• ই-পেপার

অফিসের ব্যস্ততায় সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখবেন যেভাবে

প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের যত্ন, কোনটি ব্যবহার করবেন?

জীবনযাপন ডেস্ক
প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের যত্ন, কোনটি ব্যবহার করবেন?
ছবি: এআই জেনারেটেড

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে সম্প্রতি বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই জানতে চাইছেন, টুথপেস্টের পাশাপাশি বা প্রয়োজনে প্রাকৃতিক উপায়ে কি দাঁতের যত্ন নেওয়া সম্ভব?

১. নিমের ডাল ও নিমপাতার গুঁড়া

গ্রামবাংলায় একসময় নিমগাছের নরম ডালই ছিল প্রাকৃতিক টুথব্রাশ। অনেকেই আবার শুকনো নিমপাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে দাঁত পরিষ্কার করতেন। নিমে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও প্রদাহরোধী উপাদান, যা মুখের জীবাণু কমাতে এবং মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

নিমগাছের একটি নরম ডাল ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে নিন।
এক পাশ চিবিয়ে ব্রাশের মতো নরম করে নিন।
এরপর ধীরে ধীরে দাঁতের চারপাশ পরিষ্কার করুন।
চাইলে শুকনো নিমপাতার গুঁড়া নরম ব্রাশ বা আঙুলে নিয়ে হালকাভাবে দাঁত মাজতে পারেন।
ব্যবহার শেষে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

মুখের ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে সাহায্য করে।
প্লাক জমা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
মাড়িকে সুস্থ ও শক্ত রাখতে সাহায্য করে।
মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।
প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এটি কাঠকয়লার তুলনায় বেশি নিরাপদ বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।


২. পেয়ারা পাতা

শুধু ফল নয়, পেয়ারা পাতাও বহুদিন ধরে ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

দুটি কচি পেয়ারা পাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
ধীরে ধীরে চিবিয়ে রস মুখে ১-২ মিনিট রাখুন।
অথবা কয়েকটি পাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন।
দিনে একবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

উপকারিতা

মাড়ির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মুখের দুর্গন্ধ কমায়।
মুখের কিছু ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে সহায়ক।
মাড়ির হালকা ব্যথা বা অস্বস্তিতে আরাম দিতে পারে।


৩. নারকেল তেল (অয়েল পুলিং)

অয়েল পুলিং আয়ুর্বেদের একটি পুরোনো পদ্ধতি। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মুখের কিছু ব্যাকটেরিয়া কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি ব্রাশের বিকল্প নয়।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

সকালে খালি পেটে এক টেবিল চামচ খাঁটি নারকেল তেল নিন।
১০-১৫ মিনিট মুখে কুলকুচি করুন।
তেলটি গিলে ফেলবেন না।
পরে ফেলে দিয়ে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
এরপর স্বাভাবিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করুন।

উপকারিতা

মুখের কিছু জীবাণু কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নিঃশ্বাস সতেজ রাখতে সহায়ক।
মাড়ির স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মুখ পরিষ্কার রাখার একটি সহায়ক পদ্ধতি।


৪. সরিষার তেল ও লবণ

এটি বহু বছর ধরে প্রচলিত একটি ঘরোয়া উপায়। যদিও নিয়মিত ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

এক চিমটি লবণের সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা খাঁটি সরিষার তেল মিশিয়ে নিন।
আঙুল দিয়ে মাড়িতে আলতোভাবে ১-২ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে ১-২ দিনের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

উপকারিতা

মাড়িতে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
মাড়িকে শক্ত রাখতে সহায়ক।
মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।


৫. লবণ-পানিতে কুলকুচি

এটি সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর একটি।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে নিন।
৩০-৬০ সেকেন্ড কুলকুচি করুন।
দিনে ১-২ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

উপকারিতা

দাঁতের ফাঁকে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করে।
মাড়ির অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।


৬. লবঙ্গ, দারুচিনি ও এলাচ

রান্নাঘরের এই পরিচিত মশলাগুলো মুখের যত্নেও ব্যবহার করা হয়।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

খাবারের পর একটি লবঙ্গ বা এলাচ চিবিয়ে খেতে পারেন।
দারুচিনির ছোট টুকরাও অল্প সময় চিবানো যায়।
লবঙ্গের তেল সরাসরি দাঁতে ব্যবহার না করাই ভালো।

উপকারিতা

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক।
দাঁতের হালকা ব্যথায় সাময়িক আরাম দিতে পারে।


৭. কাঠকয়লা—সাবধানে ব্যবহার করুন

একসময় কাঠকয়লার গুঁড়া দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার প্রচলন ছিল। এটি কিছু দাগ দূর করতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ব্যবহার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। তাই এটি নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভালো।

৮. জিভ পরিষ্কার করাও জরুরি

শুধু দাঁত পরিষ্কার করলেই হবে না, জিভও পরিষ্কার রাখতে হবে।

উপকারিতা

মুখের দুর্গন্ধ কমায়।
ব্যাকটেরিয়া জমা কমাতে সাহায্য করে।
মুখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

দাঁতের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। যুগের পর যুগ মানুষ নিম, পেয়ারা পাতা, লবঙ্গ, লবণ-পানি কিংবা নারকেল তেলের মতো উপাদানের ওপর ভরসা করেছে। এসব উপাদান মুখের পরিচ্ছন্নতা ও মাড়ির যত্নে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

তবে যেকোনো উপাদান ব্যবহারে সঠিক নিয়ম মেনে চলা এবং অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ দাঁত ও মাড়ি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সচেতন পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

১০০ বছর পেরিয়েও প্রাণবন্ত জীবনের রহস্য খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

জীবনযাপন ডেস্ক
১০০ বছর পেরিয়েও প্রাণবন্ত জীবনের রহস্য খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা
ছবি: রয়টার্স

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কার না কাম্য! কেউ শত বছর পার করেও কর্মক্ষম থাকেন, আবার কেউ তার অনেক আগেই নানা বয়সজনিত সমস্যায় ভোগেন। এই পার্থক্যের কারণ খুঁজতেই ব্রাজিলের তিন শতায়ু বোনকে নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে সুস্থ বার্ধক্য সম্পর্কে নতুন দিক উন্মোচন করবে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক  প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর বাসিন্দা লেভিটা দে ডিউস নুনেস (১০৯), জোরাইদে দে ডিউস মোটা (১০৪) ও জুলিনা দে ডিউস নুনেস (১০৩)-এর মোট বয়স ৩১৬ বছর। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাদের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী জীবিত তিন সহোদরা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তাদের নিয়ে গবেষণা করছে সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএনএ লংগেভো প্রকল্প। গবেষকেরা রক্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা করে জানতে চাইছেন, কোন জিন মানুষকে ১০০ বছরের বেশি বয়সেও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। গবেষণায় শতায়ু মানুষদের সঙ্গে এমন ব্যক্তিদেরও তুলনা করা হবে, যাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমেছে, শরীর দুর্বল হয়েছে বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে জীবনযাপন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বংশগত বৈশিষ্ট্যও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্য শত বছর পার করলে জিনগত কারণ শনাক্ত করা আরো সহজ হয়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শতায়ু মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য অন্তত ৫০০ জন শতায়ু মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা।

তবে তিন বোনের নিজেরাও তাদের দীর্ঘ জীবনের পেছনে কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসের কথা বলেছেন। ছোটবেলায় তারা টাটকা খাবার খেতেন, নদীতে সাঁতার কাটতেন, মাছ ধরতেন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতেন। সে সময় সংরক্ষিত বা অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রচলন ছিল না। পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে থাকা এবং একে অপরের পাশে থাকার বিষয়টিকেও তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

