kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন সহ্য করে আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি

আ. লীগের বৈঠকে শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৮:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন সহ্য করে আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি

ফাইল ফটো

দেশে গণতান্ত্রিক ধারা চালু হলে কিছু লোকের দম বন্ধ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের কিছু লোক থাকে, যাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না। আমরা অর্থনৈতিকভাবে যত দূরই আগাই, কিছু লোক সব সময় এটাকে ভিন্ন চোখে দেখে, এটা তাদের অভ্যাস। এরা আসলে কখনো গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় তাদের যেন দম বন্ধ হয়ে যায়। তারা নিঃশ্বাস নিতে পারে না। তাদের কাছে মনে হয় যেন অস্বাভাবিক কিছু হলে তাদের খুব দাম বাড়ে।’

গতকাল শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকটি হয়েছে।

টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের চলার পথ  কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাধা, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তার পরও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। দেশের উন্নয়নের ধারাটা ধীরে ধীরে অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে আমরা কিন্তু হোঁচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাইনি, আবার হঠাৎ করেও লাফ দিইনি। আমরা আরো সামনে যেতে চাই। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই।’

বন্যা হচ্ছে, কোথায় কী ঘটছে, খবর নিচ্ছি : প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদীভাঙন হতে পারে বা পাহাড়ে ধস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারা দেশে কোথায় কী ঘটছে, খবর নিচ্ছি। সেখানে যার যা দায়িত্ব সেটা দেওয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে যার যা দায়িত্ব সেটা পালন করে যাচ্ছে। এখানে এতটুকু শৈথিল্য নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কিন্তু অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সাথি হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করা—এই নীতি নিয়ে আমরা কাজ করি বলেই আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের দলের নেতাকর্মীদেরও সব সময় সক্রিয় থাকতে হবে।’

দেশকে কোথায় নিয়ে যাব সে পরিকল্পনাও আছে : পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় থেকে কয়েক বছর বিদেশে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, ‘একাশি সালে বাংলাদেশে এসে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করার পর আমরা সরকার গঠন করেছি। দেশটাকে এগিয়ে নিতে পেরেছি। এর পেছনে মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ, তাদের সমর্থন। আর অবশ্যই মহান আল্লাহর রহমত ছিল।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারে এলে কী করব, কোথায় যাব, সেগুলোর সব কিছু মোটামুটি একটা পরিকল্পনা আমাদের তৈরি করা ছিল বলেই সরকারে আসার পর আমরা কাজগুলো করতে পেরেছি; যার কারণে দেশটা এত দূরে আনতে পেরেছি। আগামী দিনে দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ‘থিংকট্যাংক’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে উপদেষ্টাদের আরো সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ করছি। আপনাদের সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। বিভিন্ন উপকমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং, সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।’

শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে সাংগঠনিক নানা বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা