রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় খোরশেদ আলম সোহেল (৪৫) নামের এক ঠিকাদার গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তার কাছ থেকে গুলি ভর্তি একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি চাকু উদ্ধার করে বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, খিলগাঁও পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ আলম সোহেল পেশায় একজন ইট-বালু সরবরাহকারী ঠিকাদার। তার বাবার নাম আব্দুল আজিজ।
ঘটনাস্থল থেকে সোহেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন খিলগাঁও থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. ইমরান শেখ।
তিনি বলেন, ‘নন্দীপাড়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক যুবককে স্থানীয় লোকজন আটকে রেখে গণধোলাই দিচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ সোহেলকে ঘিরে রেখেছেন এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।’
এএসআই ইমরান শেখ আরো বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের দাবি, সোহেলের কাছ থেকে গুলি ভর্তি একটি দেশীয় পিস্তল ও চাকু পাওয়া গেছে। সেগুলো আমাদের অপর এক কর্মকর্তা জব্দ করেছেন। আহত অবস্থায় সোহেলকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
তবে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার চেষ্টা বলে দাবি করেছেন খোরশেদ আলম সোহেলের স্ত্রী তারিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় খোকন, কাওছার, মাসুম ও তাদের বাবার সঙ্গে সোহেলের দীর্ঘদিন ধরে ব্যাবসায়িক বিরোধ চলছিল। তারা আগেও হুমকি দিয়েছেন।
তারিন দাবি করেন, আজ খোকনদের পরিবার পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে ডেকে নিয়ে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে তার কাছে অস্ত্র সাজিয়ে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
খিলগাঁও থানা-পুলিশ জানিয়েছে, আহত খোরশেদ আলম সোহেল বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্ত শেষে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।