• ই-পেপার

রাজধানীতে পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় উদ্যানের ভেতরে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে এলাকা পরিষ্কার করা হয়।

অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।

রাজধানীতে ব্যবসায়ীকে গণপিটুনি, পিস্তল-চাকুসহ পুলিশে সোপর্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে ব্যবসায়ীকে গণপিটুনি, পিস্তল-চাকুসহ পুলিশে সোপর্দ
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় খোরশেদ আলম সোহেল (৪৫) নামের এক ঠিকাদার গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তার কাছ থেকে গুলি ভর্তি একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি চাকু উদ্ধার করে বলে দাবি করা হয়েছে।

জানা গেছে, খিলগাঁও পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ আলম সোহেল পেশায় একজন ইট-বালু সরবরাহকারী ঠিকাদার। তার বাবার নাম আব্দুল আজিজ।

ঘটনাস্থল থেকে সোহেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন খিলগাঁও থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. ইমরান শেখ।

তিনি বলেন, ‘নন্দীপাড়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক যুবককে স্থানীয় লোকজন আটকে রেখে গণধোলাই দিচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ সোহেলকে ঘিরে রেখেছেন এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।’

এএসআই ইমরান শেখ আরো বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের দাবি, সোহেলের কাছ থেকে গুলি ভর্তি একটি দেশীয় পিস্তল ও চাকু পাওয়া গেছে। সেগুলো আমাদের অপর এক কর্মকর্তা জব্দ করেছেন। আহত অবস্থায় সোহেলকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

তবে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার চেষ্টা বলে দাবি করেছেন খোরশেদ আলম সোহেলের স্ত্রী তারিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় খোকন, কাওছার, মাসুম ও তাদের বাবার সঙ্গে সোহেলের দীর্ঘদিন ধরে ব্যাবসায়িক বিরোধ চলছিল। তারা আগেও হুমকি দিয়েছেন।

তারিন দাবি করেন, আজ খোকনদের পরিবার পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে ডেকে নিয়ে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে তার কাছে অস্ত্র সাজিয়ে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

খিলগাঁও থানা-পুলিশ জানিয়েছে, আহত খোরশেদ আলম সোহেল বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্ত শেষে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

শেওড়াপাড়ায় বাসের ধাক্কায় রাইড শেয়ার চালকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেওড়াপাড়ায় বাসের ধাক্কায় রাইড শেয়ার চালকের মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানাধীন শেওড়াপাড়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় সবুজ রহমান (৩০) নামের এক মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার চালক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সবুজ নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার নাটাবাড়ী গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সবুজকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী সজিব খান জানান, রাতে তিনি অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে শেওড়াপাড়ায় নেমে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। সে সময় তিনি দেখতে পান স্থানীয় লোকজনের একটি জটলা। কাছে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত এক ব্যক্তিকে সিএনজিতে তুলে রাখা হয়েছে।

সজিব জানান, সবুজ মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ করতেন। শেওড়াপাড়া রোড দিয়ে যাওয়ার সময় ‘হিমালয় পরিবহন’-এর একটি বাস তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে বাসের চাকা তার হাতের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং মাথায় থাকা হেলমেটটি ভেঙে যায়। তবে এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা যাত্রী তেমন কোনো আঘাত পাননি।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শেরেবাংলানগর থানাকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে এবং এর চালক ও হেলপারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণ, নিভে গেল দগ্ধ ফাহিমারও জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণ, নিভে গেল দগ্ধ ফাহিমারও জীবন
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ভাটারায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ ফাহিমা আক্তার (২১) নামের আরো একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ একই পরিবারের তিনজনেরই মৃত্যু হলো।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, ফাহিমার শ্বাসনালিসহ শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে মৃত্যু হয়।

এর আগে একই দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে মারা যান ফাহিমার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহীন (২৫) এবং তার আট বছর বয়সী ভাগনি হাফসা আক্তার।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে ভাটারা থানার নতুন বাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাড়ির নিচতলায় গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা একই পরিবারের তিনজনই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

নিহত আনোয়ারের বড় ভাই সোহেল জানান, তাদের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায়। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আনোয়ার ছিলেন সবার ছোট। তিনি একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। ছয় মাস আগে ফাহিমাকে বিয়ে করে ভাটারার ওই বাসায় ভাড়া থাকতে শুরু করেন। দুর্ঘটনার কিছুদিন আগেই তাদের ভাগনি হাফসা বেড়াতে এসেছিল।