• ই-পেপার

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা

বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকার বাতাস আজ কতটা দূষিত?

অনলাইন ডেস্ক
বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকার বাতাস আজ কতটা দূষিত?

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলায় বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের মেগাসিটি ঢাকার অবস্থান রয়েছে তালিকার ৯ নম্বরে। যার বায়ুমান স্কোর ১০৯। এই অবস্থার বায়ুর মানকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া বায়ুদূষণের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। যার বায়ুমান স্কোর ১৭৭। এই অবস্থাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে বিবেচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বায়ুদূষণের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এ ছাড়া তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। যার বায়ুমান স্কোর ১৭২। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। যার বায়ুমান স্কোর ১৬০। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান নগরী তেল আবিব। যার বায়ুমান স্কোর ১২৪ এবং পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ। যার বায়ুমান স্কোর ১১৯।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

৯ জেলায় জন্য ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা আবহাওয়া অফিসের

অনলাইন ডেস্ক
৯ জেলায় জন্য ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা আবহাওয়া অফিসের

দেশের ৯টি জেলার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে

বিশেষ লেখা

সরকারের সাহসী সিদ্ধান্ত, দরকার প্রশাসন ঢেলে সাজানো

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের সাহসী সিদ্ধান্ত, দরকার প্রশাসন ঢেলে সাজানো
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে প্রথম ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় ১৯৮০ সালের ৩০ এপ্রিল সাভারের জিরাবো গ্রামে। গ্রাম সরকার গঠন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। এ সময় তাঁকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, এটা কি বেশি সাহসী সিদ্ধান্ত হলো না? উত্তরে শহীদ জিয়া বলেছিলেন, ‘দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য সাহসী হতে হয়।’

বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে ঠিক ৪৬ বছর পর আবার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এমন সব প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, কিন্তু আমলাদের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের পদ ডাম্পিং পোস্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকে এসব পদকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে বিবেচনা করেন। তাই তাঁরা এসব প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে কোনো কাজ করতে আগ্রহী হন না। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আদতে কোনো কাজ হয় না। যে লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয় না।

যেমন বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন। দেশের বনজ সম্পদ উন্নয়ন, বন থেকে উৎপাদিত পণ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি বদলে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু যোগ্য নেতৃত্ব না থাকায় এই সম্ভাবনাময় খাতে কোনো উন্নতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এখানে রাজনৈতিক নিয়োগ দিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, বাংলাদেশ জুট করপোরেশন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রধান নির্বাহী হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থার কাজের পরিধি বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থে কাজ করলে দেশের অর্থনীতি পাল্টে ফেলা সম্ভব। সংস্থাগুলো সক্রিয় হলে দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। কিন্তু আমলাদের অবহেলা এবং উদাসীনতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান অকার্যকর। বাংলাদেশ চিনি শিল্প, জুট করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসানের পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে।

এখানেই প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার বড় প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি সঠিকভাবেই প্রথম পর্যায়ে ১১টি সংস্থা চিহ্নিত করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে এমন লোকদের দায়িত্ব দিয়েছেন যাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের কর্মসূচি এবং সরকারের কর্মপরিকল্পনার আলোকে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এসব মৃতপ্রায়, অকার্যকর সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও কার্যকর করবেন। এতে কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই হবে না, সরকারের অপচয় বন্ধ হবে। এটাই রাজনৈতিক সরকারের কাজ।

এভাবেই প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগে সাহসী পরিবর্তন দরকার। কারণ সরকারের প্রতিটি দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া একটি সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে না। এ কারণেই সব গণতান্ত্রিক দেশে একটি রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনায় দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঢেলে সাজায়। যেন সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকল পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সরকার মানে কেবল একটি মন্ত্রিসভা নয়; প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যেকেই সরকারের অংশ। একটি কুচকাওয়াজ যেমন ভালো হয় না যদি সবাই এক তালে কদম মেলাতে না পারে; তেমনি একটি সরকার কখনো গতিশীল এবং সফল হতে পারে না যদি সরকার কাঠামোর সকল পর্যায়ের সদস্য একসঙ্গে এবং একই তালে কাজ না করেন। যেমন ধরা যাক, কৃষক কার্ড বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। এখন মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন যদি সঠিকভাবে কৃষকের তালিকা তৈরি না করে, তাহলে এই চমৎকার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এ ধরনের উদ্যোগ অকার্যকর করতে কয়েকজন জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই যথেষ্ট। আবার যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে এ কার্ডে জালিয়াতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। আজকাল যেকোনো বিষয় নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। কেউ যদি কৃষক কার্ড প্রদানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান, আর আদালতে যদি ঘাপটি মেরে বসে থাকেন কোনো বিরুদ্ধমতের মানুষ, তাহলে তিনি একাই একটি রায় দিয়ে থামিয়ে দিতে পারেন এ রকম একটি মহতী উদ্যোগের অগ্রযাত্রা। বিচার বিভাগ যদি কোনো কারণে বৈরী হয় তাহলে সরকারের সব কাজে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব। এর ফলে একদিকে যেমন নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়বে, তেমন সরকারের কাজের গতি কমে যাবে। তাই একটি রাজনৈতিক সরকার তখনই সফল হয় যখন সরকার এক সুরে কাজ করে। গণতান্ত্রিক সরকারকে মানবদেহের সঙ্গে তুলনা করা যায়। মানুষের শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যদি সমানভাবে কাজ না করে তাহলে যেমন আমাদের চলাফেরা স্বাভাবিক হয় না; শরীরের যেকোনো একটি অঙ্গ যদি কাজ না করে তাহলে যেমন আমরা পরিপূর্ণ সুস্থ হিসেবে নিজেকে মনে করতে পারি না, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে করতে পারি না; তেমনই সরকারের সব অংশ যদি সমানভাবে কাজ না করে তাহলে সেই সরকার সফল হতে পারে না। এটাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল সূত্র।

