• ই-পেপার

ইলিয়াস গুমের ভয়ংকর বর্ণনা

  • আদালতে জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষীর জবানবন্দি
  • ১৫০-২০০ ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে হত্যা করতে দেখেছি
  • ‘ইলিয়াসকে গলফ করলাম’ তারিক সিদ্দিকের সঙ্গে ফোনালাপ

শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় আজ

অনলাইন ডেস্ক
শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় আজ
শিশু তাবাচ্ছুম। ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার রায় আজ সোমবার (২২ জুন) ঘোষণা করা হবে। গতকাল রবিবার ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন অভিযুক্ত আবু তাহের।

এ ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রবিবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাদেডিহি গ্রামে শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনার চার মাসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভিকটিম শিশুর পরিবার।

একমাত্র কন্যা সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর তাবাচ্ছুমের মা-বাবা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আবু তাহেরের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি চান তারা। ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। সেই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করায় আদালতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আমরা আশাবাদী, সোমবার আদালতের রায়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার পাবে।’

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক
হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি আজ।

সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ দিন ধার্য রয়েছে।

গত ৪ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গ্রেপ্তার এক আসামিকে হাজির না করায় তা পিছিয়ে আজকের দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রথমে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করবে প্রসিকিউশন। এরপর ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চেয়ে শুনানি করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন—চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।

হাছান মাহমুদ ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।

এর আগে, ১৩ মে পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।

গত ৭ এপ্রিল তিন অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়। এ ছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা তিন নম্বর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে রুল শুনানি ২৪ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে রুল শুনানি ২৪ জুন
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ারের আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি হবে আগামী ২৪ জুন। আজ রবিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ জুন সারোয়ারের আলমগীরের প্রার্থিতাসংক্রান্ত রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া ওই আসনে তার ভোটের ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে।  

প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানির পর ১৮ জানুয়ারি ইসি আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পর দিনই হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। শুনানির পর ২৭ জানুয়ারি রুলসহ আদেশ দেন। সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাঁকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে ইসিকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।

রুলে জানতে চাওয়া হয়, সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন নুরুল আমিন; যা গত ৪ ফেব্রুারি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। 

আদেশে বলা হয়, সারোয়ার আলমগীর যদি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) এসংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ নুরুল আমিনের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন। আদেশে স্থগিতাদেশ চলমান রেখে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। এই আদেশের পর রুলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রাখা হয়।

গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাড়ি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রিমান্ডে আলোচিত বাসার

গাড়ি বিক্রির নামে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মির্জা আবুল বাসারকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন বাসারকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে শনিবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে বাসারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী মো. আজিজুল ইসলাম গাড়ির গ্যারেজ ও পুরোনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যাবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে মির্জা আবুল বাসার তার কাছে একটি পুরোনো গাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দেন। ২০২৫ সালের ৬ জুন গাড়ির অগ্রিম মূল্য হিসেবে আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ এক কোটি টাকা নেন বাসার। এ সময় টাকার লেনদেনের ভিডিওচিত্রও সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, টাকা গ্রহণের পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাড়ি বুঝিয়ে দেননি বাসার। পরে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে গাড়ি দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, পরে ৬ নভেম্বর একটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বাসার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করার আবেদন করেন আজিজুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত গুলশান থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।