লক্ষ্মীপুর পৌরসভার একটি সড়কের সংস্কার কাজে খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ (পুরনো সড়ক বা ভবনের ভাঙা টুকরো) দিয়ে মেকাডম (চূর্ণ পাথরের স্তর) প্রস্তুত করার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিন নির্মীয়মাণ সড়কে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন। একইসঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী খোয়া ব্যবহারেরও নির্দেশ দেন তিনি।
ঘটনাটি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক ও চৌধুরী বাড়ি কানেক্টিং সড়ক সংস্কারের কাজ নিয়ে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাত কোটি ৩৪ লাখ টাকার কাজটি করাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস মোস্তফা অ্যান্ড সন্স।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ চলমান থাকলেও চৌধুরী বাড়ি সড়কে ড্রেন হচ্ছে না। অথচ সড়ক সংস্কারের চেয়ে ড্রেন বেশি জরুরি। তাদের আশঙ্কা, সড়কটির নির্মাণকাজ শেষে দুই পাশের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতায় আটকা পড়বে। এ ছাড়া সড়কের কাজও নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে না। ১২ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ১০-৯ ফুটে নেমে গেছে।
স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, সড়কটির কাজে খোয়া একেবারেই কম, বালুর পরিমাণ বেশি। রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
সড়ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান ও মমিনসহ কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশ থেকে মাটি এনে খোয়ার সঙ্গে মেশানো হয়েছে। পুরো সড়কে খোয়ার চেয়ে ‘রাবিশ’ বেশি। রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে না। শুরু থেকেই পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো তদারকি ছিল না। এজন্যই ঠিকাদার অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে।
এ ছাড়া ডিবি রোডেও ঠিকাদার একইভাবে অনিয়ম করে কাজ করেছেন। ড্রেন নির্মাণ কাজেও অনিয়ম করেছেন ঠিকাদার। পৌর কর্তৃপক্ষ তদারকি করলেও ঠিকাদার অনিয়মের সুযোগ পেত না।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদার ফিরোজ আলম বলেন, ‘সাব বেইজ আগে করেছি। সেখানে খোয়ার পরিমাণ কি তা আমার জানা নেই। কাজে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। মানুষের বাসাবাড়ি বা দেওয়াল ভাঙা আমাদের কাজ নয়। সড়ক চওড়া করার উদ্দেশ্যে জনগণকে বলেন দেওয়াল ভেঙে দিতে, আমি শ্রমিক দেব।’
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে। কাজ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও ঠিকাদার কথা শোনেননি।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, ঘটনাস্থল গিয়ে কাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।