এ কারণেই উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে কর্মী পরিবর্তন হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট বদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় সরকারের সব স্তরের কর্মকর্তা। সেখানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগসহ সব জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয় প্রেসিডেন্টের পছন্দের ব্যক্তিকে। যুক্তরাজ্যেও তাই। এমনকি ভারতেও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তা। আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোর এটাই নিয়ম। একটা সময় মনে করা হতো সরকার পরিবর্তন হতে পাওে, কিন্তু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে নিরপেক্ষ। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এ মতবাদ এখন বাতিল হয়ে গেছে। কারণ সরকারের আসল জবাবদিহিতা হচ্ছে জনগণের কাছে। একটি নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের মধ্যে চুক্তির দলিল হলো তার নির্বাচনি ইশতেহার। তাই সরকারের প্রধান কাজ হলো জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। সেটা পূরণ করতে না পারলে সেই সরকার ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই একটি সরকারকে সফল হতে হলে অবশ্যই তাকে সবকিছু ঢেলে সাজাতে হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। গত পাঁচ মাসে প্রশাসনে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে কিছু রদবদল করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনেও কিছু রদবদলের খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব রদবদল পর্যাপ্ত নয়। এখনো প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে এমন সব লোকজন, যাঁরা শুধু বিএনপির মতাদর্শের বিরোধী নন, বিগত নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এখন তাঁরাই ভোল পাল্টে ফেলেছেন। বাইরে এঁরা যতই এখন শহীদ জিয়ার সৈনিক সাজুন না কেন, বিএনপির ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন সুযোগ পেলেই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ইউনূস ক্ষমতা নিয়েই সর্বস্তরে ব্যাপক পরিবর্তন করেন। প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে নিম্ন আদালতের বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব থেকে সহকারী সচিব, পুলিশের আইজি থেকে থানার ওসি-সকল পর্যায়ে রদবদল করা হয়েছিল। ইউনূস সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা। সেজন্য তিনি এমনভাবে সবকিছু সাজিয়েছিলেন যাতে নির্বাচনের পক্ষে কেউ কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকে। এসব রদবদল করা হয়েছে দুটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের তালিকা অনুযায়ী। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সচিবালয়ে অবস্থান করতেন, তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী রদবদল করা হতো। অনেক উপদেষ্টা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জেলা প্রশাসক থেকে সচিব পর্যন্ত পদায়ন দিতেন। টাকার বিনিময়ে পদায়ন ছিল ইউনূস সরকারের সময়ে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এসব নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার সেসবকে পাত্তা দেয়নি। বরং লোকদেখানো তদন্ত কমিটি করে সব দুর্নীতিকে বৈধতা দিয়েছে। তাই ইউনূস সরকারের আমলে যাঁরাই বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁদের সততা ও যোগ্যতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

