• ই-পেপার

সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত মা

বগুড়ায় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ায় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার শিবগঞ্জে ১১ পদাতিক ডিভিশনের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টায় উপজেলার ফায়ার সার্ভিস হেলিপ্যাডে আসেন তিনি। 

হেলিপ্যাডে অবতরণের পর দুপুর দেড়টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সেনাপ্রধান শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী রথবাড়ি এলাকায় ১১ পদাতিক ডিভিশনের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শন করেন। সেনাপ্রধান প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন শেষে বেলা আড়াইটায় শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি নেন এবং সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করেন। এরপর বিকেল ৩টার পর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে শিবগঞ্জ ত্যাগ করেন তিনি।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, বুধবার দুপুরে সেনাপ্রধান এসেছিলেন। তাদের কার্যক্রম পরিদর্শন করে দুপুরের খাবার শেষে দুপুর ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসা চাপা পড়ে ৭ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এতে বহুসংখ্যক রোহিঙ্গা শিশু আটকা পড়েছে। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ও স্থানীয়রা। তবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাৎক্ষণিক দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-০৩ (ব্লক অ-০৩) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ক্যাম্পের বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবক রফিক ৭ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের কথা কালের কণ্ঠকে জানান। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৭ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বহু শিক্ষার্থী মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্প সূত্রে জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদরাসার ওপর পড়ে। সে সময় মাদরাসায় বহু শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছিল। আকস্মিক পাহাড়ধসে ভবনটি মাটিচাপা পড়ে গেলে ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ পর্যন্ত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল উদ্ধার কাজ করছে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।’ তবে ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক রফিক কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ৭ জন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের কথা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো বহু শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অটোরিকশায় গাছের ডাল পড়ে চালকের মৃত্যু

অল্পের জন্য রক্ষা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
অটোরিকশায় গাছের ডাল পড়ে চালকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের পীরগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে গাছের ডাল পড়ে অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ সড়কের টিউমারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল গফুর মিয়া (৫৫) দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভোটারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইয়াকুর আলীর ছেলে।

স্থানীয় জানায়, সকালে কয়েকজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে অটোরিকশায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুল গফুর মিয়া। পথে টিউমারী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি গাছের ডাল ভেঙে অটোরিকশার ওপর পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে অটোরিকশায় থাকা পরীক্ষার্থীরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেন।

পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) তাজুল ইসলাম বলেন, গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

৭ দিন ধরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপ

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
৭ দিন ধরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে টানা সাত দিন ধরে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। বৈরী আবহাওয়ায় সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে সন্দ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

সপ্তাহ ধরে সব ধরনের নৌযান বন্ধ থাকায় আটকে আছেন সন্দ্বীপ চ্যানেলের চট্টগ্রাম টু সন্দ্বীপ রুটের কয়েক হাজার যাত্রী এবং ফেরিঘাটে অসংখ্য পণ্যবাহী গাড়ি। ফলে জরুরি রোগী, প্রবাসী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ফেরি বন্ধ থাকায় পন্য সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্দ্বীপ চ্যানেলের কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে সীমিত পরিসরে স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল করলেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার (৫ জুলাই) সাপ্তাহিক কর্মদিবসের প্রথম দিন থাকলেও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ছুটিতে বাড়ি আসা বহু চাকরিজীবী এখনো কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি। নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন জরুরি চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে চাওয়া রোগীরা। এ ছাড়া প্রবাসগামীদের যাত্রীদের ছুটি ও ভিসার মেয়াদ নিয়ে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে কুমিরা ও গুপ্তছড়া—উভয় ঘাটে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ী। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে ঘাটে আটকে থাকায় অনেক গাড়ির কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে ফেরিঘাটে ভালো কোনো রেস্তোরাঁ, ওয়াশরুম কিংবা গোসলের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আটকে পড়া দূর-দূরান্তের গাড়িচালক ও শ্রমিকরা। তারা জানান, এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে গিয়ে তারা হাঁপিয়ে উঠেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে এবং কখন নৌযান চলাচল শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপে যাতায়াতের এই অনিশ্চয়তা কাটছে না।