• ই-পেপার

করোনাকালে এই স্বপ্নগুলো দেখছেন বেশিরভাগ লোক...

যে ৫ অভ্যাস নীরবে আপনার মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
যে ৫ অভ্যাস নীরবে আপনার মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে
প্রতীকী ছবি

মানুষ নিজের মানসিক শান্তি পেতে বিভিন্ন কাজ কাজ করে। এমনকি অনেকে জীবনযাপনে পরিবর্তন নিয়ে আসে। তবে আমরা অনেকেই জানিনা এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে, যা নীববে আমাদের মানসিল শান্তি দূর করে দেয়।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এ প্রসঙ্গ কথা বলেছেন তারা এমন কিছু অভ্যাস বা আসক্তির বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা অনেকেই নজর দেন না।  

আধ্যাত্মিক দর্শনের বিভিন্ন ধারায় বলা হয়, মানুষের অনেক কষ্টের মূলেই রয়েছে অতিরিক্ত আসক্তি। এর অর্থ এই নয় যে লক্ষ্য, সম্পর্ক বা স্বপ্নকে গুরুত্ব দেয়া যাবে না। বরং বোঝার চেষ্টা করতে হবে কোন মুহূর্তে কোনো কিছু ধরে রাখার চেষ্টা আপনার মানসিক শান্তিকে কেড়ে নিচ্ছে। নিচে এমন পাঁচ ধরনের অভ্যাস দেয়া হলো যা অজান্তেই আপনার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এগুলো হলো-  

  • নির্দিষ্ট ফলাফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি

পরিকল্পনা করা এবং ভালো ফলের আশা করা স্বাভাবিক। কিন্তু সুখ যদি একমাত্র নির্দিষ্ট কোনো ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, তাহলে বাস্তবতা ভিন্ন হলে হতাশা আরও তীব্র হয়। জীবন সব সময় পরিকল্পনামাফিক হয় না। অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পথই নতুন সুযোগ, অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এনে দেয়।

  • অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকা

জীবন সবসময় একরকম যায় না। তবে অনেকেই আগের সুন্দর স্মৃতি ধরে বসে  থাকেন। আবার অনেকে অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবেন। বারবার অতীতের ভুল, আফসোস বা বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলো নিয়ে ভাবতে থাকলে বর্তমানকে উপভোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতীতকে ছেড়ে দেয়া মানে তা ভুলে যাওয়া নয়  বরং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কিছু শিখে এগিয়ে যেতে হবে।

  • অন্যের মতামতের ওপর নির্ভর করা

মানুষের স্বীকৃতি পাওয়ার ইচ্ছা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজের আত্মসম্মান যদি পুরোপুরি অন্যের প্রশংসা বা গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে তাহলে ভাবতে হবে। এমন হলে আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারেন সেইসনেগ মানসিক শান্তি চলে যাবে। তাই অন্যরা আপনাকে নিয়ে কী বলছে কীভাবে দেখছে সেটা নিয়ে ভাবা যাবে না।   

  • নিজের বিষয়ে আসক্তি

অনেকেই নিজের বিষয়ে একটু বেশি ভাবেন। তারা মনে করেন তারাই সেরা কোনও কিছুতেই তারা হাড়বে না। আর এতে সামান্য ভুল বা ব্যর্থতা তা মেনে নিতে পারে না। এই বিষয়টা তাদের ভাবায় আর তারা মানসিক শান্তি হারিয়ে ফেলেন। 

  • সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা

এমন অনেকেই আছেন যারা সবসময় সব পরিস্থিতিতে সবাইকে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।  কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবনের অনেক কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়। বরং যা বদলানো সম্ভব, সেখানে মনোযোগ দেয়া এবং বাকিটুকু মেনে নেয়ার অভ্যাস মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।

আমাদের জীবন একেক সময় একেক রকম। নানান সময় নানা পরিবর্তন আসে। তাই কোনও অভ্যাস বা বিষয় নিয়ে ব এ থাকা যাবে না। সময়ের সঙ্গে যেমন নিজেকে পরিবর্তন আনতে সেই অস্নগে নিজের মানসিক শান্তির বিষয়েও সচেতন হতে হয়। তাই যদি উপরের ৫ অভ্যাস থাকে আপনার এগুলোয় পরিবর্তন আনতে পারেন। 

রান্নার আধুনিক ও সনাতন পদ্ধতি : পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে সেরা উপায় কোনটি?

অনলাইন ডেস্ক
রান্নার আধুনিক ও সনাতন পদ্ধতি : পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে সেরা উপায় কোনটি?
সংগৃহীত ছবি

চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা কাবাব―যেকোনো ধরনের সুস্বাদু ভাজাপোড়া এখন নামমাত্র তেলে তৈরি করা যায়। তাপমাত্রা ঠিক করে সময় নির্ধারণ করে সুইচ অন করলেই হয়ে যায়। এই সহজ কাজটি করে দেয় এয়ার ফ্রায়ার। এতে ভাজাপোড়া যেমন সহজ, একইভাবে খাবার পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই। খাবার নরম ও স্বাস্থ্যকর হয়।

সাম্প্রতিক এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার বেশ বেড়েছে। একই সঙ্গে এতে তৈরি করা খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়েও অনেকে ইতিবাচক কথা বলছেন। তবে এরই মধ্যে কেউ কেউ গ্যাস ওভেনে দীর্ঘকালীন রান্না ও এয়ার ফ্রায়ারে রান্না নিয়ে তুলনা করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠেছে, ওভেন নাকি এয়ার ফ্রায়ার, কোনটি ভালো?

এটি এমন একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস, এতে গরম বাতাসের প্রভাবে রান্না হয়। সরাসরি আগুনে রান্না না হলেও খেতে খারাপ না। সব ধরনের ফাস্টফুড অল্প তেলে তৈরি করা যায় এবং তা মচমচে ও ভেতরে নরম থাকে। শুধু ভাজাপোড়া নয়, সব ধরনের রান্নাই অল্প তেলে করা যায়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেন, তেলের পরিমাণ কম থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে ভাজাপোড়ার ক্যালোরি কম হয়। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এয়ার ফ্রায়ারে সবজি রান্না করলে তাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বজায় থাকে।

  • গ্যাস ওভেনে রান্না

গ্যাস ওভেনে রান্নাও বেশ প্রচলিত। মসলা দিয়ে কষিয়ে বা ভাঁপিয়ে বা ভাজা করে রান্না করা যায়। তবে এভাবে রান্না করলেই যে খাবারের গুণগত মান কিংবা পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়, তা ঠিক নয়। বরং, খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় থাকা নির্ভর করে রান্নার প্রক্রিয়া ও তাপমাত্রার ওপর। আপনি যদি সবজি ভাঁপিয়ে নিয়ে রান্না করেন, তাহলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়, আবার একই সবজি পানিতে ফুটিয়ে নিলে তা থেকে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ হ্রাস পায়। কারণ, ভিটামিন সহজেই পানিতে দ্রবীভূত হয়। ফলে তা পানিতে সেদ্ধ করলে পানির সঙ্গে পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যায়।

এ ছাড়া ব্রকোলি, পালংশাক সঠিক প্রক্রিয়ায় রান্না করা গেলে এতে বিদ্যমান ভিটামিন ই-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে গাজরের মতো সবজি রান্না করা হলে ভিটামিনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পায়।

  • রান্নার ধরন গুরুত্বপূর্ণ

গ্যাস ওভেন ও এয়ার ফ্রায়ার, দুটিতেই সঠিক প্রক্রিয়ায় রান্না করলে পুষ্টিগুণ বজায় রাখা সম্ভব। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেন, কোন পাত্রে রান্না হচ্ছে তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রান্নার ধরন। এয়ার ফ্রায়ারে স্বল্প সময়ে রান্না হয়। সময় কম লাগার কারণে কিছু ভিটামিন খাবারে যথাযথ থাকে। ছাঁকা তেলে ভাজা হলে সবজির পুষ্টি উপাদান হ্রাস পায়, যা সাধারণত এয়ার ফ্রায়ারে সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া গ্যাস ওভেনে রান্নার ক্ষেত্রে আগুনের আঁচ সমান মাত্রায় পাওয়া যায়। এ কারণে রোস্ট বা রান্না সবসময় বেশ ভালো হয়ে থাকে। যদিও এতে সময় কিছুটা বেশি লাগে। এ কারণে কিছু ভিটামিনের মাত্রা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু প্রোটিন, খনিজ, ফাইবারের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান নষ্ট হয় না। পুষ্টিগুণ প্রায় বজায় থাকে। তবে, খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় রাখার জন্য সবসময় কম আঁচে, কম তেলে ও কম সময়ে রান্না করা উত্তম। 

‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’ কী, এটি কিভাবে কাজ করে?

জীবনযাপন ডেস্ক
‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’ কী, এটি কিভাবে কাজ করে?
ছবি : রয়টার্স

বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাত্রা ও ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহারের কারণে কোটি কোটি মানুষ অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। বিছানায় শুয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা চোখের পাতায় ঘুম আসে না অনেকের। এই সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’ বা সামরিক ঘুমের পদ্ধতি। এই বিশেষ রিল্যাক্সেশন টেকনিকটি মাত্র দুই মিনিটে মানুষকে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে।

‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’ আসলে কী?
এটি মূলত শরীর ও মনকে দ্রুত শিথিল বা শান্ত করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। প্রচলিত আছে, যুদ্ধক্ষেত্রে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশ, তীব্র কোলাহল ও প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যেও সেনাদের দ্রুত বিশ্রামের জন্য এই বিশেষ পদ্ধতিটি তৈরি করা হয়েছিল। জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে, এই পদ্ধতিতে শরীরের শারীরিক ক্লান্তি ও মনের উত্তেজনা দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ফলে শরীর প্রাকৃতিকভাবেই দ্রুত ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে।

এই পদ্ধতিটি ধাপে ধাপে অনুশীলন করতে হয়:
পরিবেশ ঠিক করা: প্রথমে ঘরের আলো নিভিয়ে আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখুন এবং বিছানায় সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন।
মুখের পেশি শিথিল করা: চোখের চারপাশ, চোয়াল ও মুখের সমস্ত পেশি একদম আলগা বা শিথিল করে দিন।
কাঁধ ও হাত নামিয়ে দেওয়া: কাঁধের ওপর কোনো চাপ না রেখে তা যতটা সম্ভব নিচের দিকে নামিয়ে দিন। হাত দুটিকে শরীরের দুই পাশে আলগা করে রাখুন।
পায়ের পেশি আলগা করা: একইভাবে উরু থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রতিটি পেশি শিথিল করুন।
শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ: এবার ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। বুক হালকা করার সাথে সাথে মাথার ভেতরের সমস্ত চিন্তা বা মানসিক চাপ দূর করার চেষ্টা করুন।

মনে রাখা জরুরি
এই পদ্ধতিটি প্রথম দিনেই সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভালো ঘুমের জন্য ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে চলা জরুরি। এর জন্য ঘুমানোর অন্তত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত। তবে নিয়মিত চর্চা করলে এই মিলিটারি মেথড অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে দারুণ কার্যকর হতে পারে।

সূত্র : এই সময়

জলাবদ্ধতা, বন্যা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কোন রোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

অনলাইন ডেস্ক
জলাবদ্ধতা, বন্যা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কোন রোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে আর এতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে করে ঘরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে।

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পাশাপাশি নদীগুলোয় উজানের পানির ঢলে দেশের অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বাড়ছে নানা সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) এবং কিছু ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো পানিবাহিত রোগ নিয়ে সচেতন করেছেন।

যেসব রোগ হতে পারে

জলাবদ্ধতা বা বন্যার সময় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন প্রথমত ঝুঁকি তৈরি হয় বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ খাবার এবং স্যানিটেশনের সংকট থেকে। ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, চারদিকে অনেক পানি আছে, কিন্তু খাবার মতো পানি নেই। এটাই বন্যার সময় সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। ফলে নিরাপদ পানি ও খাবার নিশ্চিত করা না গেলে ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন খাবার ও পানিবাহিত রোগ দ্রুততম সময়ের মাঝেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডায়রিয়া মূলত পেটের একটি অসুখ। সাধারণত দূষিত পানি আর পচা খাবার থেকে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। ডায়রিয়ার কারণে খুব দ্রুত শরীর থেকে পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইট (খনিজ লবণ) বের হয়ে রোগী শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে আর এতে মৃত্যুর ঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে, ডায়রিয়ায় শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে কলেরা হলো ডায়রিয়াজনিত একটি সংক্রামক রোগ, যা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। অর্থাৎ সব ডায়রিয়া কলেরা নয়, তবে কলেরার প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র ডায়রিয়া। কলেরার জন্য দায়ী একটি বিশেষ ব্যাকটেরিয়া। কলেরার জীবাণুতে আক্রান্ত হলে শরীরে ডায়রিয়া দেখা দেয় ও রোগী ক্রমাগত বমি করতে পারে। রোগী বারবার বমি ও মলত্যাগ করতে থাকে। রোগী পানির তৃষ্ণা বেড়ে যেতে পারে। আবার দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া কিংবা হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে অনেকের। আবার অনেক রোগীর রক্তচাপও কমে যেতে দেখা যায়। আর কারও অবস্থা জটিল হয়ে গেলে কিডনি ফেইলিউর হলে, শকে চলে গেলে বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেলে মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষার দরকার হয়।

মুশতাক হোসেন বলেন, কলেরা ও ডায়রিয়া আলাদা ভাইরাসের কারণে হলেও লক্ষণ প্রায় একই। দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরে পানিশূন্যতা ঠেকানো। আর এজন্য রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব ওরস্যালাইন (ওআরএস) খাওয়ানো, পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করা এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন।

দ্বিতীয় ধরনের ঝুঁকি আসে বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে তৈরি হওয়া দুর্ঘটনা ও পরিবেশগত কারণে। এমনকি শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাপ লোকালয়ে চলে আসে, ফলে সাপের কামড়ের ঘটনাও বাড়তে পারে। এছাড়া, জলাবদ্ধতার পানিতে হাঁটার সময় কাচ, টিন বা কোনো ধারালো বস্তুর আঘাতে পায়ে ক্ষত হতে পারে আর দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বন্যার পরে যেসব রোগের ঝুঁকি থাকে 

বন্যা বা জলাবদ্ধতা না থাকলেও কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যায়। অনেক সময় কিছু রোগ এরপর দেখা দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই (জন্ডিস)। বাংলাদেশে পানি ও খাদ্যবাহিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এই টাইফয়েড। এই রোগের জটিলতায় শিশুর মস্তিষ্কে প্রদাহ, হেপাটাইটিস, পিত্তথলিতে প্রদাহ, অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, অন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হলে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ ৭৮ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন এবং এতে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের ৬৮ শতাংশই শিশু।

হেপাটাইটিস এ ও ই সংক্রান্ত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায় বন্যা বা জলাবদ্ধতা কবলিত এলাকায়। হেপাটাইটিস এ ও ই অন্যান্য হেপাটাইটিসের মত মারাত্মক নয়। তবে গর্ভবতী মায়েদের জন্য হেপাটাইটিস ই বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নিরাপদ পানির ব্যবহার। পাশাপাশি, তৈজসপত্র ধোয়া, গোসল করা এবং অন্যান্য ব্যবহারের পানিও যেন বিশুদ্ধ থাকে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।  

জলাবদ্ধতা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বসবাসের ফলে চর্মরোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়। কারণ অনেকসময় মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে তিন বা তিন দিনের বেশি সময় ধরে থাকতে হয়। আর সে খান থেকেই অনেকের মাধ্যমে চর্মরোগ ছড়িয়ে যায়। ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, চর্মরোগ যদি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে না পারেন, সেখান থেকে কিডনির সমস্যা হতে পারে। যেমন, যদি কারও স্ক্যাবিস থাকে এবং সে হাত দিয়ে ভাত খায়, তাহলে কিডনির ভেতরে সেই ইনফেকশন যায়। 

উল্লেখ্য, স্ক্যাবিস একটি প্যারাসাইটিক বা পরজীবী চর্মরোগ। যে স্থান ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটা বেশি দেখা যায়। এছাড়া, কারও ত্বকে সংক্রমণ বা ফোঁড়া থাকলেও তা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ডা. হোসেন আরও জানান আশ্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যাও বাড়তে পারে।

বন্যা বা জলাবদ্ধতায় নারী-পুরুষ যে কেউ ইউটিআই বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নারীরাই সাধারণত এতে বেশি আক্রান্ত হন। অন্যদিকে বন্যার মতো দুর্যোগের সময় মানুষের পাশাপাশি অনেক পশু-পাখিও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে।আর সেখান থেকে প্রাণিবাহিত রোগ অ্যানথ্রাক্স হতে পারে।

কারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে সমাধানের উপায় 

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারীরা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই, জ্বর, পেশিব্যথা, ডায়রিয়া বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে হবে। গর্ভবতী নারীদের, বিশেষ করে যাদের প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসলে তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিতে হবে। 

এ ছাড়া ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া, নিরাপদ টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ দেন ডা. মুশতাক হোসেন।

যাদের শরীরে কাটা বা ক্ষত রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ পানিতে থেকে কাজ করতে হয় তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সুস্থ থাকতে জলাবদ্ধতার পানি এড়িয়ে চলতে হবে। এতে নানান রোগ হয়। আর যদি পানিতে নামতেই হয় তাহলে দ্রুত  সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার হতে হবে। পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে।

করোনাকালে এই স্বপ্নগুলো দেখছেন বেশিরভাগ লোক... | কালের কণ্ঠ