• ই-পেপার

নরসিংদী

নবজাতকের পা মুচড়ে পালালেন চাচি, গ্রেপ্তার চাচা-দাদা

ময়মনসিংহ

পূঁজি হারানোর ভয় চামড়া ব্যবসায়ীদের

প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবসায় মন্দা এখনও বিক্রি হয়নি সব চামড়া

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
পূঁজি হারানোর ভয় চামড়া ব্যবসায়ীদের
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে চামড়ার হাটে। ছবি: কালের কণ্ঠ

গত বছর কোরবানির ঈদে রাজকুমার ঋষির পূঁজি ছিল ৯ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা পুরোটাই বিনিয়োগ করেন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকার এই চামড়া ব্যবসায়ী। কিন্তু মৌসুম শেষে তিনি টাকা তুলতে পারেন মাত্র সাড়ে সাত লাখ। বাকিটা লোকসান। এ বছর কোরবানির ঈদে ওই টাকা বিনিয়োগ করেন চামড়ার ব্যবসায়। তবে লাভের মুখ দেখেননি এবারও।

পারিবারিকভাবে চামড়ার ব্যবসায়ী রাজকুমার জানান, চামড়ার ব্যবসার জন্য কিছু টাকা তার নির্ধারিত থাকে। এ টাকা অন্য কোনো কাজে ব্যয় বা বিনিয়োগ করেন না। তবে লাভ না হওয়ায় ক্রমে কমে আসছে পূঁজি। 

কোরবানি ঈদ শেষে হয়েছে প্রায় দেড় মাস হয়েছে। এখনো বিক্রি করতে পারেননি লাভের উদ্দেশ্যে কেনা সব পশুর  চামড়া। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও লোকসানের শঙ্কা রয়েছে। তবে শুধু রাজকুমার নয়, টানা লোকসানে পূঁজি হারানোর শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শম্ভুগঞ্জে রয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় পশুর চামড়ার হাট। রেওয়াজ অনুযায়ী কোরবানি ঈদের পর দ্বিতীয় শনিবার বসে পশুর চামড়ার বড় হাট। সেখানে  ঢাকা থেকে ট্যানারি মালিকরা ট্রাক নিয়ে যান পাইকারি দামে  চামড়া কিনতে। তবে এবার ঈদের পর একদিন ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা এলেও বিক্রি হয়নি সব চামড়া। দাম ওঠে সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেক।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) শম্ভুগঞ্জ পাইকারি পশুর চামড়ার হাটে গিয়ে কথা হয়ে স্থানীয় পাইকারদের সঙ্গে। তারা জানান, ২০০৫ সাল থেকে চামড়া ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। শেষ পাঁচ বছরে এ মন্দা আরো বেড়েছে। আর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ মন্দা চরম আকার ধারণ করেছে। এতে  স্থানীয় পাইকাররা কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। এতে অনেকেই চামড়ার ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন।

গুরুদয়াল রবিদাস জানান, তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চাড়মার ব্যবসা করে আসছেন। কয়েক বছর ধরে টানা লোকসানের পর এবারও লোকসান হয়েছে। নিজের ব্যবসা নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর লোকসান তো আছেই। তার ওপর অনেক টাকা বকেয়া পড়েছে ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে। এক ব্যবসায়ী চার বছর আগে চেক দিয়ে পাঁচ লাখ টাকার চামড়া বাকিতে কেনেন। ব্যাংকে গিয়ে ওই একাউন্টে টাকা পাওয়া  যায়নি। এখনো সেই পাঁচ লাখ টাকা বকেয়া।

শম্ভুগঞ্জ বাজারের অন্যতম ইজারাদার ও মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আসাদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের পর শনিবারের হাটে ট্যানারি মালিকরা তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেক দামে চামড়া বেচতে হয়েছে আমাদের। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসীয়া পূঁজি হারিয়ে পথে বসবে।’

শহীদ মিয়া নামের একজন পাইকার বলেন, ‘আগে শুধু রবিদাস আর ঋষি সম্প্রদায়ের লোকেরা পশুর চামড়ার ব্যবসা করতেন। ব্যবসা ভালো থাকায় গত ২০ বছর ধরে শম্ভুগঞ্জ এলাকার স্থানীয় অনেকেই চমড়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। কিন্তু শেষ পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানের কারণে এখন অনেকেই এ ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। লোকসানের কারণে অনেকেই এ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ায় দুই বছর আগে শম্ভুগঞ্জ চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি  ভেঙে গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এবার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দর ৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে পাইকাররা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ  থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা বর্গফুট দরে কিনেছেন। প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রকিয়াজাত করতে লবণ কেনা ও শ্রমিকদের পেছনে ব্যয় করতে হয় অন্তত আরো ১০ টাকা। খরচের পর এবার ঢাকার ব্যবসায়ীরা বর্গফুট সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা দরে কিনেছেন।

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া লবণ নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার বিনামূল্যে লবণ দিলেও তা  প্রকৃত ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক মাদরাসা চামড়া কিনে অথবা দান হিসেবে পেয়ে সংরক্ষণ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ (লিল্লাহ বোর্ডিং) সরকারি লবণ পায়। তারা চামড়া সংরক্ষণের সঠিক প্রক্রিয়া জানেন না। এতে চামড়ার ক্ষতি হয়।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের জেলা প্রকাশক মো. সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পশুর চামড়া জাতীয় সম্পদ। সরকারের নির্দেশনা মেনে আমরা সে সম্পদ সঠিক সংরক্ষণের সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি।’

সিরাজগঞ্জে খালে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

অনলাইন প্রতিবেদক
সিরাজগঞ্জে খালে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে খালে গোসলে নেমে আরাফাত হোসেন (১৩) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের নাড়ুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আরাফাত ওই গ্রামের নুর আলমের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, সমবয়সী কয়েকজন শিশুর সঙ্গে আরাফাত খালের পানিতে গোসল করতে নেমেছিল। একপর্যায়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধারের পর রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক নিল বোয়ালখালীর মনীশ

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক নিল বোয়ালখালীর মনীশ
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর মেধাবী শিক্ষার্থী মনীশ ক্ষেত্র চৌধুরী জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর একক অভিনয় বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক ও সম্মাননা গ্রহণ করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করে মনীশ।

এর আগে গত ১৬ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিভাগের সাতজন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে একক অভিনয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সে।
মনীশ বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা সওদাগরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থান অর্জনের পর জাতীয় পর্যায়েও সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে সে।

পুরস্কার গ্রহণের পর মনীশ বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই অর্জনের পেছনে আমার মা-বাবা ও শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজ করে দেশ ও বিদ্যালয়ের সুনাম বাড়াতে চাই।’

এ বছর দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থীদের হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হয়।

পানি নিষ্কাশন করে চট্টগ্রামবাসীকে বন্যামুক্ত করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
পানি নিষ্কাশন করে চট্টগ্রামবাসীকে বন্যামুক্ত করা হবে : ত্রাণমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দরনগরী বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, পাহাড়, নদী, সমুদ্র, সমতলসমৃদ্ধ এ নগরীর খালগুলো পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে নগরবাসীকে বন্যার দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ দেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি।

 

আসাদুল হাবিব দুলু জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সব রকম কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ।