kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

যে কারণে ফেসবুক ছাড়তে চান খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব

অনলাইন ডেস্ক   

২১ মার্চ, ২০২১ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে কারণে ফেসবুক ছাড়তে চান খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল আর ফেসবুকে থাকতে চান না। তিনি ভাবছেন ফেসবুক থেকে বিদায় নেওয়ার কথা। এমনটাই নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেছেন। যদিও এখনো তিনি ফেসবুকে সক্রিয়।

কিন্তু কেন তিনি ফেসবুক থেকে বিদায় নিতে চান? এর উত্তর তিনি দিয়েছেন। শনিবার (২০ মার্চ) রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, 'বেয়াদব, ধান্দাবাজ, ইতর, ফালতু, দালাল, চামচা, অতিবিপ্লবী, মুর্খ, হঠকারী, ভণ্ড, জোচ্চোর ও মহাপণ্ডিতদের দৌরাত্ম্যে শেষ অবধি ফেসবুকও ছাড়ব কি-না ভাবছি'।

তার এই পোস্টে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সেলিনা সুলতানা নিশিতা লিখেছেন, 'না ভাইয়া ফেসবুক ছাড়া যাবে না, তারাতো চান আপনার মতো যারা সত্যের পক্ষে অবস্থান নিল তারা এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও না থাকেন, সত্য তুলে না ধরেন, তাদের এই অসত্যের রাজার রাজত্বে তারাই থাকবেন'।

ছাত্রদলের সাবেক আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ এজমল হোসেন পাইলট লিখেছেন, 'আমরা চাই আপনি থাকুন। আমরা অল্প কিছু হলেও তো আছি, পাশে'।

'ধৈর্য ধৈর্য ধৈর্য'- লিখেছেন মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শিরিন সুলতানা।

অবশ্য আরেক পোস্টে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, সারা দেহ-মন-প্রাণ অবসাদ, ক্লান্তি ও গ্লানিতে ছেয়ে গেছে। এমন জরাগ্রস্ততা ও নৈরাশ্য এর আগে জীবনে কখনো বোধ করিনি। আমার নিজের জন্য ব্যক্তিগত অভিলাষ, চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বলে কিছু নেই। সেটা অনেক দিন ধরেই। তবে ছিল কিছু সন্মিলিত প্রত্যাশা।

মানবিক গুণাবলী বিকাশের উপযোগী খুব কাঙ্ক্ষিত একটি সমাজ, মানব মর্যাদাকে সমুন্নত রাখবার মতো বাঞ্ছিত একটি রাষ্ট্র, ভালোবাসার একটি দেশ এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় ঘেরা একটি পরিবেশ প্রত্যাশিত ছিল। আমি চেয়েছি, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন হয় মানবিক গুণাবলী ও সৃজনশীলতায় ভূষিত এবং তাদের জন্য যেন রেখে যেতে পারি সম্ভাবনায় ভরা সুন্দর একটি মাতৃভূমি।

সামষ্টিক এই প্রত্যাশা থেকেই কিছু দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যের তাগিদ অনুভব করতাম। সেই তাগিদ থেকে জীবনীশক্তি উজাড় করে, সবটুকু সামর্থ্য নিংড়ে দিয়ে সদা সচেষ্ট ও সক্রিয় থেকেছি।

অন্তর্গত সে তাগিদটুকুও যেন এখন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। পুরোপুরি গ্রাস করছে চরম নিস্পৃহতা। কেবলই মনে হচ্ছে, এই জগৎ-সংসারে আমার আর কোনো দায় নেই, দায়িত্ব নেই, কর্তব্য নেই। আজব ব্যাপার হলো, দায় ফুরাবার এই অনুভূতিও কিন্তু আমাকে দিচ্ছে না এক চিলতে শান্তি ও স্বস্তি। মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলবার অবকাশ না দিয়ে হতাশা, গ্লানি ও ব্যর্থতার বোঝা বরং দ্বিগুণ হয়ে চেপে বসছে। এ-এক চরম অসহায়ত্ব, প্রবল যন্ত্রণা। এটা নিষ্কৃতি নয়, অবকাশ নয়, মৃত্যুও নয়। এ জীবন্মৃত দশা মৃত্যুর চেয়েও ভয়ঙ্কর।



সাতদিনের সেরা