• ই-পেপার

বায়ুদূষণ রোধে ডিএনসিসি মেয়রের পাঁচ ঘোষণা

আনসারের সতর্কতায় শাহাজালাল বিমানবন্দরে মোবাইলসহ চোর আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আনসারের সতর্কতায় শাহাজালাল বিমানবন্দরে মোবাইলসহ চোর আটক
প্রতীকী ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও পেশাদারিত্বে এক মোবাইল ফোন চোরকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এসময় চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার সদস্যদের সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে ওই চোরকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম মো. মাসুম হাওলাদার। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী গ্রামে। ভুক্তভোগী সহযাত্রীর নাম মো. নাছির উদ্দীন। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ‘বি’ শিফটের দায়িত্ব পালনকালে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তঃড্রাইভওয়েতে এক চোর একজন সহযাত্রীর মোবাইল ফোন সুকৌশলে চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে সেখানে দায়িত্ব পালনরত ইনচার্জ পিসি মো. দুলন মিয়া ও এপিসি মো. ইউনুস আলী তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন।

পরে শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিন ও এভসেক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে তার কাছ থেকে উদ্ধার মোবাইল ফোনসহ তাকে বিমানবন্দরে কর্মরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ ধরনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অপরাধ দমনের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জনসাধারণের আস্থা আরো সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভাড়া আত্মসাৎ ও জবরদখলের অভিযোগ : ৭১ লাখ টাকার মামলায় আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাড়া আত্মসাৎ ও জবরদখলের অভিযোগ : ৭১ লাখ টাকার মামলায় আসামি গ্রেপ্তার
মুহাম্মদ মাসুদ চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা আর্থিক প্রতারণা, জোর করে দোকান দখল করে রাখা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে মুহাম্মদ মাসুদ চৌধুরী (৪৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।

আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ভাটারা থানাধীন নর্দা এলাকার সৌদি মসজিদ রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা যায়, ভাটারা থানাধীন নর্দা এলাকা জমি ভাড়ার শর্ত ভঙ্গ, ভাড়া না দেওয়া ও বেআইনিভাবে দোকান তৈরি করে তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফাহমিদা হক (৫৮) নামের এক ভুক্তভোগী মামলা করেন। অবশেষে গত সোমবার শুনানি হলে আসামি উপস্থিত না হওয়ায় ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত।

ভাটারা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আদালতের জারি করা অতি সম্প্রতি ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এখন আদালতে পাঠানো হবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফাহমিদা হক বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সি.আর. মামলা নং-২৭৯২/২০২৬ দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা) এবং ৫০৬ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভাটারা থানাধীন নর্দা এলাকার প্রগতি সরণির ক-৬১/৪/১ নম্বর স্থানে প্রায় ২ হাজার ১৬০ বর্গফুট জমি ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ১০ বছরের জন্য ভাড়ার চুক্তিতে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জমির মালিক ফজিলাতুন নেছা ২০১৯ সালে মারা যাওয়ার পর তার ওয়ারিশদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি না করেই আসামি ওই জমিতে লোহার কাঠামোর তিনতলা অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতে থাকেন।

বাদীপক্ষের দাবি, শুরু থেকেই ভাড়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়নি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জায়গাটি খালি না করে জবরদখলে রেখে ভাড়া আদায় অব্যাহত রাখা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে অনিয়মিত বকেয়া ভাড়া এবং ২০২২ সালের পর থেকে সম্পূর্ণ ভাড়া বকেয়া মিলিয়ে আসামির কাছে মোট প্রায় ৭১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। ওই অর্থ বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়েছে, গত ২৫ মার্চ বাদীপক্ষ আসামিকে পাওনা পরিশোধ এবং জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করে। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন সাড়ে ৪টার দিকে বাদী ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭১ লাখ টাকা দাবি করলে আসামি তা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান এবং পুনরায় টাকা দাবি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় বাদীপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালত অভিযোগ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বাদী ফাহমিদা হক বলেন, ২০২২ সালের পূর্বে অনিয়মিত ভাড়া বাবদ পাওনা প্রায় ১৮ লাখ টাকা এবং ২০২২ সাল থেকে গত ২৬ জুন পর্যন্ত (চুক্তি অনুযায়ী) প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা করে ৫৪ মাসে ৫৪ লাখ টাকা। আসামির দেওয়া জামানত ১ লাখ টাকা বাদ দিলে মোট পাওনা ৭১ লাখ টাকা পাওনা। মাসুদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমরা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আদালতের মাধ্যমে আমাদের সব পাওনা টাকা ফেরত চাই।

এর আগে ভাটারা থানার মাদকসংক্রান্ত আইনের মামলায়ও মাসুদ ১৫ দিন কারাভোগ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭২০ গ্রাম সোনাসহ যাত্রী আটক

অনলাইন ডেস্ক
শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭২০ গ্রাম সোনাসহ যাত্রী আটক
সংগৃহীত ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ৭২০ গ্রাম সোনাসহ এক যাত্রীকে আটক করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে তাকে আটক করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে, বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট দুবাই হয়ে চট্টগ্রাম আসবে। সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের এক যাত্রী দুবাইয়ের যাত্রীর কাছ থেকে সোনা নিয়ে ঢাকায় অবতরণের পর ডমেস্টিক টার্মিনাল দিয়ে বের হবেন।

এ খবরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলে এক পর্যায়ে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন নামের যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার কাছে থাকা বিশেষ কায়দায় লুকানো গুঁড়া করা ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

বাসস
মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের
ছবি : পিআইডি

মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সংস্কৃতিই মানব সভ্যতার ভিত্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যতম মেধাবী। তবে মেধার পাশাপাশি মানবিক মন নিয়েই একজন চিকিৎসক অসুস্থ মানুষের সেবার মাধ্যমে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা অর্জন করেন। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এবং সংকটময় সময়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ০.৮৩ এবং একজন চিকিৎসককে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীর সেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এ সংকট আরো প্রকট। এ ছাড়া দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত থাকলেও প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন গ্রামে। নার্সের সংখ্যাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের তুলনায় অনেক কম।

তিনি বলেন, সরকারি চিকিৎসকদের অনুপাতও অত্যন্ত কম হওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় এখনও দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে। শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীরা দেশসেবার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এলে ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।

ডা. জুবাইদা রহমান আরো বলেন, এমন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে চিকিৎসার অভাবে কোনো গ্রামবাসী প্রাণ হারাবে না, কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা কিংবা নবজাতক প্রতিরোধযোগ্য কারণে মৃত্যুবরণ করবে না। তিনি বলেন, সবার স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের এগিয়ে আসতে হবে।

বায়ুদূষণ রোধে ডিএনসিসি মেয়রের পাঁচ ঘোষণা | কালের কণ্ঠ