• ই-পেপার

চোখ ভালো রাখবে যেসব খাবার

ক্লান্ত লাগলে সোশ্যাল মিডিয়া নয়, বিশ্রাম দিন মস্তিষ্ককে

জীবনযাপন ডেস্ক
ক্লান্ত লাগলে সোশ্যাল মিডিয়া নয়, বিশ্রাম দিন মস্তিষ্ককে
ছবি : এআই জেনারেটেড

ক্লান্ত লাগলে অনেকেই বিছানায় শুয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে শুরু করেন। অনেকের কাছে এটিই যেন বিশ্রামের সবচেয়ে সহজ উপায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস শরীরকে কিছুটা আরাম দিলেও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে উদ্দেশ্যহীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করলে মস্তিষ্ক আরও ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।

সোমবার (২৭ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জার্নাল অব দি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষ্ক্রিয়ভাবে স্ক্রল করা মস্তিষ্কের মানসিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে না। বরং এটি মানসিক ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, উদ্বেগ, আবেগগত চাপ এবং অতিরিক্ত স্ক্রিননির্ভরতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কেন বিশ্রাম নিয়েও ক্লান্ত লাগে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ও মস্তিষ্ক একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শরীর বিশ্রামে থাকলেও যদি মস্তিষ্ক একের পর এক তথ্য গ্রহণ করতে থাকে, তাহলে প্রকৃত বিশ্রাম হয় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন ভিডিও, ছবি, খবর ও মতামত সামনে আসায় মস্তিষ্ক সব সময় তথ্য বিশ্লেষণের কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে বিশ্রামের বদলে মানসিক চাপ আরও বাড়ে।

এ ছাড়া স্মার্টফোনের নীল আলো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের ক্ষণস্থায়ী উদ্দীপনা তৈরি করে। এতে স্ক্রল করার ইচ্ছা আরও বাড়ে এবং রাতে ঘুম আসতেও দেরি হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলের সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে?

গবেষকরা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন কনটেন্ট দেখার কারণে মস্তিষ্ক সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকে। একের পর এক ভিডিও, ছবি ও পোস্ট মস্তিষ্ককে নতুন তথ্য গ্রহণে বাধ্য করে। এতে তথ্যের অতিরিক্ত চাপ  তৈরি হয়।

অটোপ্লে ও অসীম স্ক্রল  ফিচারের কারণে মস্তিষ্ক ডোপামিননির্ভর এক চক্রে আটকে যায়। ফলে মানুষ বুঝতেই পারে না কতক্ষণ ধরে স্ক্রল করছে।

কেন বাড়ে মানসিক ক্লান্তি?

কম্পিউটারস ইন হিউম্যান বিহেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বারবার এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে মনোযোগ সরাতে হলে মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে মনোযোগের স্থায়িত্ব কমে যায় এবং কাজে মন বসানো কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে নেতিবাচক খবর, দুর্ঘটনা, সহিংসতা বা উদ্বেগ তৈরি করে এমন কনটেন্ট দীর্ঘ সময় দেখার অভ্যাস, যাকে ডুমস্ক্রলিং বলা হয়, তা আবেগগত ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ বাড়াতে পারে।

বুঝবেন কিভাবে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পাচ্ছে না?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে মস্তিষ্ক প্রকৃত বিশ্রাম পাচ্ছে না—

স্ক্রল করার পরও মানসিকভাবে ক্লান্ত লাগা
মাথা ঝাপসা বা ‘ব্রেন ফগ’ অনুভব করা
মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
সহজেই বিরক্ত হয়ে যাওয়া
কোনো কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিতে না পারা
কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া
কী করলে মস্তিষ্ক সত্যিকারের বিশ্রাম পাবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্রামের সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে ভালো। এর পরিবর্তে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মস্তিষ্ককে দ্রুত সতেজ করতে পারে।

প্রকৃতির মধ্যে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন।
কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা মেডিটেশন করুন।
কাগজের বই বা ম্যাগাজিন পড়ুন।
পছন্দের গান শুনুন।
প্রতিদিন কিছু সময় সম্পূর্ণ স্ক্রিনমুক্ত থাকুন।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।
প্রয়োজন হলে অ্যাপ টাইমার ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ার সময় সীমিত করুন।

