এতিম ও বিধবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সামাজিক কর্তব্যবোধের একটি। প্রথম দিকে পরিবার ও সমাজ তাদের প্রতি একটু দয়াপরবশ হলেও এক পর্যায়ে চরম অবমূল্যায়নের শিকার হয় তারা। পরিবার ও সমাজে নিগৃহীত হতে হয় তাদের। ইসলামপূর্ব সমাজেও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত ছিল না। ইসলাম যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করেছে। সর্বোত্তম নফল ইবাদত : হাদিসে এতিম ও বিধবাদের প্রয়োজন পূরণের সহযোগিতাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, রাতের বেলায় নফল নামাজ আদায় ও দিনের বেলায় রোজা রাখার সমতুল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, বিধবা ও মিসকিনের জন্য খাদ্য জোগাড় করতে চেষ্টারত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা রাতে সালাতে দণ্ডায়মান ও দিনে সিয়ামকারীর মতো। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৫৩) অসহায়ের সহায়তা করায় বিশেষ সম্মান : যারা এতিম ও বিধবাদের প্রয়োজন পূরণ ও সহযোগিতার চেষ্টা করবে, দুনিয়া-আখিরাতে তাদের যথেষ্ট সম্মান রয়েছে; যার প্রমাণ সাহাবি নুয়াইম ইবনে আবদুল্লাহ আন-নাহহাম (রা.)-এর ঘটনা। মুসআব জুবায়রি (রহ.) বর্ণিত, তিনি বলেন, নুয়াইম ইবনে আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন। হজরত ওমর (রা.)-এর আগে এবং প্রথম ১০ জনের পরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের কথা কারো কাছে প্রকাশ করেননি। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে একজন মহৎ দানশীল ও মহানুভব ব্যক্তি ছিলেন। তিনি যখন হিজরত করতে প্রস্তুত হলেন, তাঁর গোত্র বনু আদির লোকেরা তাঁকে হিজরত না করার অনুরোধ করল এবং বলল, যে ধর্ম ইচ্ছা আপনি অনুসরণ করুন, তবে আমাদের ছেড়ে যাবেন না। আল্লাহর শপথ! কেউ আপনার পিছু নেবে না। হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে মদিনায় হিজরত : তাঁর প্রতি গোত্রের ভক্তি ও শ্রদ্ধার কারণ, বনু আদি গোত্রের বিধবা নারী ও এতিমদের তিনি আর্থিক সাহায্য করতেন। পরে ষষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়ার সময় তাঁর গোত্রের ৪০ ব্যক্তিকে নিয়ে মদিনায় হিজরত করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন এবং বলেন, নুয়াইম! তোমার ব্যাপারে তোমার সম্প্রদায় আমার সম্প্রদায় থেকে উত্তম। কারণ তারা তোমাকে সমর্থন করে রেখে দিয়েছে। আর আমার সম্প্রদায় আমাকে বের করে দিয়েছে। তখন নুয়াইম (রা.) বলেন, বরং আপনার সম্প্রদায় আমার সম্প্রদায় থেকে উত্তম। কারণ তারা আপনাকে হিজরত করার জন্য বের করে দিয়েছে। আর আমার সম্প্রদায় আমাকে বাধা দিয়েছে। (জামিউল মাসানিদ, হাদিস : ৯৫৭৬) মহানবী (সা.)-এর সুসংবাদ : সাহাবি নুয়াইম (রা.)-এর অনন্য এই আমলের পুরস্কারের কথা এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এভাবে তুলে ধরেছেন, ‘স্বপ্নে আমি একবার জান্নাতে প্রবেশ করলাম, সেখানে নুয়াইমের কাশির শব্দ শুনতে পেলাম।’ (জামেউল মাসানিদ, হাদিস : ৯৫৭৫) আর যখন আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন আমি জান্নাতে নুয়াইমের কাশির (নাহমা) শব্দ শুনতে পেয়েছি, তখন থেকেই তিনি এ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যান। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নুয়াইম ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর ইচ্ছা ও প্রস্তুতি সত্ত্বেও হিজরতের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ আমল পরিত্যাগ করেছেন এতিম ও বিধবা নারীদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য। প্রতিদানে আল্লাহ তাঁর জন্য রেখেছেন জান্নাতের সুসংবাদ। তাই আমাদেরও উচিত এতিম ও বিধবাদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে থাকা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ফজিলতপূর্ণ এই আমলটি করার তাওফিক দান করুন।