রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে আরো নতুন কৌশলে মাদক কারবার চলছে। সেই সঙ্গে এতে যুক্ত হয়েছে আরো কিছু নতুন মুখ। তারা সবাই পর্দার আড়ালে থেকে মাদক কারবারে সম্পৃক্ত রয়েছে। নতুন শীর্ষ মাদক কারবারিরা হলো- শান্ত, ইরফান, নেটা সামির ও উল্টা সালাম।
এরা প্রতিদিন বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত ইয়াবা, হেরোইনসহ সব ধরনের মাদক কারবার করে। তাদের প্রত্যেকের মাদকের টাকায় রয়েছে বিলাশি জীবন। শনিবার রাতে ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানায় এ তথ্য।
পুলিশ বলছে, ক্যাম্পের মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা প্রতিদিন নজরদারির পাশাপাশি অভিযানও চালান।
তবে সরেজমিনে জানা গেছে, এখনো সেখানকার প্রতিটি সড়ক, গলি চিহ্নিত মাদক কারবারিদের দখলে থাকে। শীর্ষ মাদক গডফাদার উল্টা সালাম, গাল কাটা মনু, শাহ আলম, নেটা সামির ও ইমতিয়াজসহ একাধিক গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে। তাদের শতাধিক সহযোগী এখনো অনেকটা প্রকাশ্যে ইয়াবা, হেরোইন, গাজা, আইস, সিসাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে।
ক্যাম্পের চার পাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল থাকলেও রহস্যজনক কারণে এসব মাদক কারবারিদের ধরা হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কেউ তাদের মাদক কারবারের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকি। গতকালও কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে তারা মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেনেভা ক্যাম্পের একাধিক ব্যক্তি জানায়, ক্যাম্পের ভেতরে প্রতিদিন বিকাল থেকে রাতভর গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে প্রকাশে্য মাদক কারবার চলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাদক গডফাদার উল্টা সালাম, ইমতিয়াজ, নেটা সামির, শাহ আলম ও গালকাটা মনুর প্রভাব রয়েছে ক্যাম্পের ভেতরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে ৫ আগস্ট পরবর্তী দফায় দফায় অভিযানের পরও জেনেভা ক্যাম্পের
মাদক কারবার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের মাদক গডফাদারদের মধ্যে অনেকেই এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে। বর্তমানে যারা গ্রেপ্তার হয়নি তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক গডফাদাররা আধিপত্য ধরে রাখতে ক্যাম্পে তাদের সহযোগীদের দিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। এর জেরে প্রাণ যাচ্ছে এলাকার নিরীহ মানুষের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এক আতঙ্কের জনপদ। শুধু মাদক কারবারই নয়, প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এ এলাকায়। এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হয় এতে কিছুদিনের জন্য স্বস্তি ফিরলেও ফের একই পরিস্থিতি রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানাধীন আটকেপড়া পাকিস্তানিদের আবাসস্থল জেনেভা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে জানিয়ে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সেখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্রেতা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে মাদক কারবার বারতেই থাকবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই তত্পরতা বৃদ্ধি পায়।
পুলিশ ও ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়, এর আগে মাদক অপরাধীদের হাতে খুন হয় শাহ আলম নামের এক নিরপরাধ তরুণ। তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গত এক বছরে একই কারণে এই মাদক কারবারিরা আরো পাঁচজন খুন করে। তাদের চাপাতির কোপে ও গুলিতে আহত হয় অর্ধশতাধিক লোক। এর মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
পুলিশ বলছে, ক্যাম্পের অন্তত ৮০ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এখন মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। শিশু ও কিশোরদের পাশাপাশি নারীদেরও ব্যবহার করে তারা ক্যাম্পে মাদক কারবার করছে।




