• ই-পেপার

সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : মির্জা ফখরুল

খিলগাঁওয়ে ঠিকাদারের ওপর হামলা, থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
খিলগাঁওয়ে ঠিকাদারের ওপর হামলা, থানায় মামলা

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায় ইট-বালু ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার খোরশেদ আলম সোহেলকে (৪৫) মব হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তারিন আক্তার বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় রতন (৫০), খোকন (৪২), মাসুম (৩৮), কাউসার (৩৫), হাবিব (৩০) ও রাফি (২৫)সহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভবন নির্মাণ কাজে ইট-বালু ও পাথর সরবরাহের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে সোহেলের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং পরে তার পাশে পিস্তল রেখে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, রবিবার সকাল ১১টার দিকে এক অপরিচিত ব্যক্তি সোহেলকে পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকায় একটি ‘বিচারের’ কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আল-মদিনা মসজিদের পাশের পানির পাম্প এলাকার রাস্তায় পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ক্রিকেট খেলার স্টাম্প, ইট ও রড দিয়ে সোহেলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সোহেলের স্ত্রী তারিন আক্তার অভিযোগ করেন, হামলার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীদের একজন পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে সোহেল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার পাশে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রেখে হামলাকারীরা চলে যায় বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত সোহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় বর্তমানে ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, বাদীর দেওয়া অভিযোগ মামলা হিসাবে নথিভূক্ত করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ ও ঘটনার অন্যান্য বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার প্রকৃত কারণ ও অস্ত্রের উৎস খোঁজা হচ্ছে। মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রেমিকাকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা, ফটোগ্রাফারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রেমিকাকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা, ফটোগ্রাফারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নামিম আশরাফ মনি। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর আদাবরে এক মেকআপ আর্টিস্টকে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তার প্রেমিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামানের আদালতে মামলাটি করেন নিহত নারীর বড় বোন রাজিয়া সুলতানা।

মামলার প্রধান আসামি নামিম আশরাফ মনি (পেশায় ফটোগ্রাফার)। অপর দুই আসামি হলেন তার বাবা আশরাফউদ্দিন ও মা শাহনাজ বেগম।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান।

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী সাদিয়া ইয়াসফিয়া পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি শুটিংয়ের কাজে ফটোগ্রাফার নামিম আশরাফের সঙ্গে তার পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে নামিম বিয়ের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও মনোমালিন্য চলছিল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ জুন আসামি নামিম ভুক্তভোগীকে আদাবরের শেখেরটেকে তার নিজের স্টুডিওতে ডেকে নেন। সেখানে তাকে আটকে রেখে পরিবারকে বান্ধবীর বাসায় আছেন বলতে বাধ্য করা হয়। এরপর ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত স্টুডিওতে অনবরত ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

ঘটনার পর আসামি নিজেকে বাঁচাতে এটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানা গেছে।

বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া শিশু আনসারদের সহায়তায় উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া শিশু আনসারদের সহায়তায় উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিং এলাকা থেকে তাকে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে যথাযথ পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে অভিভাবকের নিকট নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিং এলাকা থেকে ইতালিপ্রবাসী মোহাম্মদ আজিজুল ইসলামের ৬ বছর বয়সী ছেলে মো. আব্দুল্লাহ মাতব্বরকে কাঁদতে দেখেন আনসার সদস্য মো. মিজানুর রহমান। শিশুটির নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিজের হেফাজতে নেন।

পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশুটির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিংয়ের মাধ্যমে শিশুটির স্বজনদের সন্ধান করা হয়।

এক পর্যায়ে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকা থেকে শিশুটির মামা মো. সুমন মাতব্বরকে শনাক্ত করা হয়। পরে শিশুটিকে ডিএসও অফিসে নিয়ে গিয়ে যথাযথ পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তার মামার নিকট নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়।

শিশুটিকে ফিরে পেয়ে তার স্বজনরা আনসার সদস্যদের সতর্কতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও মালামাল উদ্ধার, জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের সহায়তায় পেশাদারি, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

অনলাইন ডেস্ক
তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। আজ সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনা করে শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই এক স্মারক চিঠিতে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ওই চিঠিতে তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে।

শর্তগুলো হলো :

১. ‘দ্য মেডিক্যা ল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশনস) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর নির্দেশনা প্রতিপালন অব্যাহত রাখতে হবে;

২. লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ডিউটি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে;

৩. লাইসেন্সের শর্তাবলি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল লাইন্সেস ফিরে পেল।’

চিকিৎসায় অবহেলায় গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ড-২-এ ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তদন্ত প্রতিবেদনে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত (বাতিল) করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পরে পুনরায় লাইসেন্স চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেয় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ হাসপাতালটি আবার তাদের চিকিৎসা সেবাদানের ক্ষমতা ফিরে পেল।

সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : মির্জা ফখরুল | কালের কণ্ঠ