জার্নাল অব টেকনোলজি ইন বিহেভিয়ারাল সায়েন্স-এর গবেষণায়ও বলা হয়েছে, ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করলে মস্তিষ্ক দ্রুত অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মনোযোগ, ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক মিনিট সময় কাটানো সাময়িকভাবে ভালো লাগার অনুভূতি দিতে পারে। তবে সেটি সব সময় মস্তিষ্কের প্রকৃত বিশ্রাম নয়। বরং অতিরিক্ত স্ক্রল করার অভ্যাস মানসিক ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও ঘুমের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই ক্লান্ত লাগলে কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থেকে প্রকৃতিকে উপভোগ করা, বই পড়া, গান শোনা বা নীরবে বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই মস্তিষ্ককে সুস্থ ও সতেজ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের যত্ন, কোনটি ব্যবহার করবেন?

জীবনযাপন ডেস্ক
প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁতের যত্ন, কোনটি ব্যবহার করবেন?
ছবি: এআই জেনারেটেড

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে সম্প্রতি বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই জানতে চাইছেন, টুথপেস্টের পাশাপাশি বা প্রয়োজনে প্রাকৃতিক উপায়ে কি দাঁতের যত্ন নেওয়া সম্ভব?

১. নিমের ডাল ও নিমপাতার গুঁড়া

গ্রামবাংলায় একসময় নিমগাছের নরম ডালই ছিল প্রাকৃতিক টুথব্রাশ। অনেকেই আবার শুকনো নিমপাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে দাঁত পরিষ্কার করতেন। নিমে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও প্রদাহরোধী উপাদান, যা মুখের জীবাণু কমাতে এবং মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

নিমগাছের একটি নরম ডাল ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে নিন।
এক পাশ চিবিয়ে ব্রাশের মতো নরম করে নিন।
এরপর ধীরে ধীরে দাঁতের চারপাশ পরিষ্কার করুন।
চাইলে শুকনো নিমপাতার গুঁড়া নরম ব্রাশ বা আঙুলে নিয়ে হালকাভাবে দাঁত মাজতে পারেন।
ব্যবহার শেষে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

মুখের ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে সাহায্য করে।
প্লাক জমা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
মাড়িকে সুস্থ ও শক্ত রাখতে সাহায্য করে।
মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।
প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এটি কাঠকয়লার তুলনায় বেশি নিরাপদ বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।


২. পেয়ারা পাতা

শুধু ফল নয়, পেয়ারা পাতাও বহুদিন ধরে ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

দুটি কচি পেয়ারা পাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
ধীরে ধীরে চিবিয়ে রস মুখে ১-২ মিনিট রাখুন।
অথবা কয়েকটি পাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন।
দিনে একবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

উপকারিতা

মাড়ির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মুখের দুর্গন্ধ কমায়।
মুখের কিছু ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে সহায়ক।
মাড়ির হালকা ব্যথা বা অস্বস্তিতে আরাম দিতে পারে।


৩. নারকেল তেল (অয়েল পুলিং)

অয়েল পুলিং আয়ুর্বেদের একটি পুরোনো পদ্ধতি। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মুখের কিছু ব্যাকটেরিয়া কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি ব্রাশের বিকল্প নয়।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

সকালে খালি পেটে এক টেবিল চামচ খাঁটি নারকেল তেল নিন।
১০-১৫ মিনিট মুখে কুলকুচি করুন।
তেলটি গিলে ফেলবেন না।
পরে ফেলে দিয়ে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
এরপর স্বাভাবিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করুন।

উপকারিতা

মুখের কিছু জীবাণু কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নিঃশ্বাস সতেজ রাখতে সহায়ক।
মাড়ির স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মুখ পরিষ্কার রাখার একটি সহায়ক পদ্ধতি।


৪. সরিষার তেল ও লবণ

এটি বহু বছর ধরে প্রচলিত একটি ঘরোয়া উপায়। যদিও নিয়মিত ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

এক চিমটি লবণের সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা খাঁটি সরিষার তেল মিশিয়ে নিন।
আঙুল দিয়ে মাড়িতে আলতোভাবে ১-২ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে ১-২ দিনের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

উপকারিতা

মাড়িতে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
মাড়িকে শক্ত রাখতে সহায়ক।
মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।


