• ই-পেপার

২০ হাজার পরিবারকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সামগ্রী দিল নেটজ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার আমিনবাজার এবং মাতুয়াইলে দুটি আধুনিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি গ্রুপ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজারে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করছে। এই প্রকল্পটি প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে এবং আগামী ২৫ বছর এখান থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি একটি বিশাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদন করা হবে, যা থেকে বছরে প্রায় ৮১০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলবে। 

প্রকল্প দুটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারী নেতৃত্ব

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারী নেতৃত্ব
ফাইল ছবিতে উপরের সারির বাঁ থেকে ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক), সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মুশতারী শফী, তারামন বিবি (বীর প্রতীক) এবং নিচের সারির বাঁ থেকে কাকন বিবি (বীর প্রতীক), সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম।

১. ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক) : ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (১৯৪৬–২০২৪) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্ব। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি ১৯৭১ সালের মার্চের পর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ২ নম্বর সেক্টরের অধীন মুক্তিবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাদান পরিচালনার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স এবং সহায়ক কর্মীদের তত্ত্বাবধান করতেন। যুদ্ধকালীন অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে তিনি শত শত আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করেন।

যদিও তিনি সরাসরি কোনো যুদ্ধরত বাহিনীর নেতৃত্ব দেননি, তবু সামরিক চিকিৎসাসেবার কাঠামোর মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কার্যকর দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নারী কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর নিষ্ঠা ও নেতৃত্ব অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা করেছে এবং মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন, যা বাংলাদেশের বীরত্বসূচক পদকগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মাননা। স্বাধীনতার পরও তিনি চিকিৎসক হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং নারী ক্ষমতায়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অগ্রগণ্য নারী নেত্রী হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

২. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী : সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী (১৯৩৫–২০২২) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরু হওয়ার পর অস্থায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম সংগঠিত করেন, স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয় করেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নারীদের সংগঠিত করেন এবং রাজনৈতিক কর্মী ও প্রবাসী সরকারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভারতে অবস্থানরত শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের মনোবল অটুট রাখতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেত্রীতে পরিণত করে। স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবেও দায়িত্বও পালন করেন।

৩. বেগম মুশতারী শফী : বেগম মুশতারী শফী (১৯৩৮–২০২১) মুক্তিযুদ্ধের সময় বেসামরিক পর্যায়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। তিনি বেসামরিক সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন, জনমত গড়ে তোলেন এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে তাঁর বাসভবন স্বাধীনতাকামী কর্মী ও প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। লেখালেখি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

যদিও তিনি কোনো সামরিক ইউনিটের নেতৃত্ব দেননি, এরপরও তাঁর নেতৃত্ব বেসামরিক প্রতিরোধ আন্দোলনকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছিল। স্বাধীনতার পরও তিনি একজন সম্মানিত লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বীকৃতির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন।

৪. তারামন বিবি (বীর প্রতীক) : তারামন বিবি (১৯৫৭–২০১৮) গেরিলা যুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান নারী মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হন। ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, শত্রুপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান (রেকি) এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। অল্প বয়সেই তিনি উত্তরাঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে সহায়তা করতে গিয়ে অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। প্রথমদিকে তাঁর অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। তবে পরবর্তীকালে তদন্তে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।

যদিও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন না, তবু যুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজে প্রচলিত নারীর ভূমিকা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় এবং প্রমাণ করে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামেও নারীরা সরাসরি ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। আজ তিনি সাহস, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের এক চিরস্মরণীয় প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।

৫. কাকন বিবি (বীর প্রতীক) : কাকন বিবি (১৯৫০–২০২৪) ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রাহক। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেট অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্য চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর অভিযানে সহায়তা করতেন এবং দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গেরিলা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। তবে তিনি বেঁচে ফিরে আবারও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ চালিয়ে যান।

অসীম সাহসিকতা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। যদিও তিনি কোনো সামরিক কমান্ডার ছিলেন না, তাঁর অবদান প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অনিয়মিত যুদ্ধে নারীদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর জীবন অসাধারণ প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

৬. সুফিয়া কামাল : বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১–১৯৯৯) ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক নেতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এবং যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব প্রদান করেন। একজন কবি, সমাজসংস্কারক এবং নারী অধিকারকর্মী হিসেবে তাঁর অবস্থান অসংখ্য বাংলাদেশিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, জনমত গঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধে তাঁর প্রভাব ছিল অসামান্য। স্বাধীনতার পরও তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন এবং বাংলাদেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় জনবুদ্ধিজীবী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। 

৭. জাহানারা ইমাম : জাহানারা ইমাম (১৯২৯–১৯৯৪) বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তাঁর পরিবার এবং যুদ্ধকালীন ঘটনাপ্রবাহের অভিজ্ঞতা একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন, যা পরবর্তীতে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামে প্রকাশিত হয়। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ দলিল হিসেবে বিবেচিত।

যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন না, তবে তাঁর লেখনী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে অপরিসীম অবদান রেখেছে। স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে দেশের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন এবং এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম বড় অবদান।

জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সোমবার শোক দিবস পালন করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সোমবার শোক দিবস পালন করবে বিএনপি
সংগৃহীত ছবি

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকাসহ সারা দেশে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ রবিবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। আগামীকাল সোমবার সারা দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করা হবে।

এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়সমূহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।

রিজভী জানান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রথম নামাজে জানাজা বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং পরে সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় বিকাল ৫টায় জানাজা হবে। প্রয়াত নেতা জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন রিজভী।

এদিকে দূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, অধ্যাপক আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা. জাহিদ হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বাসস
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

জমির উদ্দিন সরকার আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই, কোনো পরিস্থিতিতেই আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।’

বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে মরহুমের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপি’র ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। তাঁর আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

২০ হাজার পরিবারকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সামগ্রী দিল নেটজ | কালের কণ্ঠ