বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক ও প্রযোজক বিক্রম ভাট সম্প্রতি জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের কথা প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৭০ দিন কারাগারে কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেই সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন যে এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল, হয়তো আর জীবিত ফিরে আসতে পারবেন না।
ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিক্রম জানান, ইন্দিরা আইভিএফের প্রতিষ্ঠাতা অজয় মুর্দিয়ার প্রয়াত স্ত্রী ইন্দিরা মুর্দিয়ার জীবন নিয়ে নির্মাণাধীন একটি বায়োপিককে ঘিরে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। সেই মামলায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে এবং তার স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা জামিনে মুক্তি পান।
জেলের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বিক্রম বলেন, তাকে ৬০ থেকে ৮০ জন বন্দির সঙ্গে একই ব্যারাকে থাকতে হয়েছিল। তবে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও সহবন্দিদের কাছ থেকে তিনি অপ্রত্যাশিত মানবিকতা পেয়েছেন।
তার কথায়, সহবন্দিরা তাকে পরিবারের একজন সদস্যের মতোই দেখাশোনা করতেন। খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খোঁজ নিতেন, এমনকি স্নেহ করে তাকে ‘ভীষ্ম পিতামহ’ বলেও ডাকতেন। প্রতি রাতে অনেকে তার কাছে ভৌতিক গল্প শোনার অনুরোধ করতেন।
তবে শারীরিকভাবে সেই সময় ভীষণ কষ্টের মধ্যে ছিলেন তিনি। বিক্রম জানান, তিনি ‘অ্যাক্সিয়াল স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস’ নামের একটি অটোইমিউন রোগে ভুগছেন, যার কারণে শরীরের জয়েন্ট ও পেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। জেলের মেঝেতে চাটাই পেতে ঘুমাতে হতো তাকে, আর ডিসেম্বর-জানুয়ারির তীব্র শীতে সেই যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়।
পরিচালকের দাবি, সেই সময় তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে পড়েছিলেন।
এর মধ্যেই তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হন। বিক্রমের অভিযোগ, বারবার হাসপাতালে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। রাতে প্রচণ্ড জ্বর আসত এবং শীতে তিনি কাঁপতে থাকতেন। এমন অবস্থায় সহবন্দিরাই নিজেদের কম্বল তাকে দিয়ে সহায়তা করতেন।
শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে যাওয়ার অপেক্ষা না করে তিনি নিজেই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তেল-মসলাযুক্ত খাবার বাদ দিয়ে ছোলা, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি খেয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে বিক্রম ভাট বলেন, কারাগারের অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে বদলে দিয়েছে এবং সেই সময়ই তিনি নিজেকে ঈশ্বরের আরও কাছাকাছি অনুভব করেছিলেন।




/6a255ac53429c.jpg)