৫. লবণ-পানিতে কুলকুচি

এটি সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর একটি।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে নিন।
৩০-৬০ সেকেন্ড কুলকুচি করুন।
দিনে ১-২ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

উপকারিতা

দাঁতের ফাঁকে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করে।
মাড়ির অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।


৬. লবঙ্গ, দারুচিনি ও এলাচ

রান্নাঘরের এই পরিচিত মশলাগুলো মুখের যত্নেও ব্যবহার করা হয়।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

খাবারের পর একটি লবঙ্গ বা এলাচ চিবিয়ে খেতে পারেন।
দারুচিনির ছোট টুকরাও অল্প সময় চিবানো যায়।
লবঙ্গের তেল সরাসরি দাঁতে ব্যবহার না করাই ভালো।

উপকারিতা

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক।
দাঁতের হালকা ব্যথায় সাময়িক আরাম দিতে পারে।


৭. কাঠকয়লা—সাবধানে ব্যবহার করুন

একসময় কাঠকয়লার গুঁড়া দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার প্রচলন ছিল। এটি কিছু দাগ দূর করতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ব্যবহার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। তাই এটি নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভালো।

৮. জিভ পরিষ্কার করাও জরুরি

শুধু দাঁত পরিষ্কার করলেই হবে না, জিভও পরিষ্কার রাখতে হবে।

উপকারিতা

মুখের দুর্গন্ধ কমায়।
ব্যাকটেরিয়া জমা কমাতে সাহায্য করে।
মুখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

দাঁতের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। যুগের পর যুগ মানুষ নিম, পেয়ারা পাতা, লবঙ্গ, লবণ-পানি কিংবা নারকেল তেলের মতো উপাদানের ওপর ভরসা করেছে। এসব উপাদান মুখের পরিচ্ছন্নতা ও মাড়ির যত্নে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

তবে যেকোনো উপাদান ব্যবহারে সঠিক নিয়ম মেনে চলা এবং অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ দাঁত ও মাড়ি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সচেতন পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

১০০ বছর পেরিয়েও প্রাণবন্ত জীবনের রহস্য খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

জীবনযাপন ডেস্ক
১০০ বছর পেরিয়েও প্রাণবন্ত জীবনের রহস্য খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা
ছবি: রয়টার্স

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কার না কাম্য! কেউ শত বছর পার করেও কর্মক্ষম থাকেন, আবার কেউ তার অনেক আগেই নানা বয়সজনিত সমস্যায় ভোগেন। এই পার্থক্যের কারণ খুঁজতেই ব্রাজিলের তিন শতায়ু বোনকে নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে সুস্থ বার্ধক্য সম্পর্কে নতুন দিক উন্মোচন করবে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক  প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর বাসিন্দা লেভিটা দে ডিউস নুনেস (১০৯), জোরাইদে দে ডিউস মোটা (১০৪) ও জুলিনা দে ডিউস নুনেস (১০৩)-এর মোট বয়স ৩১৬ বছর। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাদের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী জীবিত তিন সহোদরা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তাদের নিয়ে গবেষণা করছে সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএনএ লংগেভো প্রকল্প। গবেষকেরা রক্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা করে জানতে চাইছেন, কোন জিন মানুষকে ১০০ বছরের বেশি বয়সেও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। গবেষণায় শতায়ু মানুষদের সঙ্গে এমন ব্যক্তিদেরও তুলনা করা হবে, যাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমেছে, শরীর দুর্বল হয়েছে বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে জীবনযাপন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বংশগত বৈশিষ্ট্যও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্য শত বছর পার করলে জিনগত কারণ শনাক্ত করা আরো সহজ হয়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শতায়ু মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য অন্তত ৫০০ জন শতায়ু মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা।

তবে তিন বোনের নিজেরাও তাদের দীর্ঘ জীবনের পেছনে কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসের কথা বলেছেন। ছোটবেলায় তারা টাটকা খাবার খেতেন, নদীতে সাঁতার কাটতেন, মাছ ধরতেন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতেন। সে সময় সংরক্ষিত বা অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রচলন ছিল না। পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে থাকা এবং একে অপরের পাশে থাকার বিষয়টিকেও তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

দীর্ঘায়ু নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান লংগেভিকোয়েস্টের প্রধান নির্বাহী বেন মেয়ার্সের মতে, এই তিন বোনের দীর্ঘ জীবনের পেছনে জিনগত কারণ যেমন রয়েছে, তেমনি পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে কাছের মানুষের সমর্থন সুস্থ থাকার জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ জীবনের কোনো একক গোপন সূত্র নেই। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, সক্রিয় জীবনযাপন, মানসিক প্রশান্তি, পারিবারিক বন্ধন এবং ভালো জিন—সব মিলিয়েই তৈরি হয় সুস্থ বার্ধক্যের ভিত্তি। আর ব্রাজিলের এই তিন বোনের জীবন সেই বাস্তবতারই একটি অনন্য উদাহরণ।

‘ব্লু জোনস’ ডায়েটের প্রভাব, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার

জীবনযাপন ডেস্ক
‘ব্লু জোনস’ ডায়েটের প্রভাব, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার
সংগৃহীত ছবি

শতবর্ষী জীবনের রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই। কিভাবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে ১০০ বছর বা তারও বেশি দিন বেঁচে থাকেন? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘায়ু পাওয়ার এই কৌশল কোনো কঠিন নিয়মকানুন বা বিদেশি দামি খাবারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও সাধারণ কিছু জীবনযাত্রার সঠিক সমন্বয়েই লুকিয়ে আছে শতবর্ষ পাওয়ার আসল চাবিকাঠি। 

সুস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার এক জনপ্রিয় নাম ‘ব্লু জোনস’ ডায়েট। জাপানের ওকিনাওয়া, ইতালির সার্ডিনিয়া, গ্রিসের ইকারিয়া, কোস্টারিকার নিকোয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডার মতো অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু অস্বাভাবিকভাবে বেশি। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ সুস্থভাবে ৯০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। তাদের এই খাদ্যাভ্যাস মূলত উদ্ভিদ-ভিত্তিক, যেখানে শিম, ডাল, শাকসবজি, ফল, শস্যদানা ও বাদাম বেশি থাকে। মাংস ও চিনি খাওয়া হয় খুবই কম, আর প্রক্রিয়াজাত খাবার থাকে প্রায় অনুপস্থিত। ব্লু জোনস ডায়েটের নীতিগুলো গ্রহণ করতে কোনো বিদেশি উপাদান বা আমদানি করা সুপারফুডের প্রয়োজন হয় না। 

শুধু খাবার নয়, জরুরি জীবনযাত্রাও
দীর্ঘায়ু লাভের একমাত্র কারণ শুধু খাবার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা, পারিবারিক ও সামাজিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানসিক চাপ কম রাখাই তাদের সুস্থতার প্রধান চালিকাশক্তি। তাড়াহুড়ো না করে সবার সাথে আনন্দ নিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও এতে বড় ভূমিকা রাখে।

হৃদযন্ত্র ও শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক এই খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
ফাইবার ও কোলেস্টেরল : শিম ও ওটসের দ্রবণীয় ফাইবার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়।
পটাশিয়াম ও রক্তচাপ : শাকসবজি ও ফলের পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সুস্থ হৃদযন্ত্র : বাদাম ও বীজের অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের পুষ্টিকর খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

আমাদের দেশীয় খাদ্যাভ্যাসে ব্লু জোনসের প্রয়োগ
ব্লু জোনসের এই স্বাস্থ্যকর নীতি মেনে চলতে কোনো বিদেশি দামি খাবার বা সুপারফুডের প্রয়োজন নেই। আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—যেমন ডাল, ছোলা, বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজি ও ফলমূল এই ধারণার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

কী বর্জন করা উচিত : শরীর সুস্থ রাখতে তেলেভাজা, ময়দার তৈরি খাবার, মিষ্টি পানীয়, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমাতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ : বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খেলেই স্বাস্থ্যের বড় ধরণের উন্নতি সম্ভব।

দীর্ঘায়ু কোনো ম্যাজিক বা বিশেষ একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে না। এটি বছরের পর বছর ধরে চর্চা করা ছোট ছোট ভালো অভ্যাসের সমষ্টি। নিয়ম মেনে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, শারীরিক সক্রিয়তা ধরে রাখা এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা—এই সাধারণ সিদ্ধান্তগুলোই দীর্ঘমেয়াদে আয়ু ও জীবনযাত্রার মান বাড়িয়ে তোলে।

চোখ ভালো রাখবে যেসব খাবার | কালের কণ্ঠ