ইউনূস সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি কলুষিত হয়েছিল আসিফ নজরুলের কর্তৃত্বে থাকা আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়। নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগে আসিফ নজরুল চরম স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। এসবের অধিকাংশ পদায়নই লেনদেনের মাধ্যমে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত-সর্বত্র আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘন ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে প্রয়োজনের অনেক বেশি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে আসিফ নজরুল বিশেষ মহলকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন। নিম্ন আদালতে সরকারি আইনজীবী নিয়োগে নজিরবিহীন তুঘলকিকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করে আসিফ নজরুল শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা পড়েছে। কিন্তু এসবের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এখনো। তার চেয়েও বড় কথা হলো, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের বেশি পার হলেও এখনো এসব বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তর অধিকাংশই আছেন বহাল তবিয়তে। জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারকে মনে রাখতে হবে, একটি অনির্বাচিত সরকারের প্রশাসন দিয়ে নির্বাচিত সরকার চলতে পারে না। তা ছাড়া ইউনূস সরকার সবকিছু সাজিয়েছিল নির্বাচন বানচালের জন্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্যে। ইউনূস নিজেই বলেছিলেন, জনগণ চায় তিনি আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকুন। এ ধরনের মন্তব্য এবং উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দিতে চায়নি, বাধ্য হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এক-এগারোর মতোই বিরাজনীতিকরণের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। তারেক রহমানের নেতৃত্বের দূরদর্শিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সাজানো প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কখনোই বিএনপির পক্ষের নয়। বরং এরা চেষ্টা করবে কীভাবে দ্রত বিএনপিকে অজনপ্রিয় ও বিতর্কিত করা যায়। মনে রাখতে হবে, এক-এগারোর কুশীলবরা এখনো সক্রিয় আছেন। তাঁরা সুযোগের অপেক্ষায়। এ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে এবং বর্তমান সরকারকে সফল হতে হলে সাহসী ভূমিকা নিতে হবে। যেমনটা প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন সাম্প্রতিক এগারো নিয়োগে। রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের সব অঙ্গ ঢেলে সাজানোর মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারকে নিতে পারেন সাফল্যের সোনালি বন্দরে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও নেতৃত্ব বাড়েনি নারীদের

অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ওপর বিবিএসের জরিপ

অনলাইন ডেস্ক
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও নেতৃত্ব বাড়েনি নারীদের

দেশে এনজিও, ফাউন্ডেশন, ট্রাস্ট এবং কমিউনিটিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান ধারাবাহিক বাড়ছে। উৎপাদন, মূল্য সংযোজন (জিভিএ) ও শ্রমব্যয় সূচকেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। কিন্তু নেতৃত্বের পদে নারীর অংশগ্রহণ এখনো খুবই কম।

চলতি মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জরিপের বরাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন এক প্রতিবেদনে জানায়, জরিপভুক্ত ৪৭৬ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২০টিতে প্রধান হিসেবে রয়েছেন নারী। বিপরীতে ৪৫৬ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রয়েছেন পুরুষ। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ৪ দশমিক ২০ শতাংশ, যেখানে পুরুষের অংশ ৯৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। বিবিএসের ‘বাংলাদেশের পাঁচটি কৌশলগত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কেস স্টাডি’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমিউনিটিভিত্তিক এবং ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ সদস্যভিত্তিক সংগঠন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে মোট কর্মসংস্থান দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪০২ জন, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭ হাজার ২২৭ জন। অর্থাৎ এক বছরে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৭৫ জন। চার প্রান্তিকেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ধারা বজায় ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কর্মসংস্থান ছিল ৭ হাজার ২৭৮ জন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে হয় ৭ হাজার ৩৫৩ জন, তৃতীয় প্রান্তিকে ৭ হাজার ৪১৯ জন এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৭ হাজার ৫৫৮ জনে পৌঁছায়।

অন্যদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে কর্মসংস্থান ছিল যথাক্রমে ৭ হাজার ২০৬, ৭ হাজার ১৩৩, ৭ হাজার ৩১০ ও ৭ হাজার ২৫৯ জন। দুই অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেষ প্রান্তিকে কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে শ্রমব্যয়ও। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে মোট কর্মসংস্থান ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ২ মিলিয়ন টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৩৩০ দশমিক ৭২ মিলিয়ন। চার প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে চতুর্থ প্রান্তিকে, ৩৬৩ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন টাকা। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৩৮৮ দশমিক ৪১, ৩৪০ দশমিক ৩ ও ৩৪৬ দশমিক ৭০ মিলিয়ন টাকা।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আউটপুট দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৯৯২ দশমিক ২৩ মিলিয়ন। একই সময়ে মোট মূল্য সংযোজন (জিভিএ) বেড়ে ১ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৫২৮ দশমিক ২৭ মিলিয়ন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চার প্রান্তিকেই জিভিএ ৩৮২ থেকে ৪০৭ মিলিয়ন টাকার মধ্যে ছিল, যার মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হয়েছে চতুর্থ প্রান্তিকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ খাতে শ্রমব্যয়ের অংশ অত্যন্ত বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শ্রমব্যয় মোট মূল্য সংযোজনের ৮৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশের চেয়ে বেশি। এটি ইঙ্গিত করে যে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত জনবলনির্ভর।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা | কালের কণ্ঠ