• ই-পেপার

ময়লার স্তূপ থেকে ফুলের বাগান, বদলে গেছে টঙ্গীর বিআরটি স্টেশন

গাইবান্ধা

এনসিপি নেতার বক্তব্যে জয় বাংলা, পরে বললেন—‘সরি, সরি’

অনলাইন ডেস্ক
এনসিপি নেতার বক্তব্যে জয় বাংলা, পরে বললেন—‘সরি, সরি’

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পথ সভায় বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ বলেছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও দলের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম। পরে চারদিকে গুঞ্জন শুনে তিনি দ্রুত ‘সরি, সরি’ বলে আরো কিছু কথা বলে বক্তব্য শেষ করেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের শহীদ মিনার চত্বরে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

৫৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে শফিজল ইসলাম বলেন, ‘আমি সাদুল্লাপুর উপজেলায় জামালপুর ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন মানুষের পাড়া–মহল্লায় গিয়ে কথা বলতাছি। অত্যন্ত সাড়া পাচ্ছি। ইনশা আল্লাহ আপনারা যদি সহযোগিতা করেন, আশা করি আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। এখান থেকে হাফ কিলোমিটার দূরে জামালপুর ইউনিয়ন। আপনারা সহযোগিতা করলে চেয়ারম্যান পদে কেউ আমাকে ঠেকাতে পারবে না। এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, জয় বাংলা।’ এর পরপরই তিনি বলেন, ‘সরি, সরি’ এবং মঞ্চ থেকে নেমে যান।

জানা যায় , ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ ’এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় জাতীয় নাগরিক কমিটি- এনসিপির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে পদ যাত্রা ও সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার চত্বরে পথ সভার আয়োজন করা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও জেলা উপজেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা আহ্বায়কের ‘জয় বাংলা’ বলার প্রসঙ্গে জেলা আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খুদি বলেন, এলাকায় শফিজলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি আগে কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি রাজনীতিতে নবাগত এবং এই ধরণের বড় সভায় বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা  না থাকায় ভুলক্রমে অনিচ্ছাকৃতভাবে কথাটি বলে ফেলেছেন। তবে সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশও করেছেন। সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করেছেন।

৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ময়মনসিংহে ফের ট্রেন লাইনচ্যুত

অনলাইন ডেস্ক
৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ময়মনসিংহে ফের ট্রেন লাইনচ্যুত
সংগৃহীত ছবি

মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ময়মনসিংহে আবারও ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এবার জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হওয়ায় ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নতুন বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন।

তিনি বলেন, এতে ময়মনসিংহ থেকে জামালপুর পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে কাজ চলছে।

এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের আগে ট্রেনের গ্যাংকারের একটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।

এতে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস গৌরীপুর স্টেশনে এবং জারিয়া লোকাল ট্রেন শম্ভূগঞ্জে আটকে থাকে। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ওই পথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

বিশ্ব সাপ দিবস

আবাসস্থল সংকটে লোকালয়ে লাউয়াছড়ার সাপ, বাড়ছে উদ্বেগ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
আবাসস্থল সংকটে লোকালয়ে লাউয়াছড়ার সাপ, বাড়ছে উদ্বেগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ চিরহরিৎ বন মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে ক্রমাগত লোকালয়ে চলে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিশ্ব সাপ দিবসেও শ্রীমঙ্গলের পৃথক দুটি স্থান থেকে দুটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দিলে তারা সাপ দুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। বনের সাপ ঘন ঘন লোকালয়ে চলে আসার এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনের ভেতর পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই খাবারের সন্ধানে সাপগুলো প্রতিনিয়ত লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এতে যেমন গৃহপালিত হাঁস-মুরগি আক্রান্ত হচ্ছে, তেমনি মানুষের মনেও কাজ করছে চরম আতঙ্ক। বাড়ছে উদ্বেগ।

পরিবেশকর্মী, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বিগত দুই বছরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের আশপাশের গ্রামগুলো থেকে অন্তত ১০০টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার সাপের মধ্যে ৪০টি অজগর, ১৪টি পদ্ম গোখরা, ৭টি কালনাগিনি, ১০টি দাঁড়াশ, ৫টি দুধরাজ ও ৫টি শঙ্খিনীসহ বিভিন্ন বিষধর ও নির্বিষ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এসব উদ্ধার হওয়া সাপকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বন বিভাগের সহযোগিতায় পুনরায় লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ পরিবেশের পরম বন্ধু। ফসলের ক্ষতিকর ইঁদুর ও কীটপতঙ্গ খেয়ে এরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই লোকালয়ে সাপ দেখলে সেটিকে না মেরে বন বিভাগকে খবর দেওয়া এবং বনের পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।

এদিকে, মৌলভীবাজারের বনাঞ্চলে প্রায় ৫২ প্রজাতির সরীসৃপের অস্তিত্ব থাকলেও স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত নাজুক। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের অভাব এবং চিকিৎসার অপর্যাপ্ততার কারণে স্থানীয় চা-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

ফুলবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দা রফাত মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বনের পাশে আমাদের বসবাস হওয়ায় প্রতিনিয়তই বাগানে সাপ ধরা পড়ে। কিন্তু সাপে কাটলে যে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেব, সেখানে কোনো ভ্যাকসিন বা অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না।

সর্প দংশনের শিকার রোগীদের দ্রুত ও নিশ্চিত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে অ্যান্টিভেনম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

পরিবেশবাদী সংগঠন মৌলভীবাজারের নেতা নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, লাউয়াছড়া বনের ভেতর ক্রমাগত মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধি, গাছ কাটা, উচ্চ শব্দ এবং বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। বন বিভাগ দ্রুত বনের আদি পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বনের পরিবেশ রক্ষায় বন পুনরুদ্ধার, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসন সৃষ্টি এবং দেশীয় ফলদ বৃক্ষ রোপণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গলস্থ বন্যপ্রাণী সহব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, লাউয়াছড়া বনের পরিবেশ রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বনের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় মাঝে মধ্যে কিছু প্রাণী লোকালয়ে চলে যাচ্ছে। তবে খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত সেগুলো উদ্ধার করে আবার বনে অবমুক্ত করছি।

নওগাঁয় সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা, অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা, অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হাসিনা বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যান ফাতেমা বেগম। এর আগে, একটি প্রতারক চক্র তাকে অজ্ঞান করে তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার লুট করে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকার ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে মুখে মাস্ক, চোখে চশমা এবং সঙ্গে আড়াই বছরের একটি শিশু থাকা এক সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও স্থানীয় জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে নওহাটা এলাকা থেকে অভিযুক্ত হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হাসিনা বেগম স্বীকার করেছেন, তিনি সুকৌশলে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সর্বস্ব লুট করতেন।

ঘটনার দিন শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগম ও তার স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন হাসিনা। এক পর্যায়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে ফাতেমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তিনি। এরপর নিজের কাছে থাকা ফলের জুসের সঙ্গে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে খাইয়ে দেন। ফাতেমা বেগম অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যান হাসিনা।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আরো জানান, লুট করা স্বর্ণালংকারগুলো শহরের ‘জোয়ারদার জুয়েলার্স’-এর ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এ চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবি পুলিশের ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।