• ই-পেপার

শাহজালাল বিমানবন্দরের গেটের কাছে ময়লার স্তূপে আগুন

রবীন্দ্রসরোবরে নাচ-গান-কবিতায় বর্ষা মঙ্গল উৎসব

অনলাইন ডেস্ক
রবীন্দ্রসরোবরে নাচ-গান-কবিতায় বর্ষা মঙ্গল উৎসব
সংগৃহীত ছবি

নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে রাজধানীর ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবরের মুক্তমঞ্চে হয়ে গেল বর্ষা মঙ্গল উৎসব। বর্ষার গান, নাচ ও কবিতা নিয়ে আয়োজিত এই উৎসবে হাজির ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমী, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে এই উৎসব।

আয়োজক বর্ষা মঙ্গল পর্ষদ জানিয়েছে, বর্ষা মঙ্গল উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বর্ষাকালীন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ জীবনধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা। ভবিষ্যতে প্রতিবছর দেশব্যাপী আরো বৃহৎ পরিসরে বর্ষা উৎসব উদযাপনকে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আয়োজকরা আরো জানান, ঋতুভিত্তিক উৎসব বাংলার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় এখন পহেলা বৈশাখ ছাড়া অন্যান্য ঋতুর উৎসব অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। এই প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে জাতিকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

আয়োজকরা বিশ্বাস করেন, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই ভাবনা থেকেই বর্ষা মঙ্গল উৎসবের আয়োজন।

ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন
আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার কাছে তুলে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সহায়তা। সংগৃহীত ছবি

মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কঠিন সময় পার করছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরা। চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া এই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ইয়াসমিন আরা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের কাছে একজন অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তবে হঠাৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর তার স্বাভাবিক জীবন থমকে যায়। ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়ে।

ইয়াসমিন আরা বলেন, ‘আমার চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে। একটি ইনজেকশনের দামই ছিল এক লাখ টাকা। আমার ক্যান্সার থার্ড স্টেজে ধরা পড়েছে এবং লিম্ফ নোডেও ছড়িয়ে গেছে। এ কারণে আমাকে ওরাল কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। এই ওষুধের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘শরীরটা খুব একটা ভালো চলছিল না, তার পরও আমি ক্লাস নিতে যেতাম। স্টুডেন্টরা আমার ক্লাস খুব পছন্দ করে। আমি চাই, শরীরটা আরেকটু ফিট হলে আবার যেন কাজে ফিরতে পারি। বসে থাকতে ভালো লাগে না। শরীরটা সুস্থ হলে আমি আবার কিছু একটা করতে চাই।’

শিক্ষিকার এই সংকটের কথা জানতে পেরে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তার পাশে দাঁড়ায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি এবং আশ্বস্ত করেছি যে এবিজি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন তার পাশে রয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে আমাদের চেয়ারম্যান যেভাবে হাত বাড়িয়েছেন, সমাজের সব বিত্তবান মানুষও যেন এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন—এটাই আমাদের আহ্বান।’

এই সহায়তা ইয়াসমিন আরার জন্য শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও আশারও উৎস হয়ে উঠেছে। ক্যান্সারকে জয় করে আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ধানমণ্ডির সুধাসদনে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
ধানমণ্ডির সুধাসদনে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন সুধাসদনে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ধানমণ্ডি ৫ নম্বর সড়কের ওই ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত যুবকের নাম মো. শাকিল (২০)। তিনি মোহাম্মদপুরের ঝিগাতলার শিবপুরটালি অফিস এলাকার সেকান্দার আলী মাতুব্বরের ছেলে।

ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ওয়াদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় লোকজনের মুখে জানতে পারি, ধানমণ্ডি সুধাসদনে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।

এসআই ওয়াদুজ্জামান আরো জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষায় প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষায় প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের দাবি
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন এবং ঢাকার উন্মুক্ত সবুজ স্থান সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

তারা জানান, উন্নয়নের নামে পার্ক, জলাধার ও সবুজ এলাকা ধ্বংস করা হলে ঢাকার বাসযোগ্যতা আরো সংকুচিত হবে।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) কনফারেন্স হলে ‘পান্থকুঞ্জ পার্ক : ফাইট ফর দ্য আরবান কমন্স ইন ঢাকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি ও মতামত উঠে আসে।

আরবান স্টাডিজ ফাউন্ডেশন (ইউএসএফ) অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর আওতায় পরিচালিত ‘দ্য ফাইভ সিটি মাস্টারক্লাস সিরিজ : অর্ডিনারি ইকোলজিস অব রিপেয়ার’-এর অংশ হিসেবে ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব গ্লোবাল চেঞ্জ, বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এবং দুনিয়াদারি আর্কাইভ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসানের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব ও নাঈম উল হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তারা বলেন, পান্থকুঞ্জ এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নগরের উন্মুক্ত স্থান, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নাগরিক জীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আমিরুল রাজীব দাবি করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে প্রায় দুই হাজার গাছ অপসারণ করা হয়েছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাঈম উল হাসান উপস্থাপনায় পান্থকুঞ্জ রক্ষায় ১৬৮ দিনব্যাপী আন্দোলন, আদালতে রিট, নাগরিকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সীমাবদ্ধতা, পরিকল্পনা অনুসরণ না করা, প্রকল্প ব্যয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সম্ভাব্য প্রাণহানিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

মূল উপস্থাপনার পর অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্মুক্ত স্থানের সংকট, দূষণ এবং ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অভাব নগরবাসীর জীবনমানকে ক্রমেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, আদালত পরিবেশ সংরক্ষণের পক্ষে অবস্থান নিলেও আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিবেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর আইন প্রয়োগ জরুরি।

লেখক ও চিন্তাবিদ ফিরোজ আহমেদ বলেন, পার্ক ও জলাধার ধ্বংসের জন্য জনগণের চেয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনাই বেশি দায়ী। তাই পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসীব চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে নগরের উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য জনস্বার্থভিত্তিক আইন ও নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন।

পান্থকুঞ্জ প্রভাতী সংঘের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুদ্দিন তুহিন বলেন, উন্নয়নের নামে নাগরিকদের উন্মুক্ত স্থান ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নষ্ট করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আরবান কমন্স’ সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পরিকল্পনার অব্যবস্থাপনা দূর করে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান ব্যবস্থাপনায় কার্যকর জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।

বিআইপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, পান্থকুঞ্জে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ সমীক্ষা ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়ন, র‌্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইপির সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য বিষয়টিকে গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সামনে আনা। তিনি ঘটনাপ্রবাহ, তথ্য-উপাত্ত ও প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণের জন্য একটি যৌথ ‘এভিডেন্স বুক’ প্রণয়নের প্রস্তাব দেন এবং গবেষণা, জ্ঞান সৃষ্টি, অ্যাডভোকেসি ও বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।