• ই-পেপার

গরমে চুলের যত্ন

রাতে ঘুম আসছে না? ভালো ঘুমের জন্য মানতে পারেন কিছু সহজ অভ্যাস

অনলাইন ডেস্ক
রাতে ঘুম আসছে না? ভালো ঘুমের জন্য মানতে পারেন কিছু সহজ অভ্যাস
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ঘুম না আসা, মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্ত লাগা—এ ধরনের সমস্যায় ভুগছে অনেক মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, মানসিক চাপ এবং খাবার-ঘুমের অনিয়মের কারণে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস বদলালে ঘুমের মান অনেকটাই উন্নত হতে পারে।

রাতের খাবার আগে শেষ করুন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া উচিত। দেরিতে খেলে শরীরকে ঘুমের সময়ও খাবার হজমের কাজ চালিয়ে যেতে হয়, যা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শোবার ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখুন
অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা পরিবেশ ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুমের সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমে আসে। তাই আরামদায়ক ও শীতল পরিবেশ ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

সকালে সূর্যের আলোতে সময় কাটান
সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম আসা সহজ হয়।

ঘুম না এলে বিছানায় পড়ে থাকবেন না
দীর্ঘ সময় জেগে বিছানায় শুয়ে থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে ঘুমের জায়গার বদলে জেগে থাকার জায়গা হিসেবে চিনতে শুরু করতে পারে। তাই ঘুম না এলে কিছুক্ষণ উঠে শান্ত কোনো কাজ করে পরে আবার বিছানায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘুমের আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন
শোয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে। এই পরিবর্তন মস্তিষ্ককে ঘুমের প্রস্তুতির সংকেত দেয়।

উজ্জ্বল আলো কমিয়ে দিন
রাতের দিকে ঘরের তীব্র আলো কমিয়ে দেওয়া ভালো। কারণ উজ্জ্বল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরের দিনের কাজ লিখে রাখুন
অনেকেরই ঘুমানোর সময় নানা চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। তাই পরদিনের করণীয় বা অসমাপ্ত কাজের তালিকা আগে থেকে লিখে রাখলে মানসিক চাপ কমে এবং ঘুম সহজে আসে।

ফোন দূরে রাখুন
বিছানার পাশে মোবাইল থাকলে বারবার স্ক্রিন দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। ফোনের নীল আলো এবং বিভিন্ন নোটিফিকেশন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমের সময় ফোন দূরে রাখা ভালো।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেয়ে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ছুটির দিনেও এই নিয়ম বজায় রাখলে শরীরের ঘুমের ছন্দ ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভালো ঘুমের জন্য ওষুধের আগে জীবনযাপনের ছোট ছোট পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মুখের ঘা কি সাধারণ সমস্যা নাকি সতর্ক সংকেত?

অনলাইন ডেস্ক
মুখের ঘা কি সাধারণ সমস্যা নাকি সতর্ক সংকেত?
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ঠোঁটের ভেতরে বা গালের পাশে হঠাৎ ছোট ছোট ঘা দেখা দেওয়া, খেতে গেলে জ্বালা বা ব্যথা অনুভব করা—এ ধরনের সমস্যা অনেকেই মাঝেমধ্যেই অনুভব করেন। কিন্তু এটি কি শুধুই সাধারণ শারীরিক সমস্যা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনো অসুখ? 

চিকিৎসকদের মতে, মুখের ঘা বা আলসার খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই নিজে থেকে সেরে যায়। ফলে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তবে মুখের ঘা কখনো কখনো শরীরের ভেতরের বড় কোনো সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে।

মুখে ঘা হওয়ার সাধারণ কারণ

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুখের ঘা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। এ ছাড়া খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গাল বা জিহ্বায় কামড় লেগে যাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ, শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এবং ভিটামিন ও পুষ্টির সামান্য অভাবও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।

কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ঘা সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেরে গেলে চিন্তার কারণ নেই। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন—ঘা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা আকারে বড় হতে থাকলে, ঘা থেকে রক্তপাত হলে। পাশাপাশি মুখে ক্রমাগত ব্যথা, খাবার গিলতে সমস্যা, অকারণ ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, বারবার মুখে ঘা হওয়া কখনো কখনো শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন বা ফোলেটের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি মেটাবলিক ডিজঅর্ডার বা অন্যান্য ক্রনিক রোগের প্রাথমিক সংকেতও মুখে প্রকাশ পেতে পারে।

চিকিৎসা ও পরামর্শ

অনেকেই মুখের ঘা হলে ঘরোয়া টোটকা বা ওভার-দ্য-কাউন্টার জেল ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক আরাম মিললেও মূল কারণ দূর হয় না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মুখের ঘা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া মানেই তা সব সময় গুরুতর নয়, তবে সময়কাল ও লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতের জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

হার্ট থেকে হাড়—সব কিছুর সুরক্ষায় মাশরুম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি

অনলাইন ডেস্ক
হার্ট থেকে হাড়—সব কিছুর সুরক্ষায় মাশরুম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভুল খাদ্যাভ্যাস যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়, তেমনই সঠিক খাবার শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে সুরক্ষা দিতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের মত অনুযায়ী, এমনই একটি উপকারী খাদ্য হতে পারে মাশরুম, যা হার্ট, কিডনি, লিভার ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মাশরুম মূলত এক ধরনের ছত্রাক, যা আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে জন্মায়। প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজে সমৃদ্ধ এই খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ্যা বিভাগের পক্ষ থেকেও।

নিয়মিত মাশরুম খেলে শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ট্রাইগ্লিসারাইড এক ধরনের ফ্যাট, যা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

পুষ্টিবিদদের মতে, মাশরুমে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বি-ভিটামিন, ভিটামিন ডি, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, কপার ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুমে প্রায় ৩ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যায়, যা প্রজাতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যেমন আরগোথায়োনিন ও গ্লুটাথিয়ন শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা কোষের ক্ষতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণা বলছে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মাশরুম অন্তর্ভুক্ত করলে কার্ডিও-মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। কারণ স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা হার্ট রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে পড়ে। মাশরুম এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

পুষ্টিবিদরা বলেন, মাশরুম কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় ওজন বাড়ার আশঙ্কা কম থাকে। পাশাপাশি এটি লিপিড নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে, যা হার্টের জন্য উপকারী।

শুধু হার্ট নয়, মাশরুম ভিটামিন ডি-এরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভিটামিন ডি হাড় মজবুত রাখতে সহায়তা করে। নিউট্রিয়েন্টস-এ প্রকাশিত ২০১৮ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, মাশরুম সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে এতে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এই মাত্রা কয়েক গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাটন, অয়েস্টার, মিল্কি ও শিটাকে—এ ধরনের মাশরুম নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, যেকোনো খাবারের মতোই মাশরুমও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী।

মাশরুম দিয়ে কয়েকটি সহজ রেসিপি—

মাশরুম ভাজি
মাশরুম ভাজি তৈরির জন্য সবচেয়ে ভালো হয় বাটন মাশরুম। এটি সহজে পাওয়া যায় এবং দ্রুত রান্না হয়ে যায়। মাশরুম ভালো করে ধুয়ে কেটে নিতে হয়। এরপর কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও রসুন ভেজে নিতে হয়। তারপর বাটন মাশরুম দিয়ে লবণ, হলুদ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ৮–১০ মিনিট রান্না করতে হয় যতক্ষণ না পানি শুকিয়ে যায়। শেষে ধনিয়া পাতা ছড়িয়ে দিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।

মাশরুম কারি
মাশরুম কারির জন্যও বাটন মাশরুম সবচেয়ে উপযুক্ত। চাইলে একটু ঘন ও নরম টেক্সচারের জন্য মিল্কি মাশরুমও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথমে তেলে পেঁয়াজ বাটা ভেজে নিতে হয়। এরপর আদা-রসুন বাটা ও টুকরো করা টমেটো দিয়ে কষাতে হয়। তারপর হলুদ, মরিচ ও গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে ভালোভাবে রান্না করতে হয়। শেষে মাশরুম দিয়ে ১০–১২ মিনিট রান্না করলে সুস্বাদু ঝোলযুক্ত কারি তৈরি হয়ে যায়।

মাশরুম চিলি
মাশরুম চিলির জন্য অয়েস্টার মাশরুম সবচেয়ে ভালো। এগুলো পাতলা ও মাংসল হওয়ায় চাইনিজ স্টাইলে দারুণ স্বাদ আনে। প্রথমে অয়েস্টার মাশরুম হালকা ভেজে নিতে হয়। এরপর কড়াইয়ে রসুন, পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম ভেজে সয়া সস, টমেটো সস ও চিলি সস মেশাতে হয়। তারপর কর্নফ্লাওয়ার গোলানো পানি দিয়ে গ্রেভি ঘন করে ভাজা মাশরুম মিশিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নামিয়ে নিতে হয়।

মাশরুম স্যুপ
মাশরুম স্যুপের জন্য বাটন মাশরুম বা শিটাকে মাশরুম দুটোই ভালো। শিটাকে মাশরুম স্যুপে গাঢ় ও উমামি স্বাদ আনে, আর বাটন মাশরুম হালকা স্বাদ বজায় রাখে। প্রথমে মাশরুম ও পেঁয়াজ বাটারে ভেজে নিতে হয়। এরপর দুধ বা স্টক দিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হয়। চাইলে ব্লেন্ড করে মসৃণ করা যায়। শেষে গোলমরিচ ছিটিয়ে গরম গরম পরিবেশন করলে সুস্বাদু স্যুপ তৈরি হয়।

পাকা আমের স্বাদে ঠাণ্ডা হোক গ্রীষ্ম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি

অনলাইন ডেস্ক
পাকা আমের স্বাদে ঠাণ্ডা হোক গ্রীষ্ম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গ্রীষ্মকাল মানেই আমের মৌসুম। বছরের এই সময়টায় বাংলাদেশের বাজার, ফলের দোকান এমনকি গ্রামের উঠানও ভরে ওঠে নানা জাতের আমে। গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, বারি আম—প্রতিটি জাতের আমের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও আমকে বলা হয় ফলের রাজা।

প্রখর গরমে এক টুকরো ঠাণ্ডা আম কিংবা আম দিয়ে তৈরি কোনো পানীয় মুহূর্তেই এনে দিতে পারে প্রশান্তি। একই সঙ্গে শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও শক্তি। তাই আমের মৌসুমে শুধু আম কেটে খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এটি দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে নানা ধরনের সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার।

কেন খাবেন আম?
পাকা আমে প্রধানত ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স (যেমন : ভিটামিন বি-৬ ও ফোলেট) থাকে। এ ছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন (যা শরীরে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়) এবং ভিটামিন ‘ই’, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের শরীরের জন্য উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ পাওয়া যায়। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আমে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত আম খেলে মৌসুমি নানা রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

চোখের জন্য উপকারী

ভিটামিন এ ও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় আম চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

হজমে সাহায্য করে

আমে থাকা ফাইবার ও হজমে সহায়ক এনজাইম খাবার দ্রুত পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

শরীরে পানির ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে

গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। আম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পানীয় শরীরে তরল ও শক্তির ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে।


আমের কিছু সহজ রেসিপি: 


ম্যাঙ্গো স্মুদি/ মিল্কশেক

উপকরণ

১ কাপ পাকা আমের টুকরা
আধা কাপ গুঁড়া দুধ
১ কাপ ঠাণ্ডা দুধ
১ টেবিল চামচ মধু
ঠাণ্ডা পানি
কয়েকটি বরফ কুচি

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে মিহি করে ব্লেন্ড করুন। ঠাণ্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন। গরমে ক্লান্ত শরীরে এটি দ্রুত শক্তি ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে।


আমের লাচ্ছি

উপকরণ

১ কাপ দই
আধা কাপ পাকা আম
২ টেবিল চামচ চিনি
বরফ

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। এটি একই সঙ্গে ঠাণ্ডা ও পুষ্টিকর একটি পানীয়।


কাঁচা আমের শরবত

উপকরণ

২টি কাঁচা আম
চিনি
বিট লবণ
ভাজা জিরা গুঁড়া
ঠান্ডা পানি

প্রস্তুত প্রণালি

কাঁচা আম সিদ্ধ করে শাঁস বের করে নিন। এরপর পানি, স্বাদমতো চিনি, ভাজা জিরা গুঁড়া ও বিট লবণ মিশিয়ে শরবত তৈরি করুন। প্রচণ্ড গরমে এই পানীয় শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করতে সাহায্য করে।


আমের আইসক্রিম

উপকরণ

২ কাপ আমের পাল্প
১ কাপ ফ্রেশ ক্রিম
আধা কাপ কনডেন্সড মিল্ক

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ মিশিয়ে ফ্রিজে ৬-৮ ঘণ্টা রেখে দিন। বাড়িতেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু আমের আইসক্রিম।

ম্যাঙ্গো ফ্রুট সালাদ

উপকরণ

আম
তরমুজ
পেঁপে
আঙুর
ডালিম
চাট মসলা
বিট লবণ

প্রস্তুত প্রণালি

সব ফল ছোট ছোট টুকরা করে কেটে চাট মসলা ও বিট লবণের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করুন। গরমের দিনে এটি হালকা ও সতেজ একটি খাবার।

আমের ক্ষীর

উপকরণ

১ লিটার দুধ
২ টেবিল চামচ পোলাও এর চাল গুঁড়া
১ কাপ আমের পাল্প
চিনি
এলাচ
বিভিন্ন বাদাম কুচি

প্রস্তুত প্রণালি

পোলাও এর চাল গুঁড়া, চিনি ও দুধ মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। ঠান্ডা হলে আমের পাল্প মিশিয়ে ও বাদাম কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। 


ম্যাঙ্গো চিয়া পুডিং

উপকরণ

৩ টেবিল চামচ চিয়া সিড
১ কাপ দুধ
আধা কাপ আমের পিউরি

প্রস্তুত প্রণালি

চিয়া সিড ও দুধ মিশিয়ে রাতে ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখুন। সকালে আমের পিউরি মিশিয়ে পরিবেশন করুন।


আমের দই

উপকরণ

১ কাপ পানি ঝড়ানো টক দই
আধা কাপ গুঁড়া দুধ
আধা কাপ পানি ছাড়া আমের পিউরি
সামান্য মধু

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ মসৃণভাবে মিশিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।


ম্যাঙ্গো কুলার

উপকরণ

১ কাপ আমের রস
সোডা ওয়াটার
লেবুর রস
পুদিনা পাতা
বরফ

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করুন। গরমে এটি মুহূর্তেই এনে দিতে পারে সতেজ অনুভূতি।


আমের ফালুদা

উপকরণ

সেদ্ধ নুডলস
দুধ
আমের কুচি
তোকমা
আইসক্রিম
ম্যাঙ্গো জেলি 

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ স্তরে স্তরে সাজিয়ে ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন।


আম খাওয়ার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

খুব বেশি মিষ্টি আম একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত আম খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। আম খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। কেটে রাখা আম বেশিক্ষণ কক্ষতাপমাত্রায় রাখা যাবে না। এয়ার টাইট বাক্সে ফ্রিজে রাখতে হবে। 

বাংলাদেশের গ্রীষ্ম মানেই আমের উৎসব। এই মৌসুমে পাকা কিংবা কাঁচা আম শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরকেও দেয় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। আম দিয়ে তৈরি এক গ্লাস ঠাণ্ডা শরবত, এক বাটি ফ্রুট সালাদ কিংবা ঘরে তৈরি আইসক্রিম গরমের ক্লান্তি দূর করে এনে দিতে পারে অনন্য প্রশান্তি। তাই আমের মৌসুমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে আম রাখুন, আর উপভোগ করুন স্বাদ, পুষ্টি ও সতেজতার অনন্য সমন্বয়।

গরমে চুলের যত্ন | কালের কণ্ঠ