মেক্সিকোর সরকারি পরিসংখ্যান মতে, মুসলিমদের সংখ্যা তিন হাজার সাত শ। তবে ‘পিউ ফোরাম ফর রিলিজিয়ন অ্যান্ড পাবলিক লাইফ অব মুসলিমস’-এর মতে, মুসলিমদের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজারের মতো হবে। মেক্সিকোতে বসবাসরত অধিকাংশ মুসলিম মূলত তুরস্ক, সিরিয়া ও লেবানন থেকে আগত শরণার্থী। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, স্পেন থেকেও অনেক মুসলিম মেক্সিকোতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিমদের সামাজিক কার্যক্রমের সূচনা গত শতাব্দীতে। মিসরীয় দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি ক্লাবে সাধারণত জুমার নামাজের ব্যবস্থা থাকত। খুবই সামান্য মুসলিম সেখানে জুমা আদায়ের জন্য আসতেন। তদুপরি নামাজের পর স্প্যানিশ ভাষায় কোনো মুসলিম ইসলামের সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলতেন। ১৯৮৮ সালে প্রখ্যাত দায়ি ড. উমর ওয়াটসন মেক্সিকোতে একটি ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মুসলিমদের ইসলামিক সেন্টারে এসে জুমা আদায়ের জন্য বলতেন। এর পর থেকে সেখানে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অবশ্য পাকিস্তান দূতাবাসে একটি কামরা জুমার নামাজের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ওমর ওয়াটসান অমুসলিমদের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। দূতাবাসের কামরায় শুক্রবার বিকেলবেলা নওমুসলিমদের শিক্ষাদানের অনুমতি ছিল। ১৯৯২ সালে জুমার নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫-এ। ১৯৯৩ সালে পাকিস্তান দূতাবাস ও অন্যান্য মুসলিম দেশের দূতাবাসের উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণের জন্য একখণ্ড জমির দাবি জানায়। রাজধানী কর্তৃপক্ষ মসজিদের জন্য জমি দিতে প্রস্তুত হলেও উদ্যোগটি মারা পড়ে। ফলে আর কিছু হয়নি। ১৯৯৫ সালে ইসলামিক সেন্টার মেক্সিকো সরকার কর্তৃক অনুমোদন পায়। তখন থেকে সেন্টারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শুরু হয়। সেখানে অমুসলিমদের জন্য ইসলামের মৌলিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ইসলামিক সেন্টারের দায়িরা অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তৎপর হয়। তখন জুমার খুতবা আরবি ও স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া হতো। মেক্সিকোর স্থানীয় নওমুসলিম, প্রবাসী ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় মেক্সিকোতে মুসলিমদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। মেক্সিকোয় ইসলামের প্রচার-প্রসারে ইন্টারনেট তথা আধুনিক ত্যথ-প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। মেক্সিকোর অধিবাসী আলেকজান্ডার হোটেন্স একজন বৈমানিক। ইসলাম গ্রহণ করে আহমাদ আব্বাস নাম রাখেন। তিনি বর্ণনা করেন, ‘ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য আমি ইন্টারনেট ও বইয়ের ওপর নির্ভর করি। মেক্সিকোয় ইসলাম প্রসারে এগুলোর অনেক ভূমিকা আছে।’ উমর রাইমি নামে মেক্সিকোর আরেকজন নওমুসলিম বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছা অনেক রহস্যপূর্ণ। দ্বিন সম্পর্কে জানতে ইন্টারনেট আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।’ মনিটারি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক জায়দান জায়ারাবি বলেন, স্পেনের ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে মুসলিমরাও মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকায় আসা শুরু করে। মেক্সিকোয় শরণার্থী শিশুরা নিজেদের ধর্মের প্রতি আগ্রহী না হলেও মুসলিমদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। কারণ নতুন করে অমুসলিমরা ইসলামের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।