ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত আয়া সোফিয়া মসজিদে ফজরের নামাজে উপচে পড়া ভিড়ের দৃশ্য দেখা গেছে। সপরিবারে উপস্থিত হয়ে নতুন বছর শুরু করেন তুরস্কবাসী। গত শনিবার (১ জানুয়ারি) আয়া সোফিয়ায় অনুষ্ঠিত ফজরের নামাজে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। জানা যায়, তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান ড. আলি ইরবাশ এক টুইট বার্তায় ফজর নামাজে উপস্থিত হয়ে নতুন বছর শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বছরের প্রথম দিনের ফজর নামাজে সবাইকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভোরের নামাজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ আহ্বান জানানো হয়। তিনি টুইট বার্তায় লিখেন, ‘মসজিদে আমরা সবাই এক পরিবারের মতো। আমরা এক জাতি হয়ে নামাজ আদায় করব। ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সবাইকে আগামীকাল ফজরের নামাজের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ তিনি আরো লিখেন, ‘ভোরের নামাজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে তা পুরো তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ আমি আয়া সোফিয়ায় ফজর নামাজে উপস্থিত থাকব।’ ২০২০ সালের ১০ জুলাই তুরস্কের একটি আদালত ১৯৩৪ সালের মন্ত্রিসভার আদেশ বাতিল করে, যে আদেশের কারণে তখন আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর করা হয়েছিল। ফলে দীর্ঘ ৮৬ বছর পর ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি মসজিদের ঐতিহ্যে ফিরে যাওয়ার পথ সুগম হয়। এরপর ২৪ জুলাই তাতে প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের খ্রিস্টানদের সর্ববৃহৎ গির্জা হিসেবে আয়া সোফিয়া নির্মাণ করা হয়। ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মাদ ফাতিহ কনস্টান্টিনোপল বিজয় করে খ্রিস্টানদের কাছ থেকে ক্রয় করে তা মসজিদ করেন। ৪৮১ বছর মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর ১৯৩৬ সালে আধুনিক তুরস্কের জনক মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক এটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করেন।