• ই-পেপার

আরেকজনের পাসপোর্ট দিয়ে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ : জামিন পেলেন প্রধান আসামি

কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় নাসার নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় নাসার নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা এক মামলায় এক্সিম ব্যাংক ও নাসা গ্রপের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদলত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন। দুদকের পক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল ইসলামসহ অনেকেই তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত বছরের ১৮ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধভাবে ঋণ অনুমোদন করেন। ওই ঋণের মাধ্যমে মোট ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।

আরো বলা, সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সুপারিশ ও বোর্ড মেমোর মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন এবং পরে অর্থ আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তাঁরা ঋণপ্রস্তাব যাচাই-বাছাই না করে, জামানতবিহীন অবস্থায় ও নিয়ম উপেক্ষা করে এই অর্থ ছাড় করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে ধরা পড়া চার আসামির মধ্যে তিনজনকে শাহবাগ থানার প্রতারণার মামলায় একদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার দুই নম্বর আসামি মো. আলিমকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার তাদের ভিন্ন আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামি হলেন মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)।

আজ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

এর আগে, গত রবিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সচিবালয় থেকে তাদের আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের ২০টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান করে গতকাল রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যোগদানপত্র দাখিল করতে বলা হয়।

নির্ধারিত সময়ে আসামিরা সচিবালয়ে যোগ দিতে এলে তাদের চেহারা ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ক্যামেরার ছবির সঙ্গে মেলানো (ফেস ভেরিফিকেশন) হয়। এ সময় চেহারায় মারাত্মক অসংগতি ধরা পড়লে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা স্বীকার করেন, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিয়োগপত্র পান।

মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ
মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই নির্দেশ দিয়েছেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে এ দিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মোজাফফর হোসেনকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে নেওয়া হয়। এরপর শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।

গত মঙ্গলবার মেজর মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ওই দিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। পরে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।

শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য রয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চাচ্ছি। শুনানি শেষে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত।’

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন গত ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর দিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মুগ্ধসহ ১১ হত্যা : ডিসচার্জ চেয়ে আসামিপক্ষের শুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক
মুগ্ধসহ ১১ হত্যা : ডিসচার্জ চেয়ে আসামিপক্ষের শুনানি আজ
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিসচার্জ চেয়ে আজ শুনানি করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। 

আসামিপক্ষের বাকি আইনজীবীদের শুনানি অসমাপ্ত থাকায় আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ কবে দেবেন, সে বিষয়ে তারিখ ঠিক করতে পারেন আদালত।

এ মামলায় ২৬ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন– ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী। বাকি ১৮ জন পলাতক।