার তাদের বলব।’ আসলে ১০০ টাকায় খাসির মাংস কিভাবে খাওয়াবেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘দেখি কিভাবে খাওয়ানো যায়, একটা মিলমিশ করে খাওয়াব।’ ঠিকাদারি কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো রোগীরা খাসির মাংস চোখেই দেখেনি। কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাই আমি খুবই ব্যস্ত, আপনাকে পরে ফোন দেব।’ আপনি কি এমপির ডিও লেটারের সুপারিশে কাজ পেয়েছিলেন? জবাবে ঠিকাদার আতিক বলেন, ‘এমপি সাহেব পাঁচ বছরের জন্য ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ডিও লেটার দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটাতে কাজ পাইনি। এবার নিজের যোগ্যতায় পেয়েছি।’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাঁরা এটা বলছেন, মিথ্যা বলছেন।’ জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করার বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, ‘দেখুন, হুমকি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এমপি ধনু যা বললেন : মামাতো ভাই আতিককে পাঁচ বছরের জন্য ঠিকাদারি কাজ দিতে ডিও লেটার দেওয়া প্রসঙ্গে এমপি কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু বলেন, ‘না না না, এ রকম কোনো ডিও লেটার আমি কখনো কাউকে দেইনি। আমি কারো জন্য কোনো সময় তদবির করিনি। রেট দিয়েই কাজ পেয়েছে।’ কিন্তু আমার কাছে এমপির প্যাডে আপনার স্বাক্ষরিত ডিও লেটার আছে জানালে একটু নীরব থেকে এমপি বলেন, ‘এটা কোন বছরের ডিও লেটার?  ওই সময় প্রথম এমপি হয়েছিলাম, হয়তো দিয়েছিলাম, কিন্তু পরে তাকে কাজ দেওয়া হয়নি। পরের বছর লোয়েস্ট হয়েই কাজ পায়।’ আপনি একজন আইনপ্রণেতা হয়ে আইনবিরোধী এমন চিঠি কি দিতে পারেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি তো পরে কমিটির মিটিংয়ে বলে দিয়েছিলাম, লোয়েস্ট হলেই যেন দেওয়া হয়। আর ভাই আমরা রাজনীতি করি, অনেক কিছুই করতে হয়। আপনি আইসেন, সামনাসামনি কথা বলব।’ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই তাঁকে কেন প্রাণনাশের হুমকি দেবে? এটা মিথ্যা ও বানোয়াট।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা