• ই-পেপার

জিন্স দীর্ঘদিন নতুন রাখতে সঠিক যত্নের সহজ টিপস

টুথপেস্টের নিচে থাকা লাল-নীল-সবুজ রঙে কি কোনো গোপন রহস্য রয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
টুথপেস্টের নিচে থাকা লাল-নীল-সবুজ রঙে কি কোনো গোপন রহস্য রয়েছে
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রচলিত রয়েছে, ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা করতে হয়’। যদিও বাক্যটি প্রচলিত, তবে বাস্তবসম্মত। সঠিক সময় সঠিকভাবে দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া না হলে অকালেই নষ্ট হয় দাঁত।

দাঁত নষ্ট হলে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার খাওয়া ও মুখের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হতে হবে আপনাকে। যা থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও খাবারের পুষ্টি থেকে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে শরীর। এ কারণে দাঁত থাকতেই দাঁতের সঠিক পরিচর্যা করা উচিত।

দাঁতের যত্নে খুব সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে ব্রাশ করা। এ ক্ষেত্রে একেকজনের একেক প্রতিষ্ঠানের টুথপেস্ট পছন্দ। কিন্তু টুথপেস্ট ক্রয়ের সময় প্রায় সবাই হয়তো খেয়াল করে দেখেছেন, টুথপেস্ট টিউবের নিচে কিছু সাধারণ রং-সংকেতযুক্ত বা কালার কোড থাকে, যা দেখে কেউ কেউ ভাবেন―রংগুলো হয়তো পেস্টের উপাদান নির্দেশ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এমন কিছু ছড়িয়ে থাকে মাঝে মধ্যে, যা দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হেলথলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেস্টের এই উপাদান নির্দেশের তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল।

ছড়িয়ে পড়া দাবি অনুযায়ী―সবুজ রং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পেস্ট, নীল প্রাকৃতিক ও ওষুধযুক্ত, লাল হচ্ছে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক এবং কালো রং হচ্ছে সম্পূর্ণ রাসায়নিক উপাদানে তৈরি পেস্ট। প্রকৃত অর্থে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি একেবারেই ভুল।

টুথপেস্টের টিউবের এই রংিন দাগের সঙ্গে পেস্টের উপকরণের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, উপাদান প্রক্রিয়ার সময় তৈরি হওয়া একটি চিহ্ন মাত্র। লাইট বিম সেন্সর বা আলোক সংবেদনশীল যন্ত্র চিহ্নগুলো শনাক্ত করে। যা মেশিনকে সংকেত পাঠায় যে, প্যাকেটের ঠিক কোন স্থানটি কাটতে হবে, ভাজ করতে হবে কিংবা কোথায় সিল বসাতে হবে।

টিউবের গায়ের এই চিহ্নগুলো বিভিন্ন রংের হতে পারে। এসব শুধু সবুজ, নীল, লাল ও কালো রংের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্যাকেজিং বা ভিন্ন ভিন্ন সেন্সর ও মেশিনের সুবিধার জন্য আলাদা রং ব্যবহার করা হয়। অন্যাথায় সব রংের অর্থ বা কাজ একই। তবে পেস্টে ঠিক কী উপাদান রয়েছে তা জানতে পেস্টের বক্সে মুদ্রিত উপাদান তালিকা দেখুন।

  • টুথপেস্টের উপাদানসমূহ

হিউমেক্ট্যান্ট : টুথপেস্ট খোলার পর সেটি জমাট বাঁধা বা শক্ত হওয়া রোধ করার জন্য ব্যবহৃত হয় উপাদানটি। যেমন- গ্লিসারল ও সরবিটল।

সলিড অ্যাবেসিভ : খাবারের অবশিষ্টাংশ দূর করার জন্য এবং দাঁত চকচক করতে ব্যবহার করা হয় উপাদানটি। যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও সিলিকা।

বাইন্ডিং মেটেরিয়াল বা থিকেনিং এজেন্ট : পেস্টের উপাদানগুলোকে স্থিতিশীল রাখার জন্য এবং এসবকে আলাদা হওয়া রোধ করতে ব্যবহৃত হয় উপাদানটি। যেমন- কার্বক্সিমিথাইল সেলুলোজ, ক্যারেজেন্স ও জ্যান্থান গাম।

ফ্লেভারিং এজেন্ট : উপাদানটি মূলত স্বাদের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং এটি থেকে ক্যাভিটি বা ক্ষয় হয় না। যেমন- স্পিয়ারমিন্ট, পেপারমিন্ট, অ্যানিস বা মৌরি, বাবলগাম বা দারুচিনি।

ফ্লুরাইড : এটি হচ্ছে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান, যা দাঁতের এনামেল শক্ত করার জন্য এবং ক্যাভিটি রোধ করতে পরিচিত। তবে উপাদানটি পেস্টের উপাদান তালিকায় সোডিয়াম ফ্লুরাইড, সোডিয়াম মোনোফ্লুরোফসফেট বা সোডিয়াম স্ট্যানাস ফ্লুরাইড হিসেবে লেখা থাকতে পারে।

  • টুথপেস্টের প্রকারভেদ

হোয়াইটেনিং (দাঁত সাদা করার) : দাঁতের দাগ দূর করার জন্য এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে এতে কারবামাইড পেরোক্সাইড বা হাইড্রোজেন পেরোক্সাইড থাকে।

সেনসিটিভ দাঁতের জন্য : সেনসিটিভি দাঁতের টুথপেস্টে পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্রনটিয়াম ক্লোরাইডের মতো সংবেদনশীলতা দূর করার উপাদান থাকে। কখনো গরম কফিতে চুমুক দেয়ার পর বা আইসক্রিম খাওয়ার সময় যদি দাঁতে তীব্র শিরশিরানি অনুভব হয়, তাহলে এ জাতীয় টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

প্লাক কনট্রোল বা টারটার : এটি হচ্ছে শক্ত হয়ে যাওয়া প্লাক। টারটার প্রতিরোধের জন্য তৈরি টুথপেস্টে জিংক সাইট্রেট বা ট্রাইক্লোসান উপাদান থাকতে পারে। এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ট্রাইক্লোসানযুক্ত পেস্ট অন্যান্য সাধারণ পেস্টের তুলনায় প্লাক, মাড়ির প্রদাহ, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ও দাঁতের ক্ষয় দূর করতে কার্যকরী।

প্রাকৃতিক বা হারবাল : প্রাকৃতিক ও ভেষজ পেস্টগুলোয় ফ্লুরাইড ও সোডিয়াম লরিল সালফেট এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়। এতে বেকিং সোডা, অ্যালোভেরা, অ্যাক্সিভেটেড চারকোল, ইসেনশিয়াল অয়েল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ নির্যাস থাকতে পারে। কিন্তু এসবের স্বাস্থ্যগত দাবি বিষয়টি এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত নয়।

সবশেষ, টুথপেস্টের টিউবের নিচে থাকা রং বা কালার কোড কিছুই নির্দেশ করে না। পেস্ট কেনার সময় সেটির স্বাস্থ্যগত দিক গ্রহণযোগ্য কি-না তার সিল, মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য এবং পছন্দের ফ্লেভার দেখে কেনা উচিত।

যিনি নাটককে করেছিলেন সমাজ বদলের হাতিয়ার

জীবনযাপন ডেস্ক
যিনি নাটককে করেছিলেন সমাজ বদলের হাতিয়ার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে জর্জ বার্নার্ড শ এক অনন্য নাম। তিনি ছিলেন আইরিশ নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজচিন্তক। তার লেখা শুধু বিনোদন দেয়নি, সমাজকে নতুন করে ভাবতেও শিখিয়েছে। নাটককে তিনি সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। 

রবিবার (২৬ জুলাই) এই কিংবদন্তি সাহিত্যিকের জন্মদিন। মৃত্যুর সাত দশকেরও বেশি সময় পরও তিনি বিশ্বজুড়ে সমান প্রাসঙ্গিক।

নাটককে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এই কিংবদন্তি সাহিত্যিক আজও বিশ্বজুড়ে সমান প্রাসঙ্গিক।

১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন জর্জ বার্নার্ড শ। সংগ্রামময় শৈশব পার করে ১৮৭৬ সালে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানেই শুরু হয় তার সাহিত্যজীবনের নতুন অধ্যায়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী নাট্যকার, যার রচনা পাশ্চাত্য নাট্যসাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সমাজচিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।

জীবদ্দশায় তিনি ৬০টিরও বেশি নাটক রচনা করেন। তার সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক ‘পিগম্যালিয়ন’ , যা পরবর্তীতে বিশ্বখ্যাত মিউজিক্যাল ‘মাই ফেয়ার লেডি’-এর অনুপ্রেরণা হয়। এ ছাড়া ‘ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান’, ‘মেজর বারবারা’, ‘সেন্ট জোয়ান’, ‘আর্মস অ্যান্ড দ্য ম্যান’ এবং ‘ক্যান্ডিডা’-সহ তার অসংখ্য নাটক আজও বিশ্বজুড়ে মঞ্চস্থ হয়।

জর্জ বার্নার্ড শের নাটকের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ এবং সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধকে প্রশ্ন করার সাহস। শ্রেণিবৈষম্য, সামাজিক অবিচার, নারী-পুরুষের সমতা, মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারের মতো বিষয় তার লেখায় বারবার উঠে এসেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমগুলোর একটি হতে পারে সাহিত্য ও নাটক। তাই তার নাটক শুধু মঞ্চের গল্প নয়, ছিল সমাজ বদলের এক শক্তিশালী ভাষা।

তিনি শুধু একজন সাহিত্যিক ছিলেন না, ছিলেন একজন সমাজতন্ত্রী এবং রাজনৈতিক চিন্তাবিদও। তিনি অহিংস উপায়ে সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করা ফ্যাবিয়ান সোসাইটি-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবেও তিনি পরিচিত।

তার অসামান্য সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৫ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তবে নোবেল পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। পরে ‘পিগম্যালিয়ন’-এর চলচ্চিত্র রূপের চিত্রনাট্যের জন্য তিনি অস্কার অর্জন করেন। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি একই সঙ্গে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ও অস্কার লাভের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

১৯৫০ সালের ২ নভেম্বর, ৯৪ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে। গাছ ছাঁটাই করার সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর সৃষ্ট জটিলতায় কিডনি বিকল হয়ে তিনি মারা যান।

জর্জ বার্নার্ড শের একটি বহুল উদ্ধৃত উক্তি—‘Life isn't about finding yourself. Life is about creating yourself.’ অর্থাৎ জীবন নিজেকে খুঁজে পাওয়ার নয়, নিজেকে গড়ে তোলার নাম।

জন্মদিনে এই কিংবদন্তি নাট্যকারকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় কারণ হয়তো এটাই—তিনি নাটককে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের চিন্তা, বিবেক ও সমাজ বদলের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। আর সে কারণেই মৃত্যুর সাত দশকেরও বেশি সময় পরও জর্জ বার্নার্ড শ বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রাসঙ্গিক নাম।

চিপস ও পপকর্নে মারণব্যাধি ক্যান্সারের ঝুঁকি : গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
চিপস ও পপকর্নে মারণব্যাধি ক্যান্সারের ঝুঁকি : গবেষণা
সংগৃহীত ছবি

চিপস ও পপকর্ন ছোট শিশুদের কাছে খুবই জনপ্রিয় খাবার। এমনটাও হয়ে থাকে যে অবসরে বাসা-বাড়ির শিশুদের সঙ্গে বড়রাও নাশতা হিসেবে খেয়ে থাকেন এসব।

সাধারণত মুখরোচক হওয়ায় কমবেশি সবাই পছন্দ করেন। কিন্তু এসব খেতে সুস্বাদু হলেও সম্প্রতি এক গবেষণা জানিয়েছে, চিপস ও পপকর্ন যারা খায় তাদের ক্যান্সার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

সংবাদমাধ্যমে পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রুটগার্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বাধীন গবেষকদল নিউ জার্সির ৩৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন। তাদের থেকে সংগ্রহীত প্রস্রাবের নমুনায় ‘মাইকোটক্সিন’ পাওয়া গেছে, যা কিছু ছত্রাকের মাধ্যমে উৎপাদিত বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শস্যদানা, বাদাম, শুকনো ফল, আপেল ও কফি বিনের মতো খাবারে মাইকোটক্সিন নামক উপাদান জন্মাতে পারে। যা তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে শুরু করে মারণব্যাধি ক্যান্সার এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা হ্রাসের মতো স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতির মাত্রার সঙ্গে নারীদের খাওয়া পছন্দের পপকর্ন, কর্ন চিপস ও কর্ন টরটিলার (ভুট্টার রুটি) মতো ভুট্টা ও শস্যজাত পণ্যের পরিমাণের শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে। গবেষকরা প্রধানত ‘জিয়ারালিনোন’র ওপর আলোকপাত করেছেন। যা ফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক থেকে সৃষ্টি এক প্রকার মাইকোটক্সিন, এটি ভুট্ট, গম ও ওটসের মতো ফসল দূষিত করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষাক্ত উপাদানটি দূষিত খাদ্য খাওয়া গবাদি পশুর মাংস ও দুধের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। যা উচ্চ তাপমাত্রায়ও টিকে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আর জিয়ারালিনোন হচ্ছে এমন এক ধরনের মাইকোটক্সিন, যা মাইকোইস্ট্রোজেন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। কারণ, উপাদানটি মানবদেহের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো কাজ করতে পারে। যা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভ্রূণের বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘জেন-জি’দের কাছে আগে বিয়ে নাকি ক্যারিয়ার?

সৈয়দা আশাপূর্ণা
‘জেন-জি’দের কাছে আগে বিয়ে নাকি ক্যারিয়ার?
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

একসময় সমাজে একটি নির্দিষ্ট ধারণা ছিল—জীবনের একটি নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, আর ছেলেদের ক্ষেত্রে বলা হতো আগে ভালো আয় ও প্রতিষ্ঠা তৈরি করতে হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের চিন্তাভাবনা। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এখন বড় প্রশ্ন—আগে বিয়ে, নাকি আগে নিজের ক্যারিয়ার?

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম মনে করছে, বিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলেও এটি জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। নিজের শিক্ষা, দক্ষতা, পেশা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, মানসিক প্রস্তুতি এবং ব্যক্তিগত স্বপ্ন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তারা জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো নিতে চায় নিজের প্রস্তুতি ও পছন্দের ভিত্তিতে। শুধু বয়স হয়েছে বা সমাজের চাপ আছে বলে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নয়।

জেন-জি প্রজন্ম কিভাবে ক্যারিয়ারকে দেখে?

জেন-জি প্রজন্ম বলতে বর্তমান সময়ের সেই তরুণদের বোঝায়, যারা প্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের মধ্যে বড় হয়েছে।

এই প্রজন্মের কাছে ক্যারিয়ার বা পেশা মানে শুধু চাকরি করা বা টাকা উপার্জন করা নয়। তাদের কাছে ক্যারিয়ার হলো—

  • নিজের পরিচয় তৈরি করা
  • নিজের দক্ষতা বাড়ানো
  • নিজের পছন্দের কাজ করা
  • আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়া
  • নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা

আগের অনেক প্রজন্মের মতো শুধু ‘একটা চাকরি পেলেই জীবন স্থির’—এমন চিন্তা জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে কম দেখা যায়। তারা বরং এমন কাজ খুঁজছে, যেখানে শেখার সুযোগ আছে, নিজের উন্নতি করা যায় এবং নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।

তাদের অনেকের চিন্তা— ‘আগে নিজের জায়গা তৈরি করি, তারপর জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিই।’

জেন-জি কেন আগে ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিচ্ছে?

বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রা আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচ, প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

এ কারণে অনেক তরুণ-তরুণী মনে করছে, বিয়ের আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা দরকার—

  • নিজের আয় বা উপার্জনের পথ তৈরি করা
  • নিজের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা
  • মানসিকভাবে পরিণত হওয়া
  • ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা

তাদের কাছে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি বড় দায়িত্ব। তাই তারা মনে করে, দায়িত্ব নেওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করা জরুরি।

আগের প্রজন্মের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

আগের প্রজন্মের অনেকের কাছে জীবনের পথ ছিল তুলনামূলক নির্দিষ্ট—

পড়াশোনা শেষ → চাকরি → বিয়ে → সংসার

কিন্তু নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রে পথটা অনেক বেশি ব্যক্তিগত।

তারা মনে করে—

  • সবার জীবনের সময় এক নয়
  • সবার লক্ষ্য এক নয়
  • সবার সফলতার সংজ্ঞাও এক নয়

কেউ আগে পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, কেউ ব্যবসা শুরু করতে চায়, কেউ উচ্চশিক্ষা বা নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়।

মেয়েদের বয়স, ছেলেদের ক্যারিয়ার—পুরোনো ধারণা কি এখনও আছে?

বিয়ের আলোচনায় এখনও সমাজে একটি পার্থক্য দেখা যায়।

মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা হয়—

‘মেয়ের বয়স কত হলো?’

আর ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা হয়—

‘ছেলের ক্যারিয়ার কেমন?’

এই পার্থক্য দীর্ঘদিনের সামাজিক চিন্তাধারা থেকে তৈরি হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের মূল্যায়ন করা হয় বয়স দিয়ে, আর ছেলেদের মূল্যায়ন করা হয় তাদের আয়, চাকরি বা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

একজন ৩০ বছর বয়সী অবিবাহিত নারীকে অনেক সময় শুনতে হয়—

‘এখনও বিয়ে করলে না কেন?’

অন্যদিকে একই বয়সী একজন পুরুষকে বলা হয়—

‘আরেকটু প্রতিষ্ঠিত হও, তারপর বিয়ে করো।’

একই বয়স হলেও নারী ও পুরুষকে দেখার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও অনেক ক্ষেত্রে আলাদা।

মেয়েদের ওপর বয়সের চাপ কেন বেশি?

এর পেছনে রয়েছে কিছু পুরোনো সামাজিক ধারণা।

বিয়েকে মেয়েদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য ভাবা

অনেক সমাজে এখনও মনে করা হয়, মেয়েদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিয়ে ও পরিবার। ফলে বয়স বাড়াকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।

সামাজিক তুলনা

‘অমুকের মেয়ের তো বিয়ে হয়ে গেছে’—এ ধরনের কথাগুলো অনেক পরিবারে মেয়েদের ওপর চাপ তৈরি করে।

ফলে অনেক সময় একজন নারী নিজের ইচ্ছা, শিক্ষা বা পেশার চেয়ে সামাজিক প্রত্যাশাকে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য হন।

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জায়গা কমে যাওয়া

বয়স নিয়ে অতিরিক্ত চাপের কারণে কেউ কেউ নিজের পছন্দ, স্বপ্ন বা প্রস্তুতি ছাড়াই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

ছেলেদের চাপ কি কম?

ছেলেদের ক্ষেত্রেও চাপ রয়েছে। তবে সেই চাপের ধরন আলাদা।

ছেলেদের বলা হয়—

  • ভালো কাজ করতে হবে
  • বেশি আয় করতে হবে
  • পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে
  • জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে

অর্থাৎ ছেলেদের ওপর থাকে সফল হওয়ার চাপ।

তবে পার্থক্য হলো, ছেলেদের সাধারণত সময় দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য, যেখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ তৈরি হয়।

জেন-জি কি বিয়ের বিরুদ্ধে?

না। নতুন প্রজন্ম বিয়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং তারা বিয়েকে আরো সচেতনভাবে দেখতে চায়।

তাদের কাছে একটি ভালো সম্পর্কের অর্থ হলো—

  • পারস্পরিক সম্মান
  • একে অপরের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া
  • দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া
  • মানসিক সমর্থন দেওয়া

তারা এমন সম্পর্ক চায়, যেখানে বিয়ের পরও দুজন মানুষ নিজের লক্ষ্য ও পরিচয় ধরে রাখতে পারে।

ক্যারিয়ার ও বিয়ে—দুটো কি একসঙ্গে সম্ভব?

অনেক তরুণ-তরুণী মনে করে, ক্যারিয়ার ও বিয়ে একে অপরের বাধা নয়।

সঠিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা থাকলে দুটোই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তবে এর জন্য প্রয়োজন—

  • সঠিক সময় নির্বাচন
  • মানসিক প্রস্তুতি
  • আর্থিক পরিকল্পনা
  • একে অপরের প্রতি সম্মান

শুধু বয়স বা সামাজিক চাপের কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বদলাচ্ছে কি সমাজের চিন্তা?

ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।

অনেক পরিবার এখন মেয়েদের শিক্ষা ও পেশাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। একইভাবে ছেলেদের ক্ষেত্রেও শুধু আয় নয়, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তরুণ প্রজন্ম এখন মনে করছে, জীবনের সাফল্য শুধু বিয়ে বা অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

একজন মানুষের সফলতা নির্ভর করে—

  • সে কতটা নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে
  • কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে
  • কতটা ভালোভাবে নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারছে

শেষ কথা

বিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা নয়, আর ক্যারিয়ার শুধু টাকা আয়ের বিষয় নয়। জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের প্রস্তুতি বোঝা।

মেয়েদের শুধু বয়স দিয়ে এবং ছেলেদের শুধু ক্যারিয়ার দিয়ে বিচার না করে, দুজনকেই একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ সুন্দর জীবন তৈরি হয় সমতা, সম্মান, ভালোবাসা এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে।

জিন্স দীর্ঘদিন নতুন রাখতে সঠিক যত্নের সহজ টিপস | কালের কণ্ঠ