দীর্ঘায়ু নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান লংগেভিকোয়েস্টের প্রধান নির্বাহী বেন মেয়ার্সের মতে, এই তিন বোনের দীর্ঘ জীবনের পেছনে জিনগত কারণ যেমন রয়েছে, তেমনি পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে কাছের মানুষের সমর্থন সুস্থ থাকার জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ জীবনের কোনো একক গোপন সূত্র নেই। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, সক্রিয় জীবনযাপন, মানসিক প্রশান্তি, পারিবারিক বন্ধন এবং ভালো জিন—সব মিলিয়েই তৈরি হয় সুস্থ বার্ধক্যের ভিত্তি। আর ব্রাজিলের এই তিন বোনের জীবন সেই বাস্তবতারই একটি অনন্য উদাহরণ।

‘ব্লু জোনস’ ডায়েটের প্রভাব, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার

জীবনযাপন ডেস্ক
‘ব্লু জোনস’ ডায়েটের প্রভাব, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার
সংগৃহীত ছবি

শতবর্ষী জীবনের রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই। কিভাবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে ১০০ বছর বা তারও বেশি দিন বেঁচে থাকেন? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘায়ু পাওয়ার এই কৌশল কোনো কঠিন নিয়মকানুন বা বিদেশি দামি খাবারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও সাধারণ কিছু জীবনযাত্রার সঠিক সমন্বয়েই লুকিয়ে আছে শতবর্ষ পাওয়ার আসল চাবিকাঠি। 

সুস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার এক জনপ্রিয় নাম ‘ব্লু জোনস’ ডায়েট। জাপানের ওকিনাওয়া, ইতালির সার্ডিনিয়া, গ্রিসের ইকারিয়া, কোস্টারিকার নিকোয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডার মতো অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু অস্বাভাবিকভাবে বেশি। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ সুস্থভাবে ৯০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। তাদের এই খাদ্যাভ্যাস মূলত উদ্ভিদ-ভিত্তিক, যেখানে শিম, ডাল, শাকসবজি, ফল, শস্যদানা ও বাদাম বেশি থাকে। মাংস ও চিনি খাওয়া হয় খুবই কম, আর প্রক্রিয়াজাত খাবার থাকে প্রায় অনুপস্থিত। ব্লু জোনস ডায়েটের নীতিগুলো গ্রহণ করতে কোনো বিদেশি উপাদান বা আমদানি করা সুপারফুডের প্রয়োজন হয় না। 

শুধু খাবার নয়, জরুরি জীবনযাত্রাও
দীর্ঘায়ু লাভের একমাত্র কারণ শুধু খাবার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা, পারিবারিক ও সামাজিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানসিক চাপ কম রাখাই তাদের সুস্থতার প্রধান চালিকাশক্তি। তাড়াহুড়ো না করে সবার সাথে আনন্দ নিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও এতে বড় ভূমিকা রাখে।

হৃদযন্ত্র ও শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক এই খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
ফাইবার ও কোলেস্টেরল : শিম ও ওটসের দ্রবণীয় ফাইবার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়।
পটাশিয়াম ও রক্তচাপ : শাকসবজি ও ফলের পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সুস্থ হৃদযন্ত্র : বাদাম ও বীজের অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের পুষ্টিকর খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

আমাদের দেশীয় খাদ্যাভ্যাসে ব্লু জোনসের প্রয়োগ
ব্লু জোনসের এই স্বাস্থ্যকর নীতি মেনে চলতে কোনো বিদেশি দামি খাবার বা সুপারফুডের প্রয়োজন নেই। আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—যেমন ডাল, ছোলা, বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজি ও ফলমূল এই ধারণার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

কী বর্জন করা উচিত : শরীর সুস্থ রাখতে তেলেভাজা, ময়দার তৈরি খাবার, মিষ্টি পানীয়, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমাতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ : বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খেলেই স্বাস্থ্যের বড় ধরণের উন্নতি সম্ভব।

দীর্ঘায়ু কোনো ম্যাজিক বা বিশেষ একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে না। এটি বছরের পর বছর ধরে চর্চা করা ছোট ছোট ভালো অভ্যাসের সমষ্টি। নিয়ম মেনে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, শারীরিক সক্রিয়তা ধরে রাখা এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা—এই সাধারণ সিদ্ধান্তগুলোই দীর্ঘমেয়াদে আয়ু ও জীবনযাত্রার মান বাড়িয়ে তোলে।

অল্প বয়সেই কর্মক্ষেত্রে সম্মান অর্জনের ৩ উপায়

অনলাইন ডেস্ক
অল্প বয়সেই কর্মক্ষেত্রে সম্মান অর্জনের ৩ উপায়
সংগৃহীত ছবি

কর্মক্ষেত্রে নতুনদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের আস্থা ও সম্মান অর্জন করা। অনেকেই মনে করেন, এটি শুধু অভিজ্ঞতা বা পদবির ওপর নির্ভর করে। তবে কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া এক কনটেন্ট নির্মাতা বলছেন, সম্মান অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজের ধরন এবং আচরণ।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি অভিজ্ঞ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করেও তিনি মাত্র ১৫ মাসে টানা তিনবার পদোন্নতি পেয়েছিলেন। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে বয়স বা পদবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় একজন কর্মী কীভাবে প্রতিদিনের কাজ সামলান। তিনি এমন তিনটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন, যা নতুন বা তরুণ পেশাজীবীদের দ্রুত সবার আস্থা ও সম্মান অর্জনে সাহায্য করতে পারে।

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড ভাবুন

তার মতে, অনেক নতুন কর্মী ব্যবস্থাপক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করেন। তারা দ্রুত নিজেদের দক্ষতা দেখাতে চান। কিন্তু এতে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় বা ভুল তথ্য বলে ফেলেন। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রশ্ন শুনেই উত্তর না দিয়ে দুই সেকেন্ড থামা ভালো। তার ভাষায়, 'আগে বিষয়টি বুঝে নিন। মাথা নেড়ে বোঝান যে আপনি প্রশ্নটি শুনেছেন। তারপর উত্তর দিন।' তিনি বলেন, কয়েক সেকেন্ড ভেবে উত্তর দিলে বোঝা যায়, আপনি শান্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং চিন্তা করে কথা বলেন। এতে আপনাকে আরো পেশাদার মনে হবে। 

কাজ বুঝেছেন কি না, তা আবার বলে নিশ্চিত করুন

কোনো নতুন দায়িত্ব পেলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে 'জি, অবশ্যই' বলে কাজ শুরু করে দেন। কিন্তু এতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থেকে যায়। কনটেন্ট নির্মাতার পরামর্শ, দায়িত্ব পাওয়ার পর পুরো কাজটি নিজের ভাষায় আবার বলে নিশ্চিত করা উচিত। এভাবে কাজের ধাপ, সময়সীমা এবং এরপর কী করতে হবে—সবকিছু আবার বললে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আপনি নির্দেশনা ঠিকভাবে বুঝেছেন। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছেও আপনার মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় উপস্থাপন করা যায়।

কাজ শেষ করে কী শিখেছেন, সেটিও জানান

তার মতে, নতুন কর্মীদের আরেকটি সাধারণ ভুল হলো কোনো কাজ শেষ করেই পরের কাজে চলে যাওয়া। তিনি বলেন, এটি আসলে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তার পরামর্শ, কাজ জমা দেওয়ার সময় শুধু কাজ শেষ হয়েছে বললেই হবে না। বরং সেই কাজ করতে গিয়ে আপনি কী শিখেছেন বা কী নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটিও ব্যবস্থাপককে জানানো উচিত। তিনি বলেন, এতে বোঝা যায় যে আপনি শুধু কাজ শেষ করেন না, বরং প্রতিটি কাজ থেকে শেখার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে আরো দক্ষ করে তুলতে চান।

এই কনটেন্ট নির্মাতার মতে, কর্মক্ষেত্রে ভালো সুনাম গড়ে তুলতে বড় কোনো পদ বা দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের কাজে দায়িত্বশীলতা, মনোযোগ, পরিষ্কার যোগাযোগ এবং শেখার মানসিকতা দেখাতে পারলেই একজন তরুণ কর্মী খুব দ্রুত সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের আস্থা ও সম্মান অর্জন করতে পারেন।

অফিসের ব্যস্ততায় সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখবেন যেভাবে | কালের কণ্